ছয় পদের চারটিই বছরের পর বছর শূন্য, জনবল সংকটে ধুঁকছে শার্শা উপজেলা মৎস্য অফিস
- প্রকাশের সময় : ০১:১৩:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
- / 8
যশোরের শার্শা উপজেলা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য উৎপাদনকারী এলাকা। প্রতিবছর হাজার হাজার টন মাছ উৎপাদিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ জনবল সংকটে কার্যক্রম পরিচালনা করছে উপজেলা মৎস্য অফিস। অনুমোদিত ছয়টি পদের মধ্যে চারটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় মাত্র দুইজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে কোনোমতে চলছে সরকারি এ দপ্তরের কার্যক্রম।
ফলে মাঠপর্যায়ে তদারকি ব্যাহত হচ্ছে এবং উপজেলার হাজারো মৎস্যচাষি ও জেলেরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের বসবাস শার্শা উপজেলায়। কৃষির পাশাপাশি মৎস্য খাতও এ অঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। উপজেলায় সরকারি খাস পুকুর রয়েছে ৩২টি, যার মোট আয়তন ৪ দশমিক ৪০ হেক্টর। এছাড়া বেসরকারি পুকুর রয়েছে ৭ হাজার ১৭৩টি, যার আয়তন ৩ হাজার ৫৬৫ দশমিক ৬০ হেক্টর। এসব জলাশয় থেকে বছরে প্রায় ২৯ হাজার ৬৮৬ দশমিক ৮৬ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়।
রুই, কাতলা, মৃগেল, বিভিন্ন প্রজাতির কার্প, তেলাপিয়া, গুলশা, পাবদা, কৈ, শিং, মাগুর ও পাঙাশসহ নানা প্রজাতির মাছ উৎপাদনে শার্শা জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে সুপরিচিত। তবে এত বৃহৎ উৎপাদন ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় প্রশাসনিক ও কারিগরি নানা জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে।
দপ্তর সূত্র জানায়, অনুমোদিত ছয়টি পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুইজন। দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। এর মধ্যে মৎস্য সম্প্রসারণ ও মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা পদটি সৃষ্টির পর থেকেই কখনও পূরণ হয়নি। উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা পদটি প্রায় ১১ বছর, ক্ষেত্র সহকারী পদটি চার বছর এবং অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদটি প্রায় ১১ বছর ধরে শূন্য রয়েছে।
জনবল সংকটের কারণে মাছের খামার পরিদর্শন, নতুন উদ্যোক্তাদের পরামর্শ প্রদান, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রশিক্ষণ, নিবন্ধন, পরিসংখ্যান সংগ্রহ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ, ভ্রাম্যমাণ অভিযান এবং দাপ্তরিক নানা কাজ একই সঙ্গে সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মরত কর্মকর্তাদের। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তবে স্থানীয় মৎস্যচাষিরা জানান, সীমিত জনবল নিয়েও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে গিয়ে খামারিদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। পর্যাপ্ত জনবল থাকলে সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে তাদের প্রত্যাশা।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ বালা বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ এ উপজেলায় মাত্র দুইজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে অফিস পরিচালনা করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় মাঠপর্যায়ের তদারকি, নিয়মিত কার্যক্রম এবং সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে অনেক কষ্ট করতে হয়। তবুও জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। জনবল সংকটের বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ হলে সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে।”
মৎস্য খাতে শার্শার ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনা ও উৎপাদন ধরে রাখতে দ্রুত শূন্য পদগুলোতে জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা গেলে মাঠপর্যায়ে সেবার পরিধি বাড়বে, মাছের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারের মৎস্য উন্নয়ন কর্মসূচি আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।




















