Dhaka ০৯:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
কালীগঞ্জে ভোক্তা অধিকারের অভিযান, ৪ প্রতিষ্ঠানকে ২৬ হাজার টাকা জরিমানা দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ অভিবাসন ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির গাজীপুরে ওষুধ কারখানার আগুন ৪ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে পোরশায় হাতুড়ে চিকিৎসক দিয়ে সিজার, নবজাতকের মৃত্যু : ক্লিনিক মালিকসহ গ্রেপ্তার ৪ ঝিনাইদহে দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যা কালুখালীর শিকজান বাজারে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনে পুলিশের পরামর্শ ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস, থামবে যেসব স্টেশনে আ. লীগের সঙ্গে বৈঠক: সারজিসকে বহিষ্কার, হাসনাতকে শোকজ করেন নাহিদ

খেলাপির প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করায় সন্তোষ প্রকাশ আইএমএফের

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:৪১:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
  • / 97

দেশে খেলাপি ঋণ ক্রমেই লাগামহীন হয়ে পড়ছে। আগামী বছরের মধ্যে খেলাপি কমানোর আশ্বাস দিলেও এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। তবুও গোপন করে রাখা বিপুল পরিমাণ খেলাপির প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে ঢাকায় সফররত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দল।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির ডেভেলপমেন্ট ম্যাক্রোইকোনমিকস বিভাগের প্রধান ক্রিস পাপাজর্জিও। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান, গবেষণা বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ড. এজাজুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

সূত্র জানায়, আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণের শর্ত অনুযায়ী সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে হবে। তবে গত বছরের আগস্টে সরকারের পরিবর্তনের পর গোপন খেলাপি ঋণের প্রকৃত পরিমাণ প্রকাশিত হতে শুরু করে। চলতি বছরের জুনের শেষে দেখা গেছে, এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা বেশি। বর্তমানে সরকারি ব্যাংকের খেলাপির হার ৪০ শতাংশের বেশি, আর বেসরকারি ব্যাংকে এ হার ১০ শতাংশের ওপরে।

বৈঠকে আইএমএফ প্রতিনিধি দল মুদ্রানীতি কাঠামো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার, তারল্য সহায়তা ও রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য নেয়। সংস্থাটি মূল্যস্ফীতি কমায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও সতর্ক করেছে যাতে দীর্ঘমেয়াদে সংকোচনমূলক নীতি বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি না করে।

এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা, ব্যাংক খাতে তারল্যসংকট, প্রভিশন ঘাটতি, পুনঃমূলধন, বৈদেশিক মুদ্রা সংকট এবং সবুজ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ পরিকল্পনা সম্পর্কেও জানতে চায় আইএমএফ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন,
“আইএমএফের পঞ্চম রিভিউ মিশন নিয়মিত ভিজিট করছে। তারা ঋণের শর্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানতে তথ্য নিচ্ছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার, তারল্য সহায়তা, রিজার্ভের ব্যবহার ও খেলাপি ঋণ কমানোর পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।”

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

খেলাপির প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করায় সন্তোষ প্রকাশ আইএমএফের

প্রকাশের সময় : ১০:৪১:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

দেশে খেলাপি ঋণ ক্রমেই লাগামহীন হয়ে পড়ছে। আগামী বছরের মধ্যে খেলাপি কমানোর আশ্বাস দিলেও এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। তবুও গোপন করে রাখা বিপুল পরিমাণ খেলাপির প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে ঢাকায় সফররত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দল।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির ডেভেলপমেন্ট ম্যাক্রোইকোনমিকস বিভাগের প্রধান ক্রিস পাপাজর্জিও। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান, গবেষণা বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ড. এজাজুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

সূত্র জানায়, আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণের শর্ত অনুযায়ী সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে হবে। তবে গত বছরের আগস্টে সরকারের পরিবর্তনের পর গোপন খেলাপি ঋণের প্রকৃত পরিমাণ প্রকাশিত হতে শুরু করে। চলতি বছরের জুনের শেষে দেখা গেছে, এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা বেশি। বর্তমানে সরকারি ব্যাংকের খেলাপির হার ৪০ শতাংশের বেশি, আর বেসরকারি ব্যাংকে এ হার ১০ শতাংশের ওপরে।

বৈঠকে আইএমএফ প্রতিনিধি দল মুদ্রানীতি কাঠামো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার, তারল্য সহায়তা ও রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য নেয়। সংস্থাটি মূল্যস্ফীতি কমায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও সতর্ক করেছে যাতে দীর্ঘমেয়াদে সংকোচনমূলক নীতি বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি না করে।

এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা, ব্যাংক খাতে তারল্যসংকট, প্রভিশন ঘাটতি, পুনঃমূলধন, বৈদেশিক মুদ্রা সংকট এবং সবুজ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ পরিকল্পনা সম্পর্কেও জানতে চায় আইএমএফ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন,
“আইএমএফের পঞ্চম রিভিউ মিশন নিয়মিত ভিজিট করছে। তারা ঋণের শর্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানতে তথ্য নিচ্ছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার, তারল্য সহায়তা, রিজার্ভের ব্যবহার ও খেলাপি ঋণ কমানোর পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।”