Dhaka ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
কালীগঞ্জে এলাকাবাসীর সঙ্গে সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিবের মতবিনিময় পুলিশের চার ডিআইজিসহ ১৪ কর্মকর্তাকে বদলি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা আটক জাবির মেডিকেল সেন্টার থেকে ২১ দিনে প্রায় ২০ হাজার পিস ওষুধ উধাও! এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক, ঋণখেলাপিরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না তনু হত্যা মামলা: আরও ২ সাবেক সেনাসদস্যের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ দৌলতদিয়ায় সাড়ে ১০ কেজির ঢাই মাছ ৫৮ হাজার টাকায় বিক্রি ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়তে রাজবাড়ীতে পূবালী ব্যাংকের উদ্বুদ্ধকরণ সভা ও র‍্যালি প্রশাসকদের সমন্বিত উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নতুন গতি এসেছে বিশ্বকাপ ফাইনালের রাতে প্রেমিকের বন্ধুর বাসায় প্রাইম ইউনিভার্সিটির ছাত্রী, অতঃপর ‘ছাদ থেকে ফেলে হত্যা’!

জাবির মেডিকেল সেন্টার থেকে ২১ দিনে প্রায় ২০ হাজার পিস ওষুধ উধাও!

জাবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৮:১৩:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • / 16

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিকেল সেন্টার থেকে মাত্র ২১ দিনে প্রায় ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধের গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু)।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে জাকসুর সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এক বার্তায় বিষয়টি জানানো হয়।

মেডিকেল সেন্টারের নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, গরমিল হওয়া ওষুধের মধ্যে রয়েছে ৪ হাজার ৬৪৫ পিস অ্যালাট্রল, ৯১২ পিস অ্যাজিথ্রোমাইসিন, ৪২০ পিস সিপ্রোসিন, ৫ হাজার পিস প্যারাসিটামল, ৭০০ পিস টাইমোনিয়াম, ২ হাজার ৫০০ পিস ফ্যামোটিডিন, ২০০ পিস অ্যান্টানিল, ৯৯০ পিস ন্যাপা এবং ৪ হাজার ২০০ পিস ডমপেরিডন।

জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পাদক হুসনী মোবারক বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জরুরি ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশে অধ্যাপক ড. মো. সালেকুল ইসলামের সঙ্গে মেডিকেল সেন্টারের ওষুধের হিসাব যাচাই করা হয়। সেখানে দেখা যায়, গত ৩০ জুন প্রায় ২ লাখ টাকার ওষুধ কেনা হলেও মাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে প্রায় ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধের গরমিল পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, প্যারাসিটামল, অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিহিস্টামিন, গ্যাস্ট্রিক ও ব্যথানাশকসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ স্টোরে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) মো. নূর-এ-কামাল পিংকুর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি। পরে প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শামছুর রহমানের সঙ্গেও কথা বলা হলেও তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এ সময় জাকসুর সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাপ্পি এবং কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শামছুর রহমান বলেন, স্টোরের চাবি ও ওষুধের মজুদের দায়িত্ব স্টোর কর্মকর্তার কাছে থাকায় এ বিষয়ে তার জবাবদিহি প্রয়োজন। এছাড়া ওষুধ ক্রয় ও সরবরাহ একটি পৃথক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যেখানে তার ব্যক্তিগত স্বাক্ষর বা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই।

তিনি জানান, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)কে অবহিত করা হয়েছে। আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু হবে এবং গরমিলের কারণ অনুসন্ধান করা হবে। পাশাপাশি ওষুধ সংরক্ষণ ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও মেডিকেল সেন্টারের উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, মেডিকেল সেন্টারে ওষুধ না থাকার অভিযোগ প্রায়ই পাওয়া যায়। তাই অধ্যাপক ড. সালেকুল ইসলাম, জাকসুর প্রতিনিধি হুসনী মোবারক এবং প্রশাসনের দুই কর্মকর্তাকে আকস্মিক পরিদর্শনে পাঠানো হয়েছিল।

তিনি বলেন, পরিদর্শনে যে গরমিল পাওয়া গেছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে। একই সঙ্গে ওষুধ কোথা থেকে আসে, কীভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হয় এবং কোন খাতে ব্যয় হয়—সব বিষয় খতিয়ে দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জাবির মেডিকেল সেন্টার থেকে ২১ দিনে প্রায় ২০ হাজার পিস ওষুধ উধাও!

প্রকাশের সময় : ০৮:১৩:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিকেল সেন্টার থেকে মাত্র ২১ দিনে প্রায় ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধের গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু)।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে জাকসুর সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এক বার্তায় বিষয়টি জানানো হয়।

মেডিকেল সেন্টারের নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, গরমিল হওয়া ওষুধের মধ্যে রয়েছে ৪ হাজার ৬৪৫ পিস অ্যালাট্রল, ৯১২ পিস অ্যাজিথ্রোমাইসিন, ৪২০ পিস সিপ্রোসিন, ৫ হাজার পিস প্যারাসিটামল, ৭০০ পিস টাইমোনিয়াম, ২ হাজার ৫০০ পিস ফ্যামোটিডিন, ২০০ পিস অ্যান্টানিল, ৯৯০ পিস ন্যাপা এবং ৪ হাজার ২০০ পিস ডমপেরিডন।

জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পাদক হুসনী মোবারক বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জরুরি ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশে অধ্যাপক ড. মো. সালেকুল ইসলামের সঙ্গে মেডিকেল সেন্টারের ওষুধের হিসাব যাচাই করা হয়। সেখানে দেখা যায়, গত ৩০ জুন প্রায় ২ লাখ টাকার ওষুধ কেনা হলেও মাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে প্রায় ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধের গরমিল পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, প্যারাসিটামল, অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিহিস্টামিন, গ্যাস্ট্রিক ও ব্যথানাশকসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ স্টোরে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) মো. নূর-এ-কামাল পিংকুর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি। পরে প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শামছুর রহমানের সঙ্গেও কথা বলা হলেও তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এ সময় জাকসুর সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাপ্পি এবং কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শামছুর রহমান বলেন, স্টোরের চাবি ও ওষুধের মজুদের দায়িত্ব স্টোর কর্মকর্তার কাছে থাকায় এ বিষয়ে তার জবাবদিহি প্রয়োজন। এছাড়া ওষুধ ক্রয় ও সরবরাহ একটি পৃথক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যেখানে তার ব্যক্তিগত স্বাক্ষর বা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই।

তিনি জানান, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)কে অবহিত করা হয়েছে। আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু হবে এবং গরমিলের কারণ অনুসন্ধান করা হবে। পাশাপাশি ওষুধ সংরক্ষণ ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও মেডিকেল সেন্টারের উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, মেডিকেল সেন্টারে ওষুধ না থাকার অভিযোগ প্রায়ই পাওয়া যায়। তাই অধ্যাপক ড. সালেকুল ইসলাম, জাকসুর প্রতিনিধি হুসনী মোবারক এবং প্রশাসনের দুই কর্মকর্তাকে আকস্মিক পরিদর্শনে পাঠানো হয়েছিল।

তিনি বলেন, পরিদর্শনে যে গরমিল পাওয়া গেছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে। একই সঙ্গে ওষুধ কোথা থেকে আসে, কীভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হয় এবং কোন খাতে ব্যয় হয়—সব বিষয় খতিয়ে দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।