Dhaka ১২:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
আমাকে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল: তাসনিম জারা কালীগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ছাত্রশিবিরের স্টুডেন্ট হেল্প ডেস্ক চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের ঢাকায় আনতেন তারা, অতঃপর… ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে দেড় ঘণ্টা পরীক্ষা দিলো শিক্ষার্থীরা! প্রত্যেক উপজেলায় সংসদ সদস্যদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’ বরাদ্দ নকল আইডি ও অ্যাপ্রোনে ঢামেকে ঘোরাঘুরি, আটক তরুণী পোরশায় উদ্ধার হওয়া বিষ্ণুমূর্তি বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে হস্তান্তর সিন্ডিকেটের কাছে জনগণকে জিম্মি হতে দেবে না সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী সংসদের অধিবেশন কক্ষে কিছু খাচ্ছিলেন এমপি, ধরে ফেললেন স্পিকার নওগাঁয় চার খুনের ঘটনায় শিউরে ওঠার মতো তথ্য

নওগাঁয় চার খুনের ঘটনায় শিউরে ওঠার মতো তথ্য

নওগাঁ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৭:২০:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • / 11

নিয়ামতপুর উপজেলায় একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। নিহতদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের দুই শিশু সন্তান রয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর ঘরের দেয়ালে খুনিদের রেখে যাওয়া একটি চিরকুট সদৃশ বার্তা নতুন রহস্যের সৃষ্টি করেছে।

নিহতরা হলেন— হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি খাতুন (৩০), ছেলে পারভেজ হোসেন (১০) এবং মেয়ে সাদিয়া খাতুন (৩)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুর রহমান পেশায় গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে মান্দার চৌবাড়িয়া হাট থেকে গরু বিক্রি করে প্রায় আড়াই লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোরে তার বাবা নমির হোসেন ফজরের নামাজ শেষে ছেলের ঘরের দরজায় রক্ত দেখতে পান। ভেতরে প্রবেশ করে বিছানায় চাদর দিয়ে ঢাকা অবস্থায় চারজনের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান তিনি।

নমির হোসেনের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে নিয়ামতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

হত্যাকাণ্ড শেষে ঘরের দেয়ালে লেখা ছিল— ‘নমির তুই বেঁচে গেলি, দলিল দে। এবার তোর পালা।’ এ বার্তা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ঘাতকদের মূল লক্ষ্য ছিল জমি সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র এবং পরিবারের কর্তা নমির হোসেন।

নমির হোসেন জানান, তার ছয় সন্তানের মধ্যে হাবিবুর ছিলেন একমাত্র ছেলে। জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এক মেয়ের স্বামীর সঙ্গে হাবিবুরের বিরোধ চলছিল। এ সংক্রান্ত একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন এবং থানায়ও অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরিবারের দাবি, সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান জানান, হাবিবুর ও তার স্ত্রীকে গলাকাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং শিশু দুটির মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে ইতোমধ্যে নিহতের বোনসহ পরিবারের সন্দেহভাজন ৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, হত্যার পাশাপাশি ঘরে থাকা গরু বিক্রির প্রায় আড়াই লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে পুলিশি তদন্ত চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

নওগাঁয় চার খুনের ঘটনায় শিউরে ওঠার মতো তথ্য

প্রকাশের সময় : ০৭:২০:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

নিয়ামতপুর উপজেলায় একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। নিহতদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের দুই শিশু সন্তান রয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর ঘরের দেয়ালে খুনিদের রেখে যাওয়া একটি চিরকুট সদৃশ বার্তা নতুন রহস্যের সৃষ্টি করেছে।

নিহতরা হলেন— হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি খাতুন (৩০), ছেলে পারভেজ হোসেন (১০) এবং মেয়ে সাদিয়া খাতুন (৩)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুর রহমান পেশায় গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে মান্দার চৌবাড়িয়া হাট থেকে গরু বিক্রি করে প্রায় আড়াই লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোরে তার বাবা নমির হোসেন ফজরের নামাজ শেষে ছেলের ঘরের দরজায় রক্ত দেখতে পান। ভেতরে প্রবেশ করে বিছানায় চাদর দিয়ে ঢাকা অবস্থায় চারজনের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান তিনি।

নমির হোসেনের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে নিয়ামতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

হত্যাকাণ্ড শেষে ঘরের দেয়ালে লেখা ছিল— ‘নমির তুই বেঁচে গেলি, দলিল দে। এবার তোর পালা।’ এ বার্তা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ঘাতকদের মূল লক্ষ্য ছিল জমি সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র এবং পরিবারের কর্তা নমির হোসেন।

নমির হোসেন জানান, তার ছয় সন্তানের মধ্যে হাবিবুর ছিলেন একমাত্র ছেলে। জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এক মেয়ের স্বামীর সঙ্গে হাবিবুরের বিরোধ চলছিল। এ সংক্রান্ত একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন এবং থানায়ও অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরিবারের দাবি, সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান জানান, হাবিবুর ও তার স্ত্রীকে গলাকাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং শিশু দুটির মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে ইতোমধ্যে নিহতের বোনসহ পরিবারের সন্দেহভাজন ৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, হত্যার পাশাপাশি ঘরে থাকা গরু বিক্রির প্রায় আড়াই লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে পুলিশি তদন্ত চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।