প্রথমবারের মতো এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরু
- প্রকাশের সময় : ১১:৫২:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
- / 15
দেশে প্রথমবারের মতো এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল ও কলেজ শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখন থেকে শূন্য পদ থাকা সাপেক্ষে একই পদে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করে পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বদলি হতে পারবেন শিক্ষকরা।
এ লক্ষ্যে সরকার চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ জারি করে। নীতিমালা অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) নির্ধারিত সময়ে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্য পদের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করবে। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ, বদলির আদেশ এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রথম নিয়োগের পর টানা দুই বছর চাকরি করলে একজন শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। বদলির পর পুনরায় আবেদন করতে হলে নতুন কর্মস্থলে কমপক্ষে দুই বছর চাকরি করতে হবে। একজন শিক্ষক চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন।
শিক্ষকরা প্রথমে নিজ জেলার শূন্য পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে একই বিভাগের অন্য জেলার শূন্য পদের জন্য আবেদন করা যাবে। বিশেষ ক্ষেত্রে দেশের যেকোনো জেলা কিংবা স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল-সংক্রান্ত জেলায়ও আবেদন করার সুযোগ থাকবে।
একটি শূন্য পদের বিপরীতে একাধিক আবেদন হলে নারী প্রার্থী, কর্মস্থলের দূরত্ব, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল এবং জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্যযুক্ত আবেদন বাতিল হবে।
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বদলি হতে পারবেন। তবে একই বিষয়ে একজনের বেশি শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন না। আবেদনকারী সর্বোচ্চ তিনটি পছন্দের প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করতে পারবেন।
বদলি কার্যক্রম পরিচালিত হবে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে। বদলি হওয়া শিক্ষকের এমপিও, আর্থিক সুবিধা ও জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকবে। তবে বদলিকে অধিকার হিসেবে দাবি করা যাবে না এবং বদলির ক্ষেত্রে টিএ-ডিএ ভাতা দেওয়া হবে না। আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে বর্তমান প্রতিষ্ঠান থেকে অবমুক্ত হতে হবে এবং পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। সাময়িক বরখাস্ত বা ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষকরা বদলির জন্য বিবেচিত হবেন না।
মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানিয়েছেন, বদলি কার্যক্রম চালুর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। টেলিটকের সফটওয়্যার প্রস্তুত হলেই আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।
এর আগে বেসরকারি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষকদের বদলির অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো এক শিক্ষককে বদলির আদেশ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ।



















