Dhaka ১২:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
নিয়ামতপুরে ৪০০ লিটার চোলাই মদ তৈরির উপকরণসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার অর্থনীতি ও বাজার স্থিতিশীলতায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী আর্জেন্টিনাকে হারানোর ছক ফাঁস করল কেপ ভার্দে ব্যারিস্টার ফুয়াদকে ‘উন্মাদ’ ছাড়া কী বলব : দুদু বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন ১ আগস্ট থেকে সুযোগ পেলেই ধাপে ধাপে জ্বালানির দাম কমানো হবে পানের বরজ থেকে ১২ কেজি ওজনের গাঁজা গাছ উদ্ধার, গ্রেফতার ১ মাদরাসা ছাত্রের নামে বরাদ্দের বাইসাইকেল নাতনিকে দিলেন জামায়াত নেতা! ভারতীয় ভিসা নিয়ে বিশেষ বার্তা হাইকমিশনের কোটালীপাড়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ভ্যানচালক আটক

মাদরাসা ছাত্রের নামে বরাদ্দের বাইসাইকেল নাতনিকে দিলেন জামায়াত নেতা!

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৫০:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • / 30

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে মাদরাসা ছাত্রের নামে বরাদ্দকৃত বাইসাইকেল নিজেই মাস্টাররোলে স্বাক্ষর করে নাতনিকে দিয়ে বিপাকে পড়েছেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম। পরে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তা ফেরত দেন তিনি।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, কোটচাঁদপুর কামিল মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সাইমুন ইসলামের নামে একটি বাইসাইকেল বরাদ্দ দেওয়া হয়। উপকারভোগীর পরিবর্তে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম নিজেই মাস্টাররোলে স্বাক্ষর করে সাইকেলটি গ্রহণ করেন। পরে সেটি তাঁর নাতনির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। নিজেই স্বাক্ষর করে বাইসাইকেল গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলে বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে বাইসাইকেলটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ফেরত দেন জামায়াত নেতা তাজুল ইসলাম।

সাইকেল বরাদ্দ হওয়া শিক্ষার্থী সাইমুন ইসলাম বলে, বরাদ্দ হওয়া সাইকেলটি প্রথমে তাকে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সাইকেলটি তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হলেও পরে সেটি আবার প্রশাসনের কাছে ফেরত নেওয়া হয়।

এদিকে শুধু একটি বাইসাইকেল নয়, সরকারি বরাদ্দের সেলাই মেশিন, স্প্রে মেশিন, ছাগলসহ বিভিন্ন উপকরণ বিতরণেও স্বজনপ্রীতি ও দলীয় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের এই আমিরের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, সাইকেলটি আমার এক প্রতিবেশী শিক্ষার্থীকে দিয়েছিলাম। ওই শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন না থাকায় আমি নিজেই স্বাক্ষর করে গ্রহণ করেছিলাম। তবে পরে তিনি বক্তব্য পরিবর্তন করে আবার বলেন, পারিবারিক প্রয়োজন বিবেচনায় সেটি আমার এক নাতনিকে দেওয়া হয়েছিল। পরে বাইসাইকেলটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপা রানী বলেন, বাইসাইকেল বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়ার পর সাইকেলটি ফেরত নেওয়া হয়েছে। এটি প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে পুনরায় বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি উপকরণ বিতরণেও কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মাদরাসা ছাত্রের নামে বরাদ্দের বাইসাইকেল নাতনিকে দিলেন জামায়াত নেতা!

প্রকাশের সময় : ০৮:৫০:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে মাদরাসা ছাত্রের নামে বরাদ্দকৃত বাইসাইকেল নিজেই মাস্টাররোলে স্বাক্ষর করে নাতনিকে দিয়ে বিপাকে পড়েছেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম। পরে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তা ফেরত দেন তিনি।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, কোটচাঁদপুর কামিল মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সাইমুন ইসলামের নামে একটি বাইসাইকেল বরাদ্দ দেওয়া হয়। উপকারভোগীর পরিবর্তে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম নিজেই মাস্টাররোলে স্বাক্ষর করে সাইকেলটি গ্রহণ করেন। পরে সেটি তাঁর নাতনির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। নিজেই স্বাক্ষর করে বাইসাইকেল গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলে বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে বাইসাইকেলটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ফেরত দেন জামায়াত নেতা তাজুল ইসলাম।

সাইকেল বরাদ্দ হওয়া শিক্ষার্থী সাইমুন ইসলাম বলে, বরাদ্দ হওয়া সাইকেলটি প্রথমে তাকে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সাইকেলটি তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হলেও পরে সেটি আবার প্রশাসনের কাছে ফেরত নেওয়া হয়।

এদিকে শুধু একটি বাইসাইকেল নয়, সরকারি বরাদ্দের সেলাই মেশিন, স্প্রে মেশিন, ছাগলসহ বিভিন্ন উপকরণ বিতরণেও স্বজনপ্রীতি ও দলীয় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের এই আমিরের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, সাইকেলটি আমার এক প্রতিবেশী শিক্ষার্থীকে দিয়েছিলাম। ওই শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন না থাকায় আমি নিজেই স্বাক্ষর করে গ্রহণ করেছিলাম। তবে পরে তিনি বক্তব্য পরিবর্তন করে আবার বলেন, পারিবারিক প্রয়োজন বিবেচনায় সেটি আমার এক নাতনিকে দেওয়া হয়েছিল। পরে বাইসাইকেলটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপা রানী বলেন, বাইসাইকেল বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়ার পর সাইকেলটি ফেরত নেওয়া হয়েছে। এটি প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে পুনরায় বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি উপকরণ বিতরণেও কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।