উত্তরের মহাসড়কে তীব্র যানজট: গাবতলীতে পৌঁছায়নি রাতের বাস, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
- প্রকাশের সময় : ০৫:২০:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
- / 120
ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে উত্তরের জেলাগুলোতে ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার বাসগুলো তীব্র যানজটে আটকে পড়েছে। বুধবার সন্ধ্যা থেকে ছেড়ে যাওয়া অধিকাংশ বাসই বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত গাবতলীতে ফিরে আসতে পারেনি, এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যা থেকে জয়পুরহাট, বগুড়া ও দিনাজপুরসহ বিভিন্ন রুটে প্রায় ৩০টি বাস ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এসব বাসের অধিকাংশই এখনো যমুনা সেতুর আগের বিভিন্ন পয়েন্টে আটকে রয়েছে।
আহাদ এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার ইয়াসিন জানান, তীব্র যানজটের কারণে রাতের বেশিরভাগ বাস এখনো ফেরেনি। অনেক গাড়ি চান্দুরা, বাইপাইল ও করটিয়া এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে আটকে আছে। ফলে নতুন করে টিকিট বিক্রিও বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “এসি ও নন-এসি মিলিয়ে ৩০টি বাস ছাড়া হয়েছে, কিন্তু জিপিএস ট্র্যাকিংয়ে দেখা যাচ্ছে বেশিরভাগই এখনো যমুনা সেতু পার হতে পারেনি।”
একই পরিস্থিতির কথা জানিয়েছে অন্যান্য পরিবহন সংস্থাগুলোও। গাবতলী টার্মিনালের অন্তত ২০টি কাউন্টারের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৮০ শতাংশ বাস এখনো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি।
শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের কাউন্টার সূত্র জানায়, বুধবার রাতে ২৯টি বাস ছেড়ে দেওয়া হলেও মাত্র ৭টি ফিরে এসেছে। কাউন্টারম্যান জাহিদ বলেন, “যাত্রীরা বারবার এসে জানতে চাইছেন, কিন্তু সড়কের পরিস্থিতির কারণে আমরা নির্দিষ্ট কিছু বলতে পারছি না।”
হানিফ পরিবহন, আসাদ পরিবহন ও এসআই ট্রাভেলসসহ অন্যান্য পরিবহনেও একই চিত্র দেখা গেছে। হানিফ পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার আমানুল্লাহ জানান, সকালে ১০টি বাস ছেড়ে দেওয়া হলেও আগের বাসগুলো এখনো ফেরেনি। এসআই ট্রাভেলসের কাউন্টার ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বলেন, “গতরাতে পাঁচটি বাস ছেড়েছি, একটিও এখনো গন্তব্যে পৌঁছায়নি।”
এদিকে নির্ধারিত সময়েও বাস না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। জয়পুরহাটগামী যাত্রী কাইয়ুম আহমেদ বলেন, “দুপুর ১২টার বাস ছিল, এখনো জানি না কখন ছাড়বে। শুধু বলা হচ্ছে বাস আসলে যাবে।”
বাসগুলো সময়মতো ফিরে না আসায় কাউন্টারগুলোতেও চাপ বাড়ছে। অনেক কর্মী যাত্রীদের চাপ এড়াতে কাউন্টার ছেড়ে বাইরে সময় কাটাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সড়ক সংস্কার কাজের কারণে এই যানজট সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।






















