Dhaka ০২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

নওগাঁয় স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় যশোর থেকে গ্রেফতার ১, মাইক্রোবাস জব্দ

খোরশেদ আলম, নওগাঁ
  • প্রকাশের সময় : ১২:৪০:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / 8

নওগাঁ শহরে স্থাপিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংযুক্ত সিসি ক্যামেরার সহায়তায় স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত একটি চক্রের সদস্যকে যশোর থেকে গ্রেফতার করেছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি কালো রঙের মাইক্রোবাসও জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেফতার ব্যক্তির নাম মো. জামাল হোসেন ফুলন। তিনি যশোরের কোতোয়ালি এলাকার বাসিন্দা এবং চক্রটির গাড়িচালক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুলাই রাত পৌনে ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের তাজের মোড়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুভাষ পালের গতিরোধ করে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি মাইক্রোবাসে করে তার কাছ থেকে আনুমানিক ১৪ ভরি স্বর্ণ ছিনিয়ে নেয়। বিষয়টি জানার পরপরই নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহনে তল্লাশি জোরদার করা হয়।

এ ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় মামলা হওয়ার পর পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসিবুল্লাহ হাসিবের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে নওগাঁ শহরে সম্প্রতি স্থাপন করা এআই সংযুক্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন সড়কের ক্যামেরার ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি ও ডাটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি শনাক্ত করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার তথ্য ও টোল প্লাজার তথ্যও বিশ্লেষণ করে পুলিশ।

পরে গত ৩ আগস্ট থেকে যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান শুরু করে নওগাঁ জেলা ডিবি পুলিশ। টানা অভিযানের একপর্যায়ে যশোর থেকে জামাল হোসেন ফুলনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে পৃথক অভিযানে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত কালো রঙের মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়।

পুলিশের দাবি, গ্রেফতার জামাল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদে চারজনের একটি চক্রের তথ্য পাওয়া গেছে। চক্রটি কালো রঙের মাইক্রোবাসে করে ঢাকা থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুভাষ পালকে অনুসরণ করছিল।

তদন্তে জানা যায়, সুভাষ পাল ঢাকা থেকে কল্যাণপুরে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে নওগাঁর উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর থেকেই ছিনতাইকারী চক্রটি একটি কালো মাইক্রোবাসে করে বাসটিকে অনুসরণ করতে থাকে। মাইক্রোবাসটি বগুড়া হয়ে নওগাঁ পর্যন্ত শ্যামলী পরিবহনের বাসটির পিছু নেয়। পরে সুভাষ পাল নওগাঁর ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে বাস থেকে নামার পর ছিনতাইকারীরা তাকে অনুসরণ করে তাজের মোড়ে যায়। সেখানে তার গতিরোধ করে হাতব্যাগে থাকা আনুমানিক ১৪ ভরি স্বর্ণ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর নওগাঁ শহরের বিভিন্ন সড়কে পুলিশের ব্যাপক তল্লাশি শুরু হলে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতার জামাল হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং ছিনতাই হওয়া স্বর্ণ উদ্ধারে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

নওগাঁয় স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় যশোর থেকে গ্রেফতার ১, মাইক্রোবাস জব্দ

প্রকাশের সময় : ১২:৪০:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

নওগাঁ শহরে স্থাপিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংযুক্ত সিসি ক্যামেরার সহায়তায় স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত একটি চক্রের সদস্যকে যশোর থেকে গ্রেফতার করেছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি কালো রঙের মাইক্রোবাসও জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেফতার ব্যক্তির নাম মো. জামাল হোসেন ফুলন। তিনি যশোরের কোতোয়ালি এলাকার বাসিন্দা এবং চক্রটির গাড়িচালক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুলাই রাত পৌনে ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের তাজের মোড়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুভাষ পালের গতিরোধ করে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি মাইক্রোবাসে করে তার কাছ থেকে আনুমানিক ১৪ ভরি স্বর্ণ ছিনিয়ে নেয়। বিষয়টি জানার পরপরই নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহনে তল্লাশি জোরদার করা হয়।

এ ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় মামলা হওয়ার পর পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসিবুল্লাহ হাসিবের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে নওগাঁ শহরে সম্প্রতি স্থাপন করা এআই সংযুক্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন সড়কের ক্যামেরার ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি ও ডাটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি শনাক্ত করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার তথ্য ও টোল প্লাজার তথ্যও বিশ্লেষণ করে পুলিশ।

পরে গত ৩ আগস্ট থেকে যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান শুরু করে নওগাঁ জেলা ডিবি পুলিশ। টানা অভিযানের একপর্যায়ে যশোর থেকে জামাল হোসেন ফুলনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে পৃথক অভিযানে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত কালো রঙের মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়।

পুলিশের দাবি, গ্রেফতার জামাল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদে চারজনের একটি চক্রের তথ্য পাওয়া গেছে। চক্রটি কালো রঙের মাইক্রোবাসে করে ঢাকা থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুভাষ পালকে অনুসরণ করছিল।

তদন্তে জানা যায়, সুভাষ পাল ঢাকা থেকে কল্যাণপুরে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে নওগাঁর উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর থেকেই ছিনতাইকারী চক্রটি একটি কালো মাইক্রোবাসে করে বাসটিকে অনুসরণ করতে থাকে। মাইক্রোবাসটি বগুড়া হয়ে নওগাঁ পর্যন্ত শ্যামলী পরিবহনের বাসটির পিছু নেয়। পরে সুভাষ পাল নওগাঁর ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে বাস থেকে নামার পর ছিনতাইকারীরা তাকে অনুসরণ করে তাজের মোড়ে যায়। সেখানে তার গতিরোধ করে হাতব্যাগে থাকা আনুমানিক ১৪ ভরি স্বর্ণ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর নওগাঁ শহরের বিভিন্ন সড়কে পুলিশের ব্যাপক তল্লাশি শুরু হলে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতার জামাল হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং ছিনতাই হওয়া স্বর্ণ উদ্ধারে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।