ফরিদপুরে সৎ মাকে হত্যার ১০ বছর পর আপন মাকেও হত্যা, পলাতক ছেলে
- প্রকাশের সময় : ০৯:১০:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
- / 15
ফরিদপুর শহরে সামেলা আক্তার নামে এক নারীকে কুপিয়ে ও মাথায় আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ছেলে রাহিম শেখের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর পৌনে ১টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বায়তুল আমান আব্দুর রহমান মোল্যা ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সামেলা আক্তার ওই এলাকার মৃত আকবর শেখের স্ত্রী।
নিহতের মেয়ে কাকলী আক্তার জানান, তার ভাই রাহিম শেখ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি প্রায়ই মায়ের কাছে টাকা দাবি করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে রাহিমকে বাড়িতে রেখে তিনি কর্মস্থলে যান। পরে খবর পান, তার ভাই মাকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাশের বাড়ির এক নারী দোতলার ছাদ থেকে সামেলা আক্তারের রক্তাক্ত মরদেহ বাড়ির উঠানে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১০ বছর আগে রাহিম শেখ তার সৎ মাকেও হত্যা করেছিলেন। ওই মামলায় কয়েক বছর কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্ত হন। এরপর থেকে তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালাতেন। তবে এ বিষয়ে আদালতের নথিপত্রের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শুকান্ত দত্ত জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে হত্যার কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত রাহিম শেখ মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং মাদকাসক্ত ছিলেন।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্তের কক্ষ থেকে সিগারেটের প্যাকেট, ফয়েল পেপার, মোমবাতিসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।



















