Dhaka ০১:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
প্রীতম–শেহতাজের বিবাহবিচ্ছেদ, কারণ জানালেন দুজন ইয়েমেনে ঘরছাড়া ২ লাখ মানুষ, শস্য ও লতাপাতা কুড়িয়ে খাচ্ছে শিশুরা! স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারী প্রার্থী কম থাকার আশঙ্কা: সিইসি আবাসন মেলার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী মানবতাবিরোধী অপরাধ : ইনুর সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশে কড়াকড়ির সিদ্ধান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রেলওয়ের আয় বৃদ্ধির সুপারিশ সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পূর্বশর্ত: রাষ্ট্রপতি প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে : প্রধানমন্ত্রী কমলো সোনার দাম

তবে কি ২৫ সেপ্টেম্বরেই হচ্ছে রাকসু নির্বাচন?

কামরুজ্জামান, রাবি
  • প্রকাশের সময় : ০৯:১০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 192

তিন দশকেরও বেশি সময় পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন ঘিরে শিক্ষাঙ্গনে তৈরি হয়েছে অভূতপূর্ব আমেজ। ৩৫ বছর পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বহুল প্রতীক্ষিত এ নির্বাচন।

তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ক্যাম্পাসজুড়ে বইছে নির্বাচনী উৎসব। হলে হলে, আবাসিক এলাকায়, আর লিফলেটে লিফলেটে ভরে গেছে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। মাত্র দশ দিনের প্রচারণায় প্রার্থীরা নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিতে মরিয়া। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোট দিতে পারার উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছে।

তবে নির্বাচনী আমেজের মাঝে নতুন সংকটের সৃষ্টি করেছে পুনর্বহাল হওয়া পোষ্য কোটা। এতে যথাসময় রাকসু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে চলতি বছরের গত ২ জানুয়ারি পোষ্যকোটা বাতিলের ঘোষণা দেন রাবি উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব। এরপর থেকেই শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পোষ্য কোটাকে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা দাবি করে একের পর এক আন্দোলন শুরু করে। সর্বশেষ গত ১৭ সেপ্টেম্বর এক চিঠিতে ১৮ তারিখের মধ্যে দাবি আদায় না হলে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ণদিবস কর্মবিরতির ঘোষণা দেন তারা।

এরই প্রেক্ষিতে গতকাল ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে এক জরুরী একাডেমিক কমিটির সভা ডাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একাডেমিক সভায় ১০ শর্তে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর থেকেই ক্যাম্পাসজুড়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রতিবাদে গতকাল সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত উপাচার্যের বাসভবনের প্রধান ফটকে অবস্থান কর্মসূচি করেন ছাত্রদল, ছাত্র শিবির, সাবেক সমন্বয়কসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রচারণার মাঝে এমন সিদ্ধান্তকে রাকসু বানচালের পায়তারা হিসেবে দেখছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী তারিফুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চায়না শিক্ষার্থীরা রাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। রাকসু নির্বাচনে হয়ে গেলে তো প্রশাসনের যেকোনো অযৌক্তিক সিদ্ধান্তে তারা চাপ সৃষ্টি করতে পারবে। এজন্য রাকসু নির্বাচনের পাঁচদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পোষ্য কোটা ফিরিয়ে এনে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। যাতে রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হয়। আমরা পৌষ্য কোটা কোনোভাবেই চাই না, রাকসু নির্বাচনও যথাসময়ে চাই।

ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজম্ম প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী নাফিউল ইসলাম জীবন বলেন, রাকসু নির্বাচনের কিছুদিন পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পোষ্যকোটা পুনর্বহালের হটকারি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা প্রশাসনকে পোষ্য কোটা বাতিলের দাবি জানাই। পোষ্যকোটা ইস্যুতে রাকসু নির্বাচন চরম একটা আশঙ্কা বিরাজ করছে। তবে যতই শঙ্কা থাকুক না কেন, রাকসু আমরা ২৫ তারিখেই চাই। ২৫ তারিখ থেকে যেনো এক দিন এক ঘন্টার জন্যেও রাকসু না পিছায়ে যায়।

শিবির সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, পোষ্য কোটার মতো একটি মীমাংসিত ইস্যু ফিরিয়ে নিয়ে এসে আবার প্রমাণ করতে চাচ্ছে এই ক্যাম্পাসে রাকসু হওয়া সম্ভব না।আমাদের নির্বাচনী প্রচারণার সময় দিয়েছে মাত্র দশ দিন। এই অল্প দিনে ৩০ হাজার শিক্ষার্থীদের কাছে প্রচারণা করা সকলের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। এবং এরই মাঝে আবার পোষ্য কোটা পূর্ণবহাল যেটাকে আমরা রাকসু বানচালের প্রচেষ্টা বলছি।

সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের মিডিয়া ও প্রকাশনা সহ সম্পাদক পদপ্রার্থী মুনান হাওলাদার বলেন, পোষ্য কোটা ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা ইস্যুকে কেন্দ্র করে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পূর্ণদিবস কর্মবিরতিতে যাওয়া আসলে রাকসু নির্বাচন বানচালের প্রচেষ্টা বলেই মনে হচ্ছে। কারণ, দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর নির্বাচনের একেবারে আগ মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক।

বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন কি সত্যিই ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে, নাকি পোষ্য কোটার জটিলতায় আবারও পিছিয়ে যাবে রাকসু! প্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের এই শঙ্কার বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পোষ্য কোটা পূর্ণবহাল রাকসু নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় নয়। রাকসু নির্বাচন যথা সময়েই অনুষ্ঠিত হবে। আমাদের প্রার্থী কিংবা ভোটার—কেউ এ ইস্যুর সঙ্গে জড়িত নয়। আমি মনে করি, প্রশাসন বিষয়টি এমনভাবে সামাল দেবে যাতে নির্বাচনে এর কোনো প্রভাব না পড়ে।’

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

তবে কি ২৫ সেপ্টেম্বরেই হচ্ছে রাকসু নির্বাচন?

প্রকাশের সময় : ০৯:১০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

তিন দশকেরও বেশি সময় পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন ঘিরে শিক্ষাঙ্গনে তৈরি হয়েছে অভূতপূর্ব আমেজ। ৩৫ বছর পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বহুল প্রতীক্ষিত এ নির্বাচন।

তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ক্যাম্পাসজুড়ে বইছে নির্বাচনী উৎসব। হলে হলে, আবাসিক এলাকায়, আর লিফলেটে লিফলেটে ভরে গেছে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। মাত্র দশ দিনের প্রচারণায় প্রার্থীরা নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিতে মরিয়া। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোট দিতে পারার উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছে।

তবে নির্বাচনী আমেজের মাঝে নতুন সংকটের সৃষ্টি করেছে পুনর্বহাল হওয়া পোষ্য কোটা। এতে যথাসময় রাকসু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে চলতি বছরের গত ২ জানুয়ারি পোষ্যকোটা বাতিলের ঘোষণা দেন রাবি উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব। এরপর থেকেই শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পোষ্য কোটাকে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা দাবি করে একের পর এক আন্দোলন শুরু করে। সর্বশেষ গত ১৭ সেপ্টেম্বর এক চিঠিতে ১৮ তারিখের মধ্যে দাবি আদায় না হলে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ণদিবস কর্মবিরতির ঘোষণা দেন তারা।

এরই প্রেক্ষিতে গতকাল ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে এক জরুরী একাডেমিক কমিটির সভা ডাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একাডেমিক সভায় ১০ শর্তে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর থেকেই ক্যাম্পাসজুড়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রতিবাদে গতকাল সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত উপাচার্যের বাসভবনের প্রধান ফটকে অবস্থান কর্মসূচি করেন ছাত্রদল, ছাত্র শিবির, সাবেক সমন্বয়কসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রচারণার মাঝে এমন সিদ্ধান্তকে রাকসু বানচালের পায়তারা হিসেবে দেখছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী তারিফুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চায়না শিক্ষার্থীরা রাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। রাকসু নির্বাচনে হয়ে গেলে তো প্রশাসনের যেকোনো অযৌক্তিক সিদ্ধান্তে তারা চাপ সৃষ্টি করতে পারবে। এজন্য রাকসু নির্বাচনের পাঁচদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পোষ্য কোটা ফিরিয়ে এনে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। যাতে রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হয়। আমরা পৌষ্য কোটা কোনোভাবেই চাই না, রাকসু নির্বাচনও যথাসময়ে চাই।

ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজম্ম প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী নাফিউল ইসলাম জীবন বলেন, রাকসু নির্বাচনের কিছুদিন পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পোষ্যকোটা পুনর্বহালের হটকারি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা প্রশাসনকে পোষ্য কোটা বাতিলের দাবি জানাই। পোষ্যকোটা ইস্যুতে রাকসু নির্বাচন চরম একটা আশঙ্কা বিরাজ করছে। তবে যতই শঙ্কা থাকুক না কেন, রাকসু আমরা ২৫ তারিখেই চাই। ২৫ তারিখ থেকে যেনো এক দিন এক ঘন্টার জন্যেও রাকসু না পিছায়ে যায়।

শিবির সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, পোষ্য কোটার মতো একটি মীমাংসিত ইস্যু ফিরিয়ে নিয়ে এসে আবার প্রমাণ করতে চাচ্ছে এই ক্যাম্পাসে রাকসু হওয়া সম্ভব না।আমাদের নির্বাচনী প্রচারণার সময় দিয়েছে মাত্র দশ দিন। এই অল্প দিনে ৩০ হাজার শিক্ষার্থীদের কাছে প্রচারণা করা সকলের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। এবং এরই মাঝে আবার পোষ্য কোটা পূর্ণবহাল যেটাকে আমরা রাকসু বানচালের প্রচেষ্টা বলছি।

সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের মিডিয়া ও প্রকাশনা সহ সম্পাদক পদপ্রার্থী মুনান হাওলাদার বলেন, পোষ্য কোটা ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা ইস্যুকে কেন্দ্র করে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পূর্ণদিবস কর্মবিরতিতে যাওয়া আসলে রাকসু নির্বাচন বানচালের প্রচেষ্টা বলেই মনে হচ্ছে। কারণ, দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর নির্বাচনের একেবারে আগ মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক।

বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন কি সত্যিই ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে, নাকি পোষ্য কোটার জটিলতায় আবারও পিছিয়ে যাবে রাকসু! প্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের এই শঙ্কার বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পোষ্য কোটা পূর্ণবহাল রাকসু নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় নয়। রাকসু নির্বাচন যথা সময়েই অনুষ্ঠিত হবে। আমাদের প্রার্থী কিংবা ভোটার—কেউ এ ইস্যুর সঙ্গে জড়িত নয়। আমি মনে করি, প্রশাসন বিষয়টি এমনভাবে সামাল দেবে যাতে নির্বাচনে এর কোনো প্রভাব না পড়ে।’