Dhaka ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল টিমের সাথে বাগবিতণ্ডা, পদ হারালেন ছাত্রদল নেতা অসহায় মানুষের পাশে থাকতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রাত্রিযাপনে এসে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ, হোটেল মালিক গ্রেফতার বরিশালে এইডস রোগী বাড়ছে, বেশির ভাগই সমকামী খুলনায় ভাড়া বাসা থেকে নানী ও দুই নাতির মরদেহ উদ্ধার ভাইরাল মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের বানান ভুল, চিড়িয়াখানার কিউরেটরকে বদলি আদ-দ্বীন হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহে বাধা, সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ আওয়ামী লীগ প্রায় ছয় লাখ কোটি টাকা ব্যাংক থেকে নিয়ে গেছে: গণপূর্ত মন্ত্রী বিয়ের জন্য পাত্র খুঁজে পাচ্ছেন না বাঁধন! এনসিপি নেতাকে জুতা পেটার ভিডিও ভাইরাল, দল থেকে অব্যাহতি

মা কেন বাচ্চা হত্যা করে? বিজ্ঞান কি বলে?

ডা. টি এ সাজ্জাদ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:১৮:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 707

সবার প্রথমে বলে রাখি এই মহিলা সম্পূর্ণ নির্দোষ। বাচ্চার কান্নার আওয়াজ সহ্য করতে না পেরে তিন মাস বয়সী বাচ্চাকে গলা টিপে হত্যা করেন মা। বিষয়টা শুনতে অদ্ভুত মনে হচ্ছে অমানবিক মনে হচ্ছে তার চাইতে বেশি হৃদয়বিদারকও মনে হচ্ছে। আমি ওই মায়ের ছবি আপলোড দিতাম না, শুধুমাত্র আপনাদেরকে দেখানোর জন্য আপলোড দিয়েছি ভালো করে ওই মায়ের চোখের নিচে একটু দেখুন। কালি পড়েছে?

আপাত দৃষ্টিতে আপনারা যা দেখছেন কিন্তু চিকিৎসক হিসেবে আমরা দেখছি ভিন্ন কিছু। পোস্টপার্টাম সাইকোসিস। এ বিষয়টা নিয়ে আমি অনেকবার লিখেছি । একজন মা সন্তান জন্মদানের পরে কিছু মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। এই সময়ে একজন মা এ ধরনের আচরণ করে থাকেন। বেশ কিছুদিন আগে যখন আমি এটা লিখেছিলাম তখন একজন মায়ের লেখা একটা চিরকুট আমি পোস্ট দিয়েছিলাম যেখানে ওই মা কে প্রশ্ন করা হয়েছিল আপনার কি হয়েছে লিখে বলুন। ওই মা একটা চিরকুটে রেখে দিয়েছিল’ আমি” বা’বুর র’ক্ত খেতে চাই”।

এক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা মায়ের নয় এক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা হচ্ছে মায়ের আশেপাশে ঘিরে থাকা মানুষজনের। এই সময় মার উপযুক্ত চিকিৎসা প্রয়োজন হয় এটার বাইরে সবচাইতে বেশি যেটা প্রয়োজন হয় সেটা হচ্ছে উপযুক্ত সাপোর্ট। একজন মা সন্তান জন্মদানের পরে সন্তানের জন্য অনেক রাত ঘুমাতে পারেন না। না ঘুমাতে পারার কারণে মায়েদের এ সমস্যাটা সবচাইতে বেশি হয়। ওই সময়টাতে শাশুড়ি অথবা পরিবারের ননদ যারা আছেন তারা যদি একটা নির্দিষ্ট সময় বাচ্চাকে রেখে বাচ্চার মাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমের ব্যবস্থা করে দেন তাহলে মা আর এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয় না অথবা হলেও একেবারে কম।

অনেক মা আমাকে এ ধরনের প্রশ্ন করেন যে আমার চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে মাথা খিটখিটে হয়ে গেছে মেজাজ খিটখিটে হয়ে গেছে এ অবস্থায় কি করা প্রয়োজন। কারো শব্দ কানে নিতে পারছি না মনে হচ্ছে হাতুড়ি দিয়ে মাথার ভেতরে আঘাত করছে এই অবস্থায় আমি কি করব। তখন আমরা ওই মাকে বলি যে আপনাকে যদি আমরা কিছু ওষুধ দেই তবে কি রাতের বেলা আপনার বাচ্চাকে রাখবে এবং আপনি নিরবচ্ছিন্নভাবে ঘুমাতে পারেন এরকম কেউ আছে কিনা। শতকরা ৯৯.৯৯% মা উত্তর দেন যে এরকম কেউ নেই। তখন আমরা ওই ট্রিটমেন্টটা আর দিতে পারি না।

এক্ষেত্রে মাকে দোষ না দিয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার উপরে দোষ দিতে হবে। সন্তান জন্ম দেওয়ার পরে দায়িত্ব শুধু মায়ের নয় বাবার থেকে শুরু করে দাদা দাদী নানা-নানী সহ পরিবার যারা থাকে তাদের ন্যূনতম দায়িত্ববোধ রয়েছে এবং সেটা সঠিকভাবে পালন করতে হবে। যদি আমরা সঠিকভাবে পালন না করতে পারি তবে অদূর ‌ভবিষ্যতে আমরা আরও ভয়ানক কিছু দেখার অপেক্ষায় আছি!

