Dhaka ০৮:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
পিৎজা, বার্গার, পোড়া তেলের সমুচা খেয়ে দেশটা রোগে ভরে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ১৭ বছরে ২৯ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে: এস এম জিলানী ‘হিজবুত তাওহীদ’ নিষিদ্ধের দাবি হেফাজতে ইসলামের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট, সালাউদ্দিন তানভীরকে আরেকবার অব্যাহতি দিল এনসিপি আগস্টজুড়ে টানা বৃষ্টির আভাস, বন্যার ঝুঁকিতে একাধিক অঞ্চল চট্টগ্রাম বন্দর; ১৮ দিনে তিন জাহাজে জলদস্যুর হানা, ১০ কোটি টাকার সামগ্রী লুট কালীগঞ্জে হজ পালনকারী হাজীদের সংবর্ধনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত আপত্তিকর অবস্থায় ধরার অভিযোগে নির্যাতন, পরে আত্মহত্যার চেষ্টা ছাত্রীর শ্বাসনালিতে খাবার আটকে ঢাবি শিক্ষিকার মৃত্যু গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতার পদত্যাগ

আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবে মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক শিশু : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:৫১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 22

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আধুনিক জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে অনেক নবজাতক প্রয়োজনীয় মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক মানসিক বিকাশের জন্য উদ্বেগজনক।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর ন্যাশনাল বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান আয়োজিত বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’।

মন্ত্রী বলেন, আধুনিক জীবনধারা, কর্মব্যস্ততা এবং জন্মের পর নবজাতককে মায়ের কাছ থেকে আলাদা রাখার প্রবণতার কারণে অনেক মা শিশুকে প্রয়োজনীয় সময় মাতৃদুগ্ধ পান করাতে পারছেন না। তিনি নবজাতকের জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই শালদুধ পান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, মায়ের দুধ শিশুর সর্বোত্তম ও প্রাকৃতিক খাদ্য। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি, শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে মায়ের স্নেহ, স্পর্শ ও মাতৃদুগ্ধ শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের অন্যতম ভিত্তি।

সাম্প্রতিক হাম (মিজলস) পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অপুষ্টির কারণে অনেক শিশু সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করা গেলে শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে। তিনি অতিরিক্ত ফাস্টফুড গ্রহণ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং বাজারজাত বিকল্প শিশুখাদ্যের ওপর অতিনির্ভরশীলতা কমানোর আহ্বান জানান।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালনের মধ্যে সচেতনতা কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সারা বছর জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, বাংলাদেশে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর হার ইতিবাচক হলেও কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যগত সুফল নিশ্চিত করতে আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, নিয়মিত মাতৃদুগ্ধ পান করালে মায়েদের স্তন ও ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবার পরিকল্পনার মহাপরিচালক ডা. জিন্নাত রেহানা এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনূস আলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবে মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক শিশু : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ১১:৫১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আধুনিক জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে অনেক নবজাতক প্রয়োজনীয় মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক মানসিক বিকাশের জন্য উদ্বেগজনক।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর ন্যাশনাল বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান আয়োজিত বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’।

মন্ত্রী বলেন, আধুনিক জীবনধারা, কর্মব্যস্ততা এবং জন্মের পর নবজাতককে মায়ের কাছ থেকে আলাদা রাখার প্রবণতার কারণে অনেক মা শিশুকে প্রয়োজনীয় সময় মাতৃদুগ্ধ পান করাতে পারছেন না। তিনি নবজাতকের জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই শালদুধ পান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, মায়ের দুধ শিশুর সর্বোত্তম ও প্রাকৃতিক খাদ্য। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি, শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে মায়ের স্নেহ, স্পর্শ ও মাতৃদুগ্ধ শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের অন্যতম ভিত্তি।

সাম্প্রতিক হাম (মিজলস) পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অপুষ্টির কারণে অনেক শিশু সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করা গেলে শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে। তিনি অতিরিক্ত ফাস্টফুড গ্রহণ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং বাজারজাত বিকল্প শিশুখাদ্যের ওপর অতিনির্ভরশীলতা কমানোর আহ্বান জানান।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালনের মধ্যে সচেতনতা কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সারা বছর জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, বাংলাদেশে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর হার ইতিবাচক হলেও কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যগত সুফল নিশ্চিত করতে আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, নিয়মিত মাতৃদুগ্ধ পান করালে মায়েদের স্তন ও ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবার পরিকল্পনার মহাপরিচালক ডা. জিন্নাত রেহানা এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনূস আলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।