জবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, জকসু এজিএসসহ আহত বেশ কয়েকজন
- প্রকাশের সময় : ০২:২০:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 19
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের নির্মাণ শুরু এবং চিকিৎসাসেবা উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জকসু এজিএস মাসুদ রানা, জকসু জিএস ও জবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠান চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
জকসু সূত্রে জানা যায়, ইউজিসি চেয়ারম্যানের আগমন উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন মৌলিক দাবি তুলে ধরতে জকসুর প্রতিনিধিরা শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় অডিটোরিয়ামের প্রবেশমুখে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও তার সমর্থকরা প্রক্টরিয়াল টিমের সহায়তায় তাদের বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
একপর্যায়ে জকসু প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলা এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে গেলে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসানও ধাক্কাধাক্কির শিকার হন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়।
জকসু এজিএস মাসুদ রানা অভিযোগ করে বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নিয়ে দাবি জানাচ্ছিলেন। প্রথম দফায় মেহেদী হিমেলের নেতৃত্বে ছাত্রদল হামলা চালায়। পরে ছাত্রদল মিছিল নিয়ে উপাচার্যের সামনে গিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। এতে ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি, ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া ও শিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ আহত হন। জকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য আব্দুল্লাহ ফারুকের পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া বলেন, হামলায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন। তাকে মুখ, নাক, পা ও হাতে লাথি মারা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর জকসু প্রতিনিধি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অডিটোরিয়ামের সামনে অবস্থান নিয়ে ছেঁড়া প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানান। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, আমন্ত্রণ জানানো সত্ত্বেও তাদের অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রক্টর অফিস ও ছাত্রদলের এমন ভূমিকার নিন্দা জানান তিনি।
জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ঘটনাটিকে ‘ন্যাক্কারজনক হামলা’ উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে এবং জকসু প্রতিনিধিদের ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয়েছে।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের দায়িত্বশীল নেতাদের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।





















