Dhaka ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিপর্যয়ের মুখে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্বপ্ন

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৪৮:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫
  • / 131

নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতে থাকলেও, দুটি ম্যাচে হেরে বাংলাদেশের নারীদের বিশ্বকাপ আশা এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। দলের সামনে ছিল সুযোগ—ওয়েস্ট ইন্ডিজ অথবা পাকিস্তান যে কোনও একটি দলের বিপক্ষে জয় পেলেই ২০২৬ নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপের জন্য জায়গা নিশ্চিত হয়ে যেতে পারত। তবে বাস্তবতা ভিন্ন, পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭ উইকেটে পরাজিত হওয়ার পর টাইগ্রেসদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন এখন ঝুলন্ত অবস্থায়।

আজ পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ তুলেছিল ১৭৮ রান। কিন্তু পাকিস্তান তখন থেকেই ম্যাচে চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে। মুনিবা আলী এবং আলিয়া রিয়াজের জোড়া অর্ধশতক পাকিস্তানকে সহজ জয় এনে দেয়। মাত্র ৬২ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে তারা।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরাজয়ের পর বাংলাদেশের নেট রানরেট ০.৬৪-এ নেমে এসেছে, যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানরেট -০.২৮। এর মানে হলো, এখন যদি থাইল্যান্ডের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয় না পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তবেই কেবল বাংলাদেশ সুযোগ পাবে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার।

বাংলাদেশের জন্য এটি ছিল এক অদ্ভুত পরিণতি। পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের যে সুযোগ ছিল, তা তারা কাজে লাগাতে পারেনি। বাংলাদেশের ব্যাটিং ইউনিটে শুরুর দিকে ব্যর্থতা ছিল দৃশ্যমান। শারমিন আক্তারের ২৪ এবং রিতু মনির ৪৮ রানের কিছুটা ভরসা ছিল, তবে বাকিরা দলের ভিতরে বড় অবদান রাখতে পারেননি।

ফাহিমা খাতুনের ৪৪ রানে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ১৭৮ রান পার করতে সক্ষম হয়, কিন্তু সেটা যথেষ্ট ছিল না। বোলিং ইউনিটও আশা জাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। একের পর এক ক্যাচ মিস করেছে ফিল্ডাররা, আর পাকিস্তানকে চাপ দিতে পারিনি বোলাররা।

পাকিস্তানের দুই ওপেনার সিদরা আমিন ও মুনিবা আলী মিলে দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেন ৮০ রান। এর পর মুনিবা ও আলিয়া রিয়াজের মধ্যে ৩য় উইকেটে ৭৪ রানের একটি বড় জুটি গড়ে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত হয়।

এখন বাংলাদেশের সামনে একমাত্র পথ, যে কোনও মূল্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তাদের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখা। যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজ থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে বড় জয় না পায়, তবে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারবে।

এখনও একটি সুযোগ রয়েছে, তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য প্রত্যাশা আরও বড়—পরবর্তী ম্যাচে যদি টাইগ্রেসরা নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে পারে, তবে বিশ্বকাপের স্বপ্ন একেবারে জীবন্ত থাকবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বিপর্যয়ের মুখে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্বপ্ন

প্রকাশের সময় : ০৫:৪৮:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫

নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতে থাকলেও, দুটি ম্যাচে হেরে বাংলাদেশের নারীদের বিশ্বকাপ আশা এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। দলের সামনে ছিল সুযোগ—ওয়েস্ট ইন্ডিজ অথবা পাকিস্তান যে কোনও একটি দলের বিপক্ষে জয় পেলেই ২০২৬ নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপের জন্য জায়গা নিশ্চিত হয়ে যেতে পারত। তবে বাস্তবতা ভিন্ন, পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭ উইকেটে পরাজিত হওয়ার পর টাইগ্রেসদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন এখন ঝুলন্ত অবস্থায়।

আজ পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ তুলেছিল ১৭৮ রান। কিন্তু পাকিস্তান তখন থেকেই ম্যাচে চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে। মুনিবা আলী এবং আলিয়া রিয়াজের জোড়া অর্ধশতক পাকিস্তানকে সহজ জয় এনে দেয়। মাত্র ৬২ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে তারা।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরাজয়ের পর বাংলাদেশের নেট রানরেট ০.৬৪-এ নেমে এসেছে, যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানরেট -০.২৮। এর মানে হলো, এখন যদি থাইল্যান্ডের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয় না পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তবেই কেবল বাংলাদেশ সুযোগ পাবে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার।

বাংলাদেশের জন্য এটি ছিল এক অদ্ভুত পরিণতি। পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের যে সুযোগ ছিল, তা তারা কাজে লাগাতে পারেনি। বাংলাদেশের ব্যাটিং ইউনিটে শুরুর দিকে ব্যর্থতা ছিল দৃশ্যমান। শারমিন আক্তারের ২৪ এবং রিতু মনির ৪৮ রানের কিছুটা ভরসা ছিল, তবে বাকিরা দলের ভিতরে বড় অবদান রাখতে পারেননি।

ফাহিমা খাতুনের ৪৪ রানে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ১৭৮ রান পার করতে সক্ষম হয়, কিন্তু সেটা যথেষ্ট ছিল না। বোলিং ইউনিটও আশা জাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। একের পর এক ক্যাচ মিস করেছে ফিল্ডাররা, আর পাকিস্তানকে চাপ দিতে পারিনি বোলাররা।

পাকিস্তানের দুই ওপেনার সিদরা আমিন ও মুনিবা আলী মিলে দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেন ৮০ রান। এর পর মুনিবা ও আলিয়া রিয়াজের মধ্যে ৩য় উইকেটে ৭৪ রানের একটি বড় জুটি গড়ে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত হয়।

এখন বাংলাদেশের সামনে একমাত্র পথ, যে কোনও মূল্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তাদের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখা। যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজ থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে বড় জয় না পায়, তবে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারবে।

এখনও একটি সুযোগ রয়েছে, তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য প্রত্যাশা আরও বড়—পরবর্তী ম্যাচে যদি টাইগ্রেসরা নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে পারে, তবে বিশ্বকাপের স্বপ্ন একেবারে জীবন্ত থাকবে।