‘আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক, আমরা জমিদার’ জামায়াত নেতার বক্তব্য ভাইরাল
- প্রকাশের সময় : ০৫:৩৫:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 91
চট্টগ্রাম-৫ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ প্রার্থী ও হাটহাজারী উপজেলা জামায়াত আমির ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মালিক। আমরা জমিদার।
গতকাল শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে জামায়াতের ওই নেতার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরে তাৎক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট, এ এফ রহমান হল ও শহীদ ফরহাদ হোসেন হলের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন কিছু শিক্ষার্থী।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার জোবরা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি, তাই কেউ হস্তক্ষেপ করলে তা মেনে নেওয়া হবে না। এছাড়াও, তিনি দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় যদি যথাযথ সম্মান না দেয়, তবে জনগণ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছাত্রদের বিক্ষোভের মুখে শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে সিরাজুল ইসলাম ক্ষমা চান। তিনি লেখেন, বক্তব্যের কিছু অংশ অনেকের কাছে ভুলভাবে উপস্থাপিত হতে পারে। এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত। আমার শব্দচয়নে কিছুটা ভুল হতে পারে, তবে আমার উদ্দেশ্য এমনটি ছিল না। আমি গত ১৬ বছর ধরে চবিতে চাকরি করেছি। শিক্ষার্থীরা জানে আমি তাদের কতটুকু স্নেহ করি। আহত ছাত্রদের খোঁজ খবর নিয়েছি এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি। আমার বক্তব্যে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে, তাদের কাছে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ক্ষমা চাচ্ছি। ভবিষ্যতে আমি আমার শব্দচয়নের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকবো।
এদিকে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির জামায়াত নেতা সিরাজুল ইসলামের বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।
আজ শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, হাটহাজারী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সংসদ প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম জোবরা এলাকায় মতবিনিময় সভায় অহংকারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করেছেন।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, তার বক্তব্য প্রকৃত সন্ত্রাসীদের অপকর্মকে আড়াল করার চেষ্টা এবং স্থানীয় সন্ত্রাসীদের দায়মুক্তি দেওয়ার প্রমাণ। এছাড়া, ছাত্রশিবির অভিযোগ করে, এই ঘটনায় স্থানীয় ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের সরাসরি অংশ রয়েছে। হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে এক বিএনপি নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি, যদিও তারা ছাত্রদলের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত।
উল্লেখ্য, গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। সেই প্রেক্ষাপটে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সিরাজুল ইসলানের বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়া হয়।


























