জাবিতে গভীর রাতে নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের অভিযোগ, ১২ সিনিয়র শিক্ষার্থী আটক
- প্রকাশের সময় : ০২:২৬:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
- / 413
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইতিহাস বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের গভীর রাতে ডেকে নিয়ে ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে র্যাগিং করার অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের একদল সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ১২ জন শিক্ষার্থীকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরাও প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে লিখিতভাবে ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
শনিবার (৪ জুলাই) রাত ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্তরা সবাই ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তারা হলেন—সুভাশীষ রায়, নাছিম উদ্দিন মজুমদার, আবু আবতাহী অনিক, নাইমুল হাসান, আব্দুল্লাহ মাহদী, ইসফাক হাদী সিক্ত, মো. রায়হান খান, কাজী শাহ জামসেদ আলম নাবিল, সাইফুল্লাহ মানসুর আনান, মো. মাহফুজুর রহমান অন্ত, শ্রী কার্তিক চন্দ্র রায় এবং নাইম আহমেদ সজিব।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত ১১টার দিকে ইতিহাস বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থীকে প্রথমে মহুয়া মঞ্চে এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ৪০ মিনিট বসিয়ে রাখার পর তাদের মাঠসংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ‘ফরমাল পরিচয়’ ও ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে বাবা-মাকে নিয়ে অশালীন ভাষায় গালাগাল, কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা এবং বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. এহসানুল হক বলেন, “সেখানে আমাদের মা-বাবাকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় এবং ফরমাল পরিচয়ের নামে আমাদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে জাকসুর নেতা মোহাম্মদ আলী চিশতী, হুসনে মোবারক এবং প্রক্টরিয়াল টিম এসে আমাদের উদ্ধার করেন।”
একই ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী রাজ খান বলেন, “এটি প্রথম ঘটনা নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময় ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে আমাদের গভীর রাত পর্যন্ত মাঠে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্যবিষয়ক সম্পাদক এবং অ্যান্টি-র্যাগিং সেলের সদস্য হুসনে মোবারক বলেন, “রাত ২টার দিকে এক শিক্ষার্থীর মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর প্রশাসনকে জানানো হয়। পরে সহকারী প্রক্টর ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এসে অভিযুক্তদের নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে যান। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার কথা স্বীকার করেন।”
তিনি আরও বলেন, “র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে যখন পুরো ক্যাম্পাস সোচ্চার, তখন গভীর রাতে শিক্ষার্থীদের নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে হেনস্তার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে জাকসু কঠোর অবস্থানে থাকবে।”
প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে দেওয়া লিখিত স্বীকারোক্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, তারা ইতিহাস বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের ১৩ জন শিক্ষার্থীকে ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ডেকে নিয়ে র্যাগিং করেছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, “রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা অফিসে এনে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রক্টরিয়াল বডির সভায় উপস্থাপন করা হবে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”




















