ভবন সংকটে ৯ বছর ধরে বন্ধ রাজবাড়ী পৌর শিশু হাসপাতাল, পুনরায় চালুর দাবি
- প্রকাশের সময় : ০১:১৪:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
- / 21
রাজবাড়ী পৌর শিশু হাসপাতাল প্রায় ৯ বছর ধরে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। একসময় যেখানে নিয়মিত চিকিৎসক বসে শিশুদের চিকিৎসা দিতেন, সেখানে এখন কোনো চিকিৎসক নেই। অযত্ন-অবহেলায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে ভবনটি। বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে সীমিত পরিসরে টিকাদান ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়া হলেও হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রাজবাড়ী পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে পৌরসভার উদ্যোগে শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন বাজার এলাকায় হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর পৌরসভার মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুর রশিদ সেখানে শিশু চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি সেবা দিয়ে স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছেড়ে দেন। এরপর আর কোনো চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে সূর্যের হাসি ক্লিনিক সপ্তাহে দুই দিন সেখানে পরিবার পরিকল্পনা ও টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাজার বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন বহরপুর-বালিয়াকান্দি সড়কের পূর্ব পাশে হাসপাতালটির অবস্থান। হাসপাতালের সামনেই রয়েছে পৌর কবরস্থান। একতলা ভবনটির দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে, জানালার কাচ ভাঙা, মূল ফটকের কলাপসিবল গেট নষ্ট এবং ভবনের নিচের অংশ মাটিতে চাপা পড়ে গেছে। পলেস্তারা খসে যাওয়ায় ভবনের গায়ে লেখা ‘রাজবাড়ী পৌর শিশু হাসপাতাল’ নামটিও প্রায় মুছে গেছে। বর্তমানে ভবনের একটি কক্ষে সূর্যের হাসি ক্লিনিকের দুই নারী কর্মী সেবা দিচ্ছেন।
সূর্যের হাসি ক্লিনিকের সার্ভিস প্রমোটর মনীরা বলেন, “২০২০ সাল থেকে এখানে পরিবার পরিকল্পনা ও টিকাদান সেবা দিয়ে আসছি। প্রতি মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীরা এখানে সেবা নিতে আসেন। কিন্তু ভবনে টয়লেট, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা কিংবা প্রয়োজনীয় পরিবেশ নেই। এমন অবস্থায় কাজ করা খুবই কষ্টকর।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী হাশেম মিয়া বলেন, “হাসপাতালটি দীর্ঘদিন অরক্ষিত থাকায় সন্ধ্যার পর এখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসত। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে বেড়া নির্মাণ করলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।”
৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল গফুর বলেন, “একসময় প্রতিদিন এখানে চিকিৎসক বসতেন। এলাকার গরিব মানুষ সহজেই চিকিৎসাসেবা পেতেন। এখন আশপাশে জনবসতি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বেড়েছে, কিন্তু হাসপাতালটি বন্ধ। এটি পুনরায় চালু হলে স্থানীয় মানুষের অনেক উপকার হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল মাহমুদ বলেন, “রাজবাড়ীতে শিশুদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালের অভাব রয়েছে। জেলা সদর হাসপাতালের ওপরই সবাইকে নির্ভর করতে হয়। জটিল রোগে আক্রান্ত শিশুদের ফরিদপুর বা ঢাকায় নিতে হয়। এখানে পর্যাপ্ত জমি রয়েছে। পুরোনো ভবনের পরিবর্তে আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা হলে জেলার মানুষের চিকিৎসাসেবা অনেক সহজ হবে।”
এ বিষয়ে রাজবাড়ী পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহা. রবিউল হক বলেন, “এটি মূলত একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। একসময় পৌরসভার উদ্যোগে চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে সেবা দেওয়া হতো। বিভিন্ন কারণে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী। আমরা নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছি। নতুন ভবন নির্মাণ করা গেলে পৌরসভার উদ্যোগে চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে আবারও স্বাস্থ্যসেবা চালু করা সম্ভব হবে।”














