পায়ে হেঁটে হজের উদ্দেশ্যে মক্কার পথে নাটোরের দুলাল
- প্রকাশের সময় : ০৪:৩৮:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 9
পাসপোর্ট আছে, সঙ্গে রয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের দেওয়া নাগরিকত্ব সনদ। তবে নেই সৌদি আরবের ভিসা। তবুও অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে সঙ্গী করে পায়ে হেঁটে পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কার পথে যাত্রা শুরু করেছেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার দিনমজুর দুলাল হোসেন (৩৫)।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ৮টায় উপজেলার ২ নম্বর ডাহিয়া ইউনিয়নের তাড়াই বড়ইচড়া গ্রাম থেকে স্বজন ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তিনি দীর্ঘ এই যাত্রা শুরু করেন। তিনি ওই গ্রামের মৃত মকছেদ আলীর ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই মাস আগে গ্রামের একটি চায়ের দোকানে আড্ডার সময় পায়ে হেঁটে হজ পালনের ইচ্ছার কথা জানান দুলাল। এরপর থেকেই তিনি যাত্রার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। যাত্রাকালে তাঁর সঙ্গে ছিল পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, অল্প কিছু টাকা, শুকনো খাবার, পরিধেয় কাপড় এবং প্রতীকী হিসেবে এক টুকরো সাদা কাফনের কাপড়। রওনা হওয়ার আগে তিনি স্বজন ও এলাকাবাসীকে নিয়ে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন এবং সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে বিদায় নেন।
পেশায় ভূমিহীন দিনমজুর দুলাল হোসেন জানান, আর্থিক সংকটের কারণে সৌদি আরবের ভিসা করার মতো সামর্থ্য তাঁর ছিল না। কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি শুধু পাসপোর্ট করতে পেরেছেন।
দুলাল বলেন, টাকার অভাবে ভিসা করতে পারিনি। কিন্তু আল্লাহর ঘর জিয়ারতের প্রবল ইচ্ছা ছিল। তাই আল্লাহর ওপর ভরসা করে যাত্রা শুরু করেছি। সরকারের কাছে আমার আকুল আবেদন, আমাকে যেন একটি ভিসার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়, যাতে আমি বৈধভাবে পায়ে হেঁটে হজ পালন শেষে সুস্থভাবে দেশে ফিরতে পারি।
তবে ভিসা ও প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছাড়া এভাবে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে যাত্রা বাস্তবে নানা আইনি ও সীমান্ত-সংক্রান্ত জটিলতার মুখে পড়তে পারে। এ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে যেমন আবেগ ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনাও। একজন সাধারণ দিনমজুরের এমন সাহসী, তবে ঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগ এখন সিংড়া উপজেলায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।



















