বিশ্বকাপ ফাইনালের রাতে প্রেমিকের বন্ধুর বাসায় প্রাইম ইউনিভার্সিটির ছাত্রী, অতঃপর ‘ছাদ থেকে ফেলে হত্যা’!
- প্রকাশের সময় : ০৫:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
- / 11
রাজধানীর মিরপুরের মধ্য পীরেরবাগ এলাকায় একটি ভবনের ছাদ থেকে পড়ে লাবণী আক্তার নামের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য ক্রমেই বাড়ছে। তার নিচে পড়ে যাওয়াকে হত্যাকাণ্ড বলে মনে করছেন স্থানীয় অনেকে। এর পাশাপাশি বিষয়টি আত্মহত্যা কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল খেলার রাতে তিনি সেখানে প্রেমিকের বন্ধুর বাসায় প্রবেশ করেন বলে দাবি অনেকের। তবে পরদিন দুপুরে প্রবেশ করেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় কেউ কেউ।
সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে পীরেরবাগ এলাকায় ১১ তলা ভবনের পাশে সড়কে পাওয়া যায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মরদেহ। এরপর থেকেই তিনি ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছেন নাকি কেউ ফেলে দিয়েছে, সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। ঘটনার পর জব্দ করা হয়েছে আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও আলামত।
নিহত লাবণী আক্তার বেসরকারি প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিষয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে স্বজনের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে। জানা গেছে, সোশ্যাল মিডিয়া তার সরব উপস্থিতি ছিল। স্থানীয় একটি পার্লারেও কাজ করেছেন। সোমবার সকালে ক্যাম্পাসে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন তিনি। পরে স্বজনরা জানতে পারেন, তার মরদেহ পড়ে আছে মিরপুরের মধ্য পীরেরবাগের সড়কে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বেলা দেড়টার পরে এ ঘটনা হইছে। স্থানীয় একজন তাকে ডেকে নিয়ে আসেন বলে জানিয়েছেন কেউ কেউ। বিষয়টি নিয়ে আগে অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, এক বন্ধুর বাসায় মেয়েটিকে নিয়ে আসেন প্রেমিক।
তদন্তের স্বার্থে ওই ভবনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও আলামত জব্দ করেছে জানিয়ে ঘটনার সময় উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বাসাটির বাসিন্দা না হলেও কেন সেখানে মেয়েটি গিয়েছিলেন, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। পরিবার বলছে, লাবণী প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলবিতে পড়তেন।
সুরতহাল শেষে নিহত ছাত্রীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোরাওয়ার্দি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দুপুর ২টা ১০ মিনিটে সোনিয়া ভবনটিতে প্রবেশ করেন। তারপর সোজা ছাদে চলে যান। আরেকটি সূত্র বলছে, আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল খেলার রাতে তিনি বাড়িটিতে প্রবেশ করেন। বেলা দুপুর ২টা ১৪ মিনিটে তিনি নিচে পড়ে যান। এরপরই তাকে কেউ ফেলে দিয়েছে নাকি আত্মহত্যা করেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে মিরপুর মডেল থানার ওসির অফিসিয়াল ফোন নম্বরে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে পরিদর্শক (তদন্ত)-এর নম্বরে রিসিভ করলে তিনি জানান, ছাত্রীর মৃত্যুর কারণ এখনও জানা যায়নি। বিস্তারিত জানতে ওসিকে ফোন দিতে বলে তিনি আর কোনও তথ্য দিতে রাজি হননি।
বিষয়টি নিয়ে প্রাইম ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. কাজী দীন মোহাম্মদ খসরু মোবাইল ফোনে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’





















