Dhaka ০১:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

বালিয়াকান্দিতে জলাবদ্ধতায় ভাসছে প্রাণীসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল, চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

ইমদাদুল হক রানা, বালিয়াকান্দি
  • প্রকাশের সময় : ০৭:০৪:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫
  • / 276

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল বর্তমানে চরম জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। টানা বর্ষণের ফলে হাসপাতাল চত্বর, ভবনের প্রবেশদ্বার সহ আশপাশে পানি জমে থাকায় ব্যাহত হচ্ছে পশু চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম।

৩১ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতাল ভবনের চারপাশে পানি উপচে চত্বরজুড়ে থৈ থৈ করছে। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রোগী খামারিদের যাতায়াতে তৈরি হয়েছে চরম দুর্ভোগ। অনেককে পানির মধ্য দিয়ে ভিজে ভিজে অফিসে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।
নারুয়া ইউনিয়ন থেকে ছাগল নিয়ে আসা কয়েকজন খামারি জানান, জলাবদ্ধতার কারণে পশুকে দাঁড় করিয়ে রাখা যাচ্ছে না, এমনকি খাবার খাওয়ানোরও সুযোগ নেই। একজন ভুক্তভোগী বলেন,”ডাক্তার সেবা দিলেও চারদিকে পানি থই থই করছে। অসুস্থ পশুর জন্য এটা আরও বিপজ্জনক।”
এ বিষয়ে নারুয়া ইউনিয়নের লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডার (এলএসপি) মোঃ আবু দাউদ জানান,
“অতিবৃষ্টির কারণে হাসপাতালের চারপাশে পানি জমেছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে বৃষ্টি কমে গেলে পানি সরে যাবে এবং চিকিৎসা সেবা স্বাভাবিক হবে।”
হাসপাতালের প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মানবেন্দ্র মজুমদার বলেন,”বৃষ্টির পানি জমে হাসপাতাল নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। পানি বের হওয়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থার অভাবে এমন দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে।”
বালিয়াকান্দী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয় এর অবস্থান নিচু জায়গায় এবং চারিদিকের রাস্তা উঁচু হওয়ায় প্রতি বছরই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সমস্যা নিরসনে প্রানী সম্পদ কার্যালয়কে সম্ভব সকল উপায়ে সহযোগিতা করা হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালটি নিচু এলাকায় অবস্থিত এবং পানিনিষ্কাশনের কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়, ফলে বারবার একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।তারা অবিলম্বে হাসপাতাল চত্বরে পর্যাপ্ত ড্রেন নির্মাণসহ স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে পশু চিকিৎসা সেবা ব্যাহত না হয় এবং রোগী ও খামারিরা সঠিক সেবা পেতে পারেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বালিয়াকান্দিতে জলাবদ্ধতায় ভাসছে প্রাণীসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল, চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

প্রকাশের সময় : ০৭:০৪:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল বর্তমানে চরম জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। টানা বর্ষণের ফলে হাসপাতাল চত্বর, ভবনের প্রবেশদ্বার সহ আশপাশে পানি জমে থাকায় ব্যাহত হচ্ছে পশু চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম।

৩১ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতাল ভবনের চারপাশে পানি উপচে চত্বরজুড়ে থৈ থৈ করছে। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রোগী খামারিদের যাতায়াতে তৈরি হয়েছে চরম দুর্ভোগ। অনেককে পানির মধ্য দিয়ে ভিজে ভিজে অফিসে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।
নারুয়া ইউনিয়ন থেকে ছাগল নিয়ে আসা কয়েকজন খামারি জানান, জলাবদ্ধতার কারণে পশুকে দাঁড় করিয়ে রাখা যাচ্ছে না, এমনকি খাবার খাওয়ানোরও সুযোগ নেই। একজন ভুক্তভোগী বলেন,”ডাক্তার সেবা দিলেও চারদিকে পানি থই থই করছে। অসুস্থ পশুর জন্য এটা আরও বিপজ্জনক।”
এ বিষয়ে নারুয়া ইউনিয়নের লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডার (এলএসপি) মোঃ আবু দাউদ জানান,
“অতিবৃষ্টির কারণে হাসপাতালের চারপাশে পানি জমেছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে বৃষ্টি কমে গেলে পানি সরে যাবে এবং চিকিৎসা সেবা স্বাভাবিক হবে।”
হাসপাতালের প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মানবেন্দ্র মজুমদার বলেন,”বৃষ্টির পানি জমে হাসপাতাল নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। পানি বের হওয়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থার অভাবে এমন দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে।”
বালিয়াকান্দী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয় এর অবস্থান নিচু জায়গায় এবং চারিদিকের রাস্তা উঁচু হওয়ায় প্রতি বছরই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সমস্যা নিরসনে প্রানী সম্পদ কার্যালয়কে সম্ভব সকল উপায়ে সহযোগিতা করা হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালটি নিচু এলাকায় অবস্থিত এবং পানিনিষ্কাশনের কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়, ফলে বারবার একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।তারা অবিলম্বে হাসপাতাল চত্বরে পর্যাপ্ত ড্রেন নির্মাণসহ স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে পশু চিকিৎসা সেবা ব্যাহত না হয় এবং রোগী ও খামারিরা সঠিক সেবা পেতে পারেন।