Dhaka ১২:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশে কড়াকড়ির সিদ্ধান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রেলওয়ের আয় বৃদ্ধির সুপারিশ সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পূর্বশর্ত: রাষ্ট্রপতি প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে : প্রধানমন্ত্রী কমলো সোনার দাম ইরানের সীমান্ত থেকে ১ হাজার কিলোমিটার দূরে ‘পালিয়েছে’ মার্কিন বাহিনী সব নাগরিককে এক ডিজিটাল আইডির আওতায় আনতে চায় সরকার : রেহান আসিফ ৯ বছর পর মুক্তি মিলছে গাজীপুর সাফারি পার্কের দুই লেপার্ডের ডিআইজিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ২৪ কর্মকর্তাকে বদলি সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পূর্বশর্ত : রাষ্ট্রপতি

রানআউট ইস্যুতে আগাকে দায়ী করল এমসিসি

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৮:১৬:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
  • / 150

সিরিজ শেষ। কিন্তু বিতর্কিত এক রানআউট নিয়ে আলোচনা যেন থামছে না। মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মেহেদী হাসান মিরাজের করা সালমান আগার ওই রানআউটের পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত রয়েছে।

এবার এই রানআউট নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করলো ক্রিকেটের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। সেখানে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগাকেই দায়ী করেছে তারা। তবে এও জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ চাইলে ‘স্পিরিট অব ক্রিকেট’-এর ভিত্তিতে আপিল তুলে নিতে পারতো।

ম্যাচ শেষে আগা ‘স্পিরিট অব দ্য গেম’-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি যদি ফিল্ডার হতেন, তাহলে ভিন্নভাবে সিদ্ধান্ত নিতেন এবং ‘স্পোর্টসম্যান স্পিরিট’ দেখাতেন।

ইনিংসের ৩৯তম ওভারের তৃতীয় বলের ঘটনা। বোলার মেহেদী হাসান মিরাজকে ফ্লিক করার চেষ্টা করেন পাকিস্তানি ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। তবে সেটা সোজা চলে যায় ননস্ট্রাইকের দিকে। পা দিয়ে ফিরতি বল থামান মিরাজ, তবে ক্রিজের বাইরে থাকা অবস্থায় সেটি হাত দিয়ে তুলতে চান ননস্ট্রাইক ব্যাটার সালমান। এতে দুইজনের মৃদু সংঘর্ষও হয়। সালমানের আগেই বল ধরে উইকেট ভেঙে দেন মিরাজ, তখনও ক্রিজের বাইরে সালমান। ফলে আম্পায়ারও আউট দেন।

সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এমসিসি জানায়, আম্পায়াররা সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তারা আরও বলে, বলটি তখনও খেলার মধ্যে ছিল এবং স্টাম্প ভাঙার সময় ক্রিজের বাইরে ছিলেন আগা, তাই এটি আউট।

এমসিসি বরং এতে আগার দায় দেখছেন। তারা আরও উল্লেখ করেছে, আগা যখন বল তুলতে গিয়েছিলেন, তখন তিনি অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড (ফিল্ডিংয়ে বাধা দেওয়া) আউট হওয়ার ঝুঁকিতেও ছিলেন। তাদের মতে, ওই সময় বল তোলার চেষ্টা না করে তার ক্রিজে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত ছিল।

এমসিসি পরিষ্কারভাবে জানায়, বলটিকে ‘ডেড বল’ হিসেবে বিবেচনা করার কোনো সুযোগ ছিল না। খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষ হলেই বল ডেড হয় না। গুরুতর চোট না থাকলে বা সবাই খেলা থেমে গেছে বলে ধরে না নিলে বল ডেড ধরা যায় না। এখানে মেহেদী স্পষ্টভাবেই বলটি খেলা চালু অবস্থাতেই ধরেছেন।

তারা আরও বলে, অক্টোবর থেকে নতুন ডেড বল আইন কার্যকর হলেও এই ঘটনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত একই থাকতো। কারণ বল তখনও ‘ফাইনালি সেটেল্ড’ হয়নি—বরং ফিল্ডার সেটি নিয়ে রানআউটের চেষ্টা করছিলেন।

সুতরাং, আইনের দৃষ্টিতে এটিকে ‘নট আউট’ বলার কোনো সুযোগ নেই। তবে ‘স্পিরিট অব ক্রিকেট’-এর প্রসঙ্গে এমসিসি বলেছে, এটি সম্পূর্ণ ফিল্ডিং দলের সিদ্ধান্তের বিষয়।

অনেকেই আগার প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে বলেছেন, এই আউটটি স্পিরিট অব ক্রিকেটের পরিপন্থী। এমসিসি জানায়, মেহেদী চাইলে অধিনায়ক হিসেবে আপিল তুলে নিতে পারতেন। কারণ আগা মনে করেছিলেন বল ডেড এবং তিনি সাহায্য করার চেষ্টা করছিলেন, পাশাপাশি সংঘর্ষের কারণে তার পক্ষে ক্রিজে ফেরা কঠিন হয়ে গিয়েছিল।

ক্রিকেটের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যাটার আইনে আউট হলেও ফিল্ডিং দল চাইলে স্পিরিট অব ক্রিকেটের ভিত্তিতে তাকে খেলতে দেওয়ার জন্য আপিল প্রত্যাহার করতে পারে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রানআউট ইস্যুতে আগাকে দায়ী করল এমসিসি

প্রকাশের সময় : ০৮:১৬:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

সিরিজ শেষ। কিন্তু বিতর্কিত এক রানআউট নিয়ে আলোচনা যেন থামছে না। মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মেহেদী হাসান মিরাজের করা সালমান আগার ওই রানআউটের পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত রয়েছে।

এবার এই রানআউট নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করলো ক্রিকেটের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। সেখানে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগাকেই দায়ী করেছে তারা। তবে এও জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ চাইলে ‘স্পিরিট অব ক্রিকেট’-এর ভিত্তিতে আপিল তুলে নিতে পারতো।

ম্যাচ শেষে আগা ‘স্পিরিট অব দ্য গেম’-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি যদি ফিল্ডার হতেন, তাহলে ভিন্নভাবে সিদ্ধান্ত নিতেন এবং ‘স্পোর্টসম্যান স্পিরিট’ দেখাতেন।

ইনিংসের ৩৯তম ওভারের তৃতীয় বলের ঘটনা। বোলার মেহেদী হাসান মিরাজকে ফ্লিক করার চেষ্টা করেন পাকিস্তানি ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। তবে সেটা সোজা চলে যায় ননস্ট্রাইকের দিকে। পা দিয়ে ফিরতি বল থামান মিরাজ, তবে ক্রিজের বাইরে থাকা অবস্থায় সেটি হাত দিয়ে তুলতে চান ননস্ট্রাইক ব্যাটার সালমান। এতে দুইজনের মৃদু সংঘর্ষও হয়। সালমানের আগেই বল ধরে উইকেট ভেঙে দেন মিরাজ, তখনও ক্রিজের বাইরে সালমান। ফলে আম্পায়ারও আউট দেন।

সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এমসিসি জানায়, আম্পায়াররা সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তারা আরও বলে, বলটি তখনও খেলার মধ্যে ছিল এবং স্টাম্প ভাঙার সময় ক্রিজের বাইরে ছিলেন আগা, তাই এটি আউট।

এমসিসি বরং এতে আগার দায় দেখছেন। তারা আরও উল্লেখ করেছে, আগা যখন বল তুলতে গিয়েছিলেন, তখন তিনি অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড (ফিল্ডিংয়ে বাধা দেওয়া) আউট হওয়ার ঝুঁকিতেও ছিলেন। তাদের মতে, ওই সময় বল তোলার চেষ্টা না করে তার ক্রিজে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত ছিল।

এমসিসি পরিষ্কারভাবে জানায়, বলটিকে ‘ডেড বল’ হিসেবে বিবেচনা করার কোনো সুযোগ ছিল না। খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষ হলেই বল ডেড হয় না। গুরুতর চোট না থাকলে বা সবাই খেলা থেমে গেছে বলে ধরে না নিলে বল ডেড ধরা যায় না। এখানে মেহেদী স্পষ্টভাবেই বলটি খেলা চালু অবস্থাতেই ধরেছেন।

তারা আরও বলে, অক্টোবর থেকে নতুন ডেড বল আইন কার্যকর হলেও এই ঘটনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত একই থাকতো। কারণ বল তখনও ‘ফাইনালি সেটেল্ড’ হয়নি—বরং ফিল্ডার সেটি নিয়ে রানআউটের চেষ্টা করছিলেন।

সুতরাং, আইনের দৃষ্টিতে এটিকে ‘নট আউট’ বলার কোনো সুযোগ নেই। তবে ‘স্পিরিট অব ক্রিকেট’-এর প্রসঙ্গে এমসিসি বলেছে, এটি সম্পূর্ণ ফিল্ডিং দলের সিদ্ধান্তের বিষয়।

অনেকেই আগার প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে বলেছেন, এই আউটটি স্পিরিট অব ক্রিকেটের পরিপন্থী। এমসিসি জানায়, মেহেদী চাইলে অধিনায়ক হিসেবে আপিল তুলে নিতে পারতেন। কারণ আগা মনে করেছিলেন বল ডেড এবং তিনি সাহায্য করার চেষ্টা করছিলেন, পাশাপাশি সংঘর্ষের কারণে তার পক্ষে ক্রিজে ফেরা কঠিন হয়ে গিয়েছিল।

ক্রিকেটের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যাটার আইনে আউট হলেও ফিল্ডিং দল চাইলে স্পিরিট অব ক্রিকেটের ভিত্তিতে তাকে খেলতে দেওয়ার জন্য আপিল প্রত্যাহার করতে পারে।