Dhaka ০৪:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
২০২৭ সালে শিক্ষাক্রমে যুক্ত হবে নতুন চার বিষয়: শিক্ষামন্ত্রী নওগাঁয় যানবাহনের কালো ধোঁয়ার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন, গেজেট প্রকাশ চীন-ভারত-জাপানসহ এশিয়ার বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি শিশুদের বিকাশের সুযোগ দিলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে: প্রধানমন্ত্রী সাবেক এমপি নাইমুজ্জামান মুক্তা গ্রেফতার ৪৯তম বিসিএস থেকে আরও ৪০ জনকে শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ শিশু অধিকার দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সক্রিয়, সৌদিতে সেনা পাঠাবে পাকিস্তান ও তুরস্ক বাদ পড়া ৪০ জনকে নিয়োগ দিয়ে ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি

মাদরাসা ছাত্রের নামে বরাদ্দের বাইসাইকেল নাতনিকে দিলেন জামায়াত নেতা!

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৫০:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • / 94

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে মাদরাসা ছাত্রের নামে বরাদ্দকৃত বাইসাইকেল নিজেই মাস্টাররোলে স্বাক্ষর করে নাতনিকে দিয়ে বিপাকে পড়েছেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম। পরে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তা ফেরত দেন তিনি।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, কোটচাঁদপুর কামিল মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সাইমুন ইসলামের নামে একটি বাইসাইকেল বরাদ্দ দেওয়া হয়। উপকারভোগীর পরিবর্তে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম নিজেই মাস্টাররোলে স্বাক্ষর করে সাইকেলটি গ্রহণ করেন। পরে সেটি তাঁর নাতনির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। নিজেই স্বাক্ষর করে বাইসাইকেল গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলে বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে বাইসাইকেলটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ফেরত দেন জামায়াত নেতা তাজুল ইসলাম।

সাইকেল বরাদ্দ হওয়া শিক্ষার্থী সাইমুন ইসলাম বলে, বরাদ্দ হওয়া সাইকেলটি প্রথমে তাকে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সাইকেলটি তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হলেও পরে সেটি আবার প্রশাসনের কাছে ফেরত নেওয়া হয়।

এদিকে শুধু একটি বাইসাইকেল নয়, সরকারি বরাদ্দের সেলাই মেশিন, স্প্রে মেশিন, ছাগলসহ বিভিন্ন উপকরণ বিতরণেও স্বজনপ্রীতি ও দলীয় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের এই আমিরের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, সাইকেলটি আমার এক প্রতিবেশী শিক্ষার্থীকে দিয়েছিলাম। ওই শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন না থাকায় আমি নিজেই স্বাক্ষর করে গ্রহণ করেছিলাম। তবে পরে তিনি বক্তব্য পরিবর্তন করে আবার বলেন, পারিবারিক প্রয়োজন বিবেচনায় সেটি আমার এক নাতনিকে দেওয়া হয়েছিল। পরে বাইসাইকেলটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপা রানী বলেন, বাইসাইকেল বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়ার পর সাইকেলটি ফেরত নেওয়া হয়েছে। এটি প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে পুনরায় বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি উপকরণ বিতরণেও কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মাদরাসা ছাত্রের নামে বরাদ্দের বাইসাইকেল নাতনিকে দিলেন জামায়াত নেতা!

প্রকাশের সময় : ০৮:৫০:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে মাদরাসা ছাত্রের নামে বরাদ্দকৃত বাইসাইকেল নিজেই মাস্টাররোলে স্বাক্ষর করে নাতনিকে দিয়ে বিপাকে পড়েছেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম। পরে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তা ফেরত দেন তিনি।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, কোটচাঁদপুর কামিল মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সাইমুন ইসলামের নামে একটি বাইসাইকেল বরাদ্দ দেওয়া হয়। উপকারভোগীর পরিবর্তে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম নিজেই মাস্টাররোলে স্বাক্ষর করে সাইকেলটি গ্রহণ করেন। পরে সেটি তাঁর নাতনির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। নিজেই স্বাক্ষর করে বাইসাইকেল গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলে বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে বাইসাইকেলটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ফেরত দেন জামায়াত নেতা তাজুল ইসলাম।

সাইকেল বরাদ্দ হওয়া শিক্ষার্থী সাইমুন ইসলাম বলে, বরাদ্দ হওয়া সাইকেলটি প্রথমে তাকে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সাইকেলটি তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হলেও পরে সেটি আবার প্রশাসনের কাছে ফেরত নেওয়া হয়।

এদিকে শুধু একটি বাইসাইকেল নয়, সরকারি বরাদ্দের সেলাই মেশিন, স্প্রে মেশিন, ছাগলসহ বিভিন্ন উপকরণ বিতরণেও স্বজনপ্রীতি ও দলীয় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের এই আমিরের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, সাইকেলটি আমার এক প্রতিবেশী শিক্ষার্থীকে দিয়েছিলাম। ওই শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন না থাকায় আমি নিজেই স্বাক্ষর করে গ্রহণ করেছিলাম। তবে পরে তিনি বক্তব্য পরিবর্তন করে আবার বলেন, পারিবারিক প্রয়োজন বিবেচনায় সেটি আমার এক নাতনিকে দেওয়া হয়েছিল। পরে বাইসাইকেলটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপা রানী বলেন, বাইসাইকেল বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়ার পর সাইকেলটি ফেরত নেওয়া হয়েছে। এটি প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে পুনরায় বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি উপকরণ বিতরণেও কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।