(লেখকের ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মা কেন বাচ্চা হত্যা করে? বিজ্ঞান কি বলে?

প্রকাশের সময় : ০৯:১৮:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

সবার প্রথমে বলে রাখি এই মহিলা সম্পূর্ণ নির্দোষ। বাচ্চার কান্নার আওয়াজ সহ্য করতে না পেরে তিন মাস বয়সী বাচ্চাকে গলা টিপে হত্যা করেন মা। বিষয়টা শুনতে অদ্ভুত মনে হচ্ছে অমানবিক মনে হচ্ছে তার চাইতে বেশি হৃদয়বিদারকও মনে হচ্ছে। আমি ওই মায়ের ছবি আপলোড দিতাম না, শুধুমাত্র আপনাদেরকে দেখানোর জন্য আপলোড দিয়েছি ভালো করে ওই মায়ের চোখের নিচে একটু দেখুন। কালি পড়েছে?

আপাত দৃষ্টিতে আপনারা যা দেখছেন কিন্তু চিকিৎসক হিসেবে আমরা দেখছি ভিন্ন কিছু। পোস্টপার্টাম সাইকোসিস। এ বিষয়টা নিয়ে আমি অনেকবার লিখেছি । একজন মা সন্তান জন্মদানের পরে কিছু মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। এই সময়ে একজন মা এ ধরনের আচরণ করে থাকেন। বেশ কিছুদিন আগে যখন আমি এটা লিখেছিলাম তখন একজন মায়ের লেখা একটা চিরকুট আমি পোস্ট দিয়েছিলাম যেখানে ওই মা কে প্রশ্ন করা হয়েছিল আপনার কি হয়েছে লিখে বলুন। ওই মা একটা চিরকুটে রেখে দিয়েছিল’ আমি” বা’বুর র’ক্ত খেতে চাই”।

এক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা মায়ের নয় এক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা হচ্ছে মায়ের আশেপাশে ঘিরে থাকা মানুষজনের। এই সময় মার উপযুক্ত চিকিৎসা প্রয়োজন হয় এটার বাইরে সবচাইতে বেশি যেটা প্রয়োজন হয় সেটা হচ্ছে উপযুক্ত সাপোর্ট। একজন মা সন্তান জন্মদানের পরে সন্তানের জন্য অনেক রাত ঘুমাতে পারেন না। না ঘুমাতে পারার কারণে মায়েদের এ সমস্যাটা সবচাইতে বেশি হয়। ওই সময়টাতে শাশুড়ি অথবা পরিবারের ননদ যারা আছেন তারা যদি একটা নির্দিষ্ট সময় বাচ্চাকে রেখে বাচ্চার মাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমের ব্যবস্থা করে দেন তাহলে মা আর এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয় না অথবা হলেও একেবারে কম।

অনেক মা আমাকে এ ধরনের প্রশ্ন করেন যে আমার চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে মাথা খিটখিটে হয়ে গেছে মেজাজ খিটখিটে হয়ে গেছে এ অবস্থায় কি করা প্রয়োজন। কারো শব্দ কানে নিতে পারছি না মনে হচ্ছে হাতুড়ি দিয়ে মাথার ভেতরে আঘাত করছে এই অবস্থায় আমি কি করব। তখন আমরা ওই মাকে বলি যে আপনাকে যদি আমরা কিছু ওষুধ দেই তবে কি রাতের বেলা আপনার বাচ্চাকে রাখবে এবং আপনি নিরবচ্ছিন্নভাবে ঘুমাতে পারেন এরকম কেউ আছে কিনা। শতকরা ৯৯.৯৯% মা উত্তর দেন যে এরকম কেউ নেই। তখন আমরা ওই ট্রিটমেন্টটা আর দিতে পারি না।

এক্ষেত্রে মাকে দোষ না দিয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার উপরে দোষ দিতে হবে। সন্তান জন্ম দেওয়ার পরে দায়িত্ব শুধু মায়ের নয় বাবার থেকে শুরু করে দাদা দাদী নানা-নানী সহ পরিবার যারা থাকে তাদের ন্যূনতম দায়িত্ববোধ রয়েছে এবং সেটা সঠিকভাবে পালন করতে হবে। যদি আমরা সঠিকভাবে পালন না করতে পারি তবে অদূর ‌ভবিষ্যতে আমরা আরও ভয়ানক কিছু দেখার অপেক্ষায় আছি!

(লেখকের ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)