Dhaka ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধুখালীতে লিচুর ফলনে বাগান মালিকরা হতাশ

শাহজাহান হেলাল, মধুখালী
  • প্রকাশের সময় : ০২:৪২:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ মে ২০২৫
  • / 241

 ফরিদপুরের মধুখালীতে চলতি বছর অনুকূল আবহাওয়ার অভাবে এবং স্বল্প বৃষ্টিপাতের কারণে আশানুরূপ ফলন হয়নি। ফলে চাষিরা  হতাশ।

উপজেলার জাহাপুর, দোস্তরদিয়া, টেংরাকান্দি, মনোহরদিয়া, চর মনোহরদিয়া, খাড়াকান্দি ও মির্জাকান্দি গ্রামে ব্যাপকভাবে লিচুর চাষ হয়ে থাকে। মোজাফফরি জাতের পাশাপাশি গুটি, বোম্বাই এবং চায়না-থ্রি জাতের লিচুর চাষ দেখা যায় এসব এলাকায়। উপজেলা  কৃষি অফিসের তথ্য মতে  উপজেলায় শতাধিক বাগানে এ বছর ৯৫ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে শুধু জাহাপুরেই রয়েছে ৪০ হেক্টর জমি। জাহাপুর গ্রামের লিচুর বাগান মালিক আক্কাস আলী জানান, গত কয়েক বছর ধরে লিচু আবাদ করছি। এবার একটি বাগান কিনেছি ১ লাখ ৭২ হাজার টাকায়। এবার বৃষ্টি কম হওয়ায় এ বছর ফলন সন্তোষজনক হয়নি। প্রতিটি লিচুর সংগ্রহমূল্য ৬০/৭০পয়সা। তবে কীটনাশক, লেবার, পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি লিচুর গড় খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২ টাকা।

নাটোর থেকে আসা মৌসুমি শ্রমিক শাওন জানান, প্রতিদিন ১৫/২০টি গাছ থেকে গড়ে ২ হাজারের মতো লিচু সংগ্রহ করেন তারা। একদিনের মজুরি হিসেবে তিনি ৬শ থেকে ৭শ টাকা পান। টেংরাকান্দি গ্রামের পারভীন আক্তার বলেন, “প্রতি বছরই লিচুর চাষ করি। ভালো দাম পাওয়ায় এ চাষে আগ্রহ বেড়েছে। এখানকার লিচু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।

মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব এলাহী বলেন, এ বছর বৃষ্টিপাত তুলনামূলক কম হওয়ায় গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। ফলনও অন্যান্য বছরের তুলনায় কম। তবে প্রযুক্তি নির্ভর পরিচর্যা এবং জলসেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

মধুখালীর লিচু ফরিদপুর ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হয়। মে মাসের মাঝামাঝি থেকে পুরোদমে লিচু সংগ্রহ শুরু হয় এবং জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে থাকে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মধুখালীতে লিচুর ফলনে বাগান মালিকরা হতাশ

প্রকাশের সময় : ০২:৪২:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ মে ২০২৫

 ফরিদপুরের মধুখালীতে চলতি বছর অনুকূল আবহাওয়ার অভাবে এবং স্বল্প বৃষ্টিপাতের কারণে আশানুরূপ ফলন হয়নি। ফলে চাষিরা  হতাশ।

উপজেলার জাহাপুর, দোস্তরদিয়া, টেংরাকান্দি, মনোহরদিয়া, চর মনোহরদিয়া, খাড়াকান্দি ও মির্জাকান্দি গ্রামে ব্যাপকভাবে লিচুর চাষ হয়ে থাকে। মোজাফফরি জাতের পাশাপাশি গুটি, বোম্বাই এবং চায়না-থ্রি জাতের লিচুর চাষ দেখা যায় এসব এলাকায়। উপজেলা  কৃষি অফিসের তথ্য মতে  উপজেলায় শতাধিক বাগানে এ বছর ৯৫ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে শুধু জাহাপুরেই রয়েছে ৪০ হেক্টর জমি। জাহাপুর গ্রামের লিচুর বাগান মালিক আক্কাস আলী জানান, গত কয়েক বছর ধরে লিচু আবাদ করছি। এবার একটি বাগান কিনেছি ১ লাখ ৭২ হাজার টাকায়। এবার বৃষ্টি কম হওয়ায় এ বছর ফলন সন্তোষজনক হয়নি। প্রতিটি লিচুর সংগ্রহমূল্য ৬০/৭০পয়সা। তবে কীটনাশক, লেবার, পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি লিচুর গড় খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২ টাকা।

নাটোর থেকে আসা মৌসুমি শ্রমিক শাওন জানান, প্রতিদিন ১৫/২০টি গাছ থেকে গড়ে ২ হাজারের মতো লিচু সংগ্রহ করেন তারা। একদিনের মজুরি হিসেবে তিনি ৬শ থেকে ৭শ টাকা পান। টেংরাকান্দি গ্রামের পারভীন আক্তার বলেন, “প্রতি বছরই লিচুর চাষ করি। ভালো দাম পাওয়ায় এ চাষে আগ্রহ বেড়েছে। এখানকার লিচু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।

মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব এলাহী বলেন, এ বছর বৃষ্টিপাত তুলনামূলক কম হওয়ায় গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। ফলনও অন্যান্য বছরের তুলনায় কম। তবে প্রযুক্তি নির্ভর পরিচর্যা এবং জলসেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

মধুখালীর লিচু ফরিদপুর ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হয়। মে মাসের মাঝামাঝি থেকে পুরোদমে লিচু সংগ্রহ শুরু হয় এবং জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে থাকে।