দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক
ঢাকা-মস্কো সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ ও সম্প্রসারণের অঙ্গীকার
- প্রকাশের সময় : ১০:২৫:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
- / 85
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ-এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে সহযোগিতা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা-মস্কো সম্পর্ক আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।
সোমবার (৮ জুন) মস্কোতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং রাশিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অবদানের কথা স্মরণ করেন খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথমদিকের দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ২০২৭ সালে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর পূর্তি উদযাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সের্গেই ল্যাভরভ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান। খলিলুর রহমান তার প্রার্থিতার প্রতি রাশিয়ার সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে শিল্প, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, কৃষি, গবেষণা ও প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, শিক্ষা, পর্যটন, পরিবহন এবং প্রতিরক্ষা খাতে বিদ্যমান সহযোগিতা পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন দুই মন্ত্রী।
খলিলুর রহমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশের পণ্যের জন্য রাশিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশি পণ্যের নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার অনুরোধও করেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, হালকা ও ভারী প্রকৌশল শিল্প, খাদ্য ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পেট্রোকেমিক্যাল, ইস্পাত উৎপাদন এবং তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে রাশিয়ার বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশন-এর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনে রাশিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি ব্রিকস ও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা-এর সদস্যপদ অর্জনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের প্রতি রাশিয়ার সমর্থন চান। এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন ল্যাভরভ।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হওয়ায় রাশিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে খলিলুর রহমান দ্বিতীয় ইউনিট দ্রুত চালু করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে আরও জনশক্তি নিয়োগ, তাদের নিরাপদ কর্মসংস্থান, অপেক্ষমাণ সমঝোতা স্মারক ও চুক্তিগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়েও আলোচনা হয়। এছাড়া রাশিয়ায় আটকে থাকা কয়েকজন বাংলাদেশিকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন ল্যাভরভ।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিয়েও আলোচনা হয়। এ সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে সহযোগিতা করতে রাশিয়া আগ্রহী বলে জানান রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৈঠকের শেষে মস্কো সফরে আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান খলিলুর রহমান এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।






















