Dhaka ০৪:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

২০২৭ সালের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০১:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • / 9

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা এবং ডিজিটাল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে একমত হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এমবিএফটিএ) সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দুই দেশ।

সোমবার (২২ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর উপলক্ষে প্রকাশিত বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ৩৩ দফা যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে সোমবার সকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার বাংলাদেশ। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে উভয় পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এমবিএফটিএ) নিয়ে চলমান আলোচনার অগ্রগতিকে স্বাগত জানানো হয় এবং ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তিটি চূড়ান্ত করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়াতে ‘মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনের অগ্রগতির বিষয়টিও যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, উচ্চপর্যায়ের সফর ও নিয়মিত সংলাপ শ্রম সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বিষয়ে সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার গুরুত্বের ওপরও জোর দিয়েছেন দুই দেশের নেতারা।

তারা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার আওতায় নিয়মিত সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এ প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত যৌথ কমিশন বৈঠক (জেসিএম) ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা (বিসি) দ্রুত পুনরায় চালুর বিষয়ে সম্মত হন তারা।

ডিজিটাল অর্থনীতি ও সেমিকন্ডাক্টরে সহযোগিতা

যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ফিনটেক, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল গভর্ন্যান্স এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। বাংলাদেশে প্রযুক্তি পার্ক, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এ ছাড়া সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাতকে কাজে লাগিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে একটি সমন্বিত কাঠামো গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ জুন মালয়েশিয়া সফরে যান। সোমবার মালয়েশিয়া থেকে চীনের উদ্দেশে তার রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ২৬ জুন চীন সফর শেষে দেশে ফিরবেন তিনি।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

২০২৭ সালের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া

প্রকাশের সময় : ০১:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা এবং ডিজিটাল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে একমত হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এমবিএফটিএ) সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দুই দেশ।

সোমবার (২২ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর উপলক্ষে প্রকাশিত বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ৩৩ দফা যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে সোমবার সকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার বাংলাদেশ। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে উভয় পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এমবিএফটিএ) নিয়ে চলমান আলোচনার অগ্রগতিকে স্বাগত জানানো হয় এবং ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তিটি চূড়ান্ত করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়াতে ‘মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনের অগ্রগতির বিষয়টিও যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, উচ্চপর্যায়ের সফর ও নিয়মিত সংলাপ শ্রম সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বিষয়ে সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার গুরুত্বের ওপরও জোর দিয়েছেন দুই দেশের নেতারা।

তারা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার আওতায় নিয়মিত সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এ প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত যৌথ কমিশন বৈঠক (জেসিএম) ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা (বিসি) দ্রুত পুনরায় চালুর বিষয়ে সম্মত হন তারা।

ডিজিটাল অর্থনীতি ও সেমিকন্ডাক্টরে সহযোগিতা

যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ফিনটেক, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল গভর্ন্যান্স এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। বাংলাদেশে প্রযুক্তি পার্ক, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এ ছাড়া সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাতকে কাজে লাগিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে একটি সমন্বিত কাঠামো গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ জুন মালয়েশিয়া সফরে যান। সোমবার মালয়েশিয়া থেকে চীনের উদ্দেশে তার রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ২৬ জুন চীন সফর শেষে দেশে ফিরবেন তিনি।