Dhaka ১২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেখ জুয়েল হয়ে গেলেন বিধান মল্লিক, নিয়েছেন ভারতের নাগরিকত্ব

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:১৮:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫
  • / 191

ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে পতিত সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই সেখ সালাহউদ্দিন ওরফে সেখ জুয়েল নিজের পরিচয় বদলিয়ে হয়ে গেছেন বিধান মল্লিক। তিনি নিজেকে ভারতীয় নাগরীক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। বাগিয়ে নিয়েছেন ভারতীয় আধার কার্ড। যেখানে তার নাম বিধান মল্লিক হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে।

তার বাবার নাম শেখ আবু নাছের হলেও নতুন পরিচয়ে বাবা এখন মুদিন্দ্রনাথ মল্লিক। আর এই পরিচয়ে চষে বেড়াচ্ছেন ভারতের এপাশ থেকে ওপাশ। বাংলাদেশের সাবেক প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ভাতিজার এমন কাণ্ডে রীতিমতো কপালে চোখ উঠেছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের।

অনেকে বলছেন, শেখ পরিবারের এমন প্রভাবশালী সদস্যের এমন কাজ করাটা কোনোভাবেই মানায়নি। তবে শুধু সেখ জুয়েল নন, একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দেশের অন্যতম প্রভাবশালী শেখ পরিবারের অনেক সদস্যই বর্তমানে ভারতীয় আধার কার্ড গ্রহণ করেছেন। সেখ জুয়েলের ভারতীয় আধার কার্ডের একটি কপি ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।

এটি পর্যালোচনা করলে দেখা যাচ্ছে, তাতে সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল নাম পাল্টে হয়েছেন বিধান মল্লিক। বাবার নাম মুদিন্দ্রনাথ মল্লিক। জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৫৯। আধার কার্ড নম্বর ৮৪৪২০৫৬৭৫৭২৬। ঠিকানা, শাড়াপুল শাড়াপুল, ডাকবাংলো স্বরূপনগর, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ ৭৪৩২৮৬।

এদিকে সেখ জুয়েলের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী নাম হলো- সেখ সালাহউদ্দিন (SHAIKH SALAUDDIN)। বাবা সেখ আবু নাছের। