Dhaka ১১:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
তড়িঘড়ি করে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প নেবে না সরকার: প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাজবাড়ীতে নিখোঁজ মা-মেয়ের মরদেহ ফরিদপুরে উদ্ধার, মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল কোচিং সেন্টার নিয়ে যে কড়া বার্তা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী অপপ্রচারের প্রতিবাদে ঝিনাইদহে বিএনপির লিফলেট বিতরণ আরও চার কোটি ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক গাজীপুরে আলোচিত ৫ খুন: সেই ফোরকান পদ্মায় লাফ দিয়েছেন, ধারণা পরিবারের জাবিতে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্তকে গ্রেফতারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম বিশ্ববিদ্যালয় লেক হতে পারে মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে নতুন দৃষ্টান্ত : মৎস্যমন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ফিকে হতে চলছে: পীর সাহেব চরমোনাই ২০২৫ সালে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ৩৯.৩৬ শতাংশ

গাজীপুরে আলোচিত ৫ খুন: সেই ফোরকান পদ্মায় লাফ দিয়েছেন, ধারণা পরিবারের

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:২৭:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • / 8

 

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া পদ্মা সেতু থেকে নদীতে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানান গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন।

এসময় তিনি জানান, পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখা গেছে, যাকে দেখে ফোরকান বলে ধারণা করছেন তার পরিবার ও মামলার বাদী। তবে লাশ উদ্ধার ও ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

পুলিশ সুপার জানান, পাঁচ খুনের ঘটনার পরপরই প্রধান আসামি ফোরকানকে গ্রেফতারে তিনটি দল অভিযানে নামে। একটি দল গোপালগঞ্জে ফোরকানের এলাকায় এবং অপর একটি দল বেনাপোলে যায়, যাতে সে সীমান্ত পার হতে না পারে। পরে মেহেরপুরে এক বাস হেলপারের কাছ থেকে ফোরকানের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই হেলপার জানান, তিনি মোবাইলটি পদ্মা সেতু থেকে পেয়েছেন।

এরপর পুলিশের একটি দল পদ্মা সেতুতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে। ফুটেজে দেখা যায়, একটি প্রাইভেটকার থেকে এক ব্যক্তি নামছেন। গাড়ি থেকে নেমে তিনি হাতের ব্যাগ ও মোবাইলটি ফুটপাতের ওপর রাখেন। এরপর দেড় থেকে দুই মিনিট অপেক্ষা করে রেলিংয়ের ওপর উঠে নদীতে লাফ দেন।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য মামলার বাদী (নিহত শারমিনের বাবা) এবং গোপালগঞ্জে ফোরকানের ভাই জব্বারসহ স্থানীয় কয়েকজনকে ভিডিওটি দেখানো হয়। তারা পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও তাদের কাছে মনে হয়েছে ভিডিওর ওই ব্যক্তিটিই ফোরকান। তবে মুখ পরিষ্কার দেখা না যাওয়ায় শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওর প্রাইভেটকারটি ঢাকার পল্টনের একটি রেন্ট-এ-কার থেকে ভাড়া করেছিলেন ফোরকান। চালককে তিনি বলেছিলেন যে, এক আত্মীয় মারা যাওয়ায় সেখানে যাওয়ার জন্য তিনি গাড়িটি নিচ্ছেন। তবে অল্প সময়ের জন্য দেখায় চালক ফোরকানকে পুরোপুরি শনাক্ত করতে পারেননি।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, উদ্ধার হওয়া মোবাইলটি যে ফোরকানের, তা ইতোমধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফোরকান ছাড়া এই হত্যাকাণ্ডে দ্বিতীয় কারও সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। দেশের বিভিন্ন থানায় বার্তা দেয়া হয়েছে, যাতে কোনো অজ্ঞাতনামা লাশ পাওয়া গেলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।

গত শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে ওই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া।

পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়ার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে। ঘটনার পরদিন শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে গিয়ে তিন শিশুকন্যা, মা শারমিন এবং শ্যালক রসুলের গলাকাটা ও বীভৎস মরদেহ দেখতে পান।

মরদেহের পাশে থাকা কিছু প্রিন্ট করা কাগজের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, ফোরকান এর আগে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পরকীয়ার অভিযোগ করেছিলেন। ওই পারিবারিক কলহের জেরেই তিনি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

গাজীপুরে আলোচিত ৫ খুন: সেই ফোরকান পদ্মায় লাফ দিয়েছেন, ধারণা পরিবারের

প্রকাশের সময় : ০৯:২৭:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

 

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া পদ্মা সেতু থেকে নদীতে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানান গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন।

এসময় তিনি জানান, পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখা গেছে, যাকে দেখে ফোরকান বলে ধারণা করছেন তার পরিবার ও মামলার বাদী। তবে লাশ উদ্ধার ও ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

পুলিশ সুপার জানান, পাঁচ খুনের ঘটনার পরপরই প্রধান আসামি ফোরকানকে গ্রেফতারে তিনটি দল অভিযানে নামে। একটি দল গোপালগঞ্জে ফোরকানের এলাকায় এবং অপর একটি দল বেনাপোলে যায়, যাতে সে সীমান্ত পার হতে না পারে। পরে মেহেরপুরে এক বাস হেলপারের কাছ থেকে ফোরকানের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই হেলপার জানান, তিনি মোবাইলটি পদ্মা সেতু থেকে পেয়েছেন।

এরপর পুলিশের একটি দল পদ্মা সেতুতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে। ফুটেজে দেখা যায়, একটি প্রাইভেটকার থেকে এক ব্যক্তি নামছেন। গাড়ি থেকে নেমে তিনি হাতের ব্যাগ ও মোবাইলটি ফুটপাতের ওপর রাখেন। এরপর দেড় থেকে দুই মিনিট অপেক্ষা করে রেলিংয়ের ওপর উঠে নদীতে লাফ দেন।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য মামলার বাদী (নিহত শারমিনের বাবা) এবং গোপালগঞ্জে ফোরকানের ভাই জব্বারসহ স্থানীয় কয়েকজনকে ভিডিওটি দেখানো হয়। তারা পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও তাদের কাছে মনে হয়েছে ভিডিওর ওই ব্যক্তিটিই ফোরকান। তবে মুখ পরিষ্কার দেখা না যাওয়ায় শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওর প্রাইভেটকারটি ঢাকার পল্টনের একটি রেন্ট-এ-কার থেকে ভাড়া করেছিলেন ফোরকান। চালককে তিনি বলেছিলেন যে, এক আত্মীয় মারা যাওয়ায় সেখানে যাওয়ার জন্য তিনি গাড়িটি নিচ্ছেন। তবে অল্প সময়ের জন্য দেখায় চালক ফোরকানকে পুরোপুরি শনাক্ত করতে পারেননি।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, উদ্ধার হওয়া মোবাইলটি যে ফোরকানের, তা ইতোমধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফোরকান ছাড়া এই হত্যাকাণ্ডে দ্বিতীয় কারও সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। দেশের বিভিন্ন থানায় বার্তা দেয়া হয়েছে, যাতে কোনো অজ্ঞাতনামা লাশ পাওয়া গেলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।

গত শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে ওই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া।

পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়ার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে। ঘটনার পরদিন শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে গিয়ে তিন শিশুকন্যা, মা শারমিন এবং শ্যালক রসুলের গলাকাটা ও বীভৎস মরদেহ দেখতে পান।

মরদেহের পাশে থাকা কিছু প্রিন্ট করা কাগজের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, ফোরকান এর আগে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পরকীয়ার অভিযোগ করেছিলেন। ওই পারিবারিক কলহের জেরেই তিনি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।