Dhaka ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে গিয়ে বাঁচতে পারে অন্তত ৫টি অণুজীব! ‘শুধু ভালো ফল নয়, ভালো মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে’ নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে নিহত বেড়ে ৯৫, নিখোঁজ ৪০৩ প্রতারণা মামলায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর, কারাগারে বিদিশা দক্ষিণ চীন সাগরে ছোট দ্বীপে সামরিক স্থাপনা গড়ে তুলছে বেইজিং বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা সরকারের লক্ষ্য কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা: কৃষিমন্ত্রী ঝিনাইদহে পৃথক দুর্ঘটনায় এক দিনে চারজনের মৃত্যু আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে নেপালে নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক শিগগিরই শুরু হচ্ছে রান্না করা মিড-ডে মিলের পাইলট প্রকল্প: ববি হাজ্জাজ
নিউইয়র্ক টাইমসের দাবি

উত্তর কোরিয়ায় নজরদারি যন্ত্র বসাতে বেসামরিকদের হত্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৮:০৯:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 101

নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন সামরিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০১৯ সালে উত্তর কোরিয়ায় নজরদারি যন্ত্র বসানোর অভিযানে তিন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে মার্কিন নেভি সিল টিম–৬। এই অভিযানে বিশেষভাবে টানা কয়েক মাস প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রেড স্কোয়াড্রনকে মাঠে পাঠানো হয়েছিল।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি দাবি করেছেন যে তিনি এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই তথ্য ফাঁস ট্রাম্প–কিম পরমাণু আলোচনার ভবিষ্যতকে গভীর অনিশ্চয়তায় ঠেলে দিয়েছে। অভিযানের ব্যর্থতা এবং সন্ত্রাসমূলক ফলাফল পরবর্তীতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ভিয়েতনামে ট্রাম্প–কিম বৈঠকের আগে হোয়াইট হাউস উত্তর কোরিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত নজরদারি বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়। অভিযানের সময় হঠাৎ সামনে আসে একটি উত্তর কোরীয় মাছ ধরার নৌকা, এবং গোপনীয়তা রক্ষার জন্য তিন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করতে হয়। অভিযানের ফলাফল ব্যর্থ হয়, এবং দলটি ফিরে আসে।

এরপর উত্তর কোরিয়ার সামরিক তৎপরতায় অস্বাভাবিক উত্থান দেখা দেয়। পিয়ংইয়ং ওই ঘটনার গভীরে পৌঁছেছে কি না, তা এখনো অজানা। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই রক্তাক্ত অভিযান ট্রাম্প–কিম বৈঠকে সমঝোতা ব্যর্থতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এমন সংবেদনশীল অপারেশন প্রেসিডেন্টের অনুমোদন ছাড়া সম্ভব নয়, যদিও ট্রাম্প সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

আইনি দিক থেকেও এই ঘটনাটি বিতর্কিত। নিয়ম অনুযায়ী, কংগ্রেসের গোয়েন্দা কমিটিকে এমন অভিযান জানানো বাধ্যতামূলক হলেও এটি গোপন রাখা হয়। অংশগ্রহণকারী কিছু অফিসার পরে পদোন্নতি পান। বাইডেন প্রশাসন ২০২১ সালে তদন্ত শুরু করলেও পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট এখনও প্রকাশিত হয়নি। এই ঘটনার প্রভাব কেবল কূটনৈতিক নয়, আন্তর্জাতিক আইনি এবং নৈতিক দিক থেকেও তা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

নিউইয়র্ক টাইমসের দাবি

উত্তর কোরিয়ায় নজরদারি যন্ত্র বসাতে বেসামরিকদের হত্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশের সময় : ০৮:০৯:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন সামরিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০১৯ সালে উত্তর কোরিয়ায় নজরদারি যন্ত্র বসানোর অভিযানে তিন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে মার্কিন নেভি সিল টিম–৬। এই অভিযানে বিশেষভাবে টানা কয়েক মাস প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রেড স্কোয়াড্রনকে মাঠে পাঠানো হয়েছিল।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি দাবি করেছেন যে তিনি এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই তথ্য ফাঁস ট্রাম্প–কিম পরমাণু আলোচনার ভবিষ্যতকে গভীর অনিশ্চয়তায় ঠেলে দিয়েছে। অভিযানের ব্যর্থতা এবং সন্ত্রাসমূলক ফলাফল পরবর্তীতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ভিয়েতনামে ট্রাম্প–কিম বৈঠকের আগে হোয়াইট হাউস উত্তর কোরিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত নজরদারি বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়। অভিযানের সময় হঠাৎ সামনে আসে একটি উত্তর কোরীয় মাছ ধরার নৌকা, এবং গোপনীয়তা রক্ষার জন্য তিন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করতে হয়। অভিযানের ফলাফল ব্যর্থ হয়, এবং দলটি ফিরে আসে।

এরপর উত্তর কোরিয়ার সামরিক তৎপরতায় অস্বাভাবিক উত্থান দেখা দেয়। পিয়ংইয়ং ওই ঘটনার গভীরে পৌঁছেছে কি না, তা এখনো অজানা। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই রক্তাক্ত অভিযান ট্রাম্প–কিম বৈঠকে সমঝোতা ব্যর্থতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এমন সংবেদনশীল অপারেশন প্রেসিডেন্টের অনুমোদন ছাড়া সম্ভব নয়, যদিও ট্রাম্প সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

আইনি দিক থেকেও এই ঘটনাটি বিতর্কিত। নিয়ম অনুযায়ী, কংগ্রেসের গোয়েন্দা কমিটিকে এমন অভিযান জানানো বাধ্যতামূলক হলেও এটি গোপন রাখা হয়। অংশগ্রহণকারী কিছু অফিসার পরে পদোন্নতি পান। বাইডেন প্রশাসন ২০২১ সালে তদন্ত শুরু করলেও পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট এখনও প্রকাশিত হয়নি। এই ঘটনার প্রভাব কেবল কূটনৈতিক নয়, আন্তর্জাতিক আইনি এবং নৈতিক দিক থেকেও তা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে।