Dhaka ১১:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যানসহ দুজনের ২৫ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যয় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দুই মাদক কারবারিকে সংশোধনে তাবলিগে পাঠালেন ওসি ভবঘুরে নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, ভিডিও ভাইরালের পর কিশোর গ্রেফতার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী পাসপোর্ট হারালে মানতে হবে নতুন নিয়ম, পরিপত্র জারি ইরানকে পারমাণবিক শক্তিধর হতে না দেয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে প্রশ্ন তুলল টিআইবি

নারুয়া-পাংশা সড়ক ধসে নদীগর্ভে, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

বালিয়াকান্দি প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ১১:৩৫:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 101

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া-পাংশা সংযোগ সড়কের ঘিকমলা চত্রা নদী এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সড়কের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ভাঙনে বিপর্যস্ত এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, নারুয়া ইউনিয়নের, খাটিয়াগড়া ঘিকমলা অঞ্চলে সড়কের বিশাল অংশ ধসে পড়েছে। বর্তমানে রিকশা-ভ্যানের মতো ছোট যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও ট্রাক ও বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। নদীর অপর প্রান্তের সড়কও ভেঙে গেছে, ফলে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চত্রা সেতুর দুই পাড়ও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, চত্রা নদী খননের দায়িত্ব পাওয়া একটি দুর্বৃত্তচক্র অনুমোদন ছাড়া সড়কের পাশ থেকে অতিরিক্ত মাটি কেটে বিক্রি করেছে। যে কারণে সড়কে দুর্বল হয়ে নদীতে ধ্বসে পরেছে গেছে। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন“সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে সড়ক নির্মাণ করেছে। অথচ অপরিকল্পিত খনন ও মাটি কাটার কারণে সব নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এখন এই সড়ক সাধারণ মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।”

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিত খনন কাজ এবং রাস্তা নির্মাণের সময় প্যালা সাইড না থাকায় ভাঙনের মাত্রা বেড়েছে। এর ফলে চরবিলধামু, চরঘিকমলা, খাটিয়াগড়া ও মরাবিলা গ্রামেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী (এলজিইডি) খন্দকার রাহাত ফেরদৌস বলেন,“বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড চত্রা নদী খননের সময় রাস্তার পাশ থেকে গভীরভাবে অপরিকল্পিত মাটি কাটার ফলে এ ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। ফরিদপুর অঞ্চলিক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনন্দ কুমার ঘোষ ও রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী ইউসুফ হোসেন ইতোমধ্যেই পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে নির্বাহী প্রকৌশলী ইউসুফ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে প্রতিদিন ভাঙনের মাত্রা বাড়ছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে নারুয়া-পাংশা সড়ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গ্রামীণ জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

নারুয়া-পাংশা সড়ক ধসে নদীগর্ভে, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

প্রকাশের সময় : ১১:৩৫:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া-পাংশা সংযোগ সড়কের ঘিকমলা চত্রা নদী এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সড়কের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ভাঙনে বিপর্যস্ত এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, নারুয়া ইউনিয়নের, খাটিয়াগড়া ঘিকমলা অঞ্চলে সড়কের বিশাল অংশ ধসে পড়েছে। বর্তমানে রিকশা-ভ্যানের মতো ছোট যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও ট্রাক ও বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। নদীর অপর প্রান্তের সড়কও ভেঙে গেছে, ফলে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চত্রা সেতুর দুই পাড়ও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, চত্রা নদী খননের দায়িত্ব পাওয়া একটি দুর্বৃত্তচক্র অনুমোদন ছাড়া সড়কের পাশ থেকে অতিরিক্ত মাটি কেটে বিক্রি করেছে। যে কারণে সড়কে দুর্বল হয়ে নদীতে ধ্বসে পরেছে গেছে। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন“সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে সড়ক নির্মাণ করেছে। অথচ অপরিকল্পিত খনন ও মাটি কাটার কারণে সব নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এখন এই সড়ক সাধারণ মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।”

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিত খনন কাজ এবং রাস্তা নির্মাণের সময় প্যালা সাইড না থাকায় ভাঙনের মাত্রা বেড়েছে। এর ফলে চরবিলধামু, চরঘিকমলা, খাটিয়াগড়া ও মরাবিলা গ্রামেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী (এলজিইডি) খন্দকার রাহাত ফেরদৌস বলেন,“বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড চত্রা নদী খননের সময় রাস্তার পাশ থেকে গভীরভাবে অপরিকল্পিত মাটি কাটার ফলে এ ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। ফরিদপুর অঞ্চলিক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনন্দ কুমার ঘোষ ও রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী ইউসুফ হোসেন ইতোমধ্যেই পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে নির্বাহী প্রকৌশলী ইউসুফ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে প্রতিদিন ভাঙনের মাত্রা বাড়ছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে নারুয়া-পাংশা সড়ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গ্রামীণ জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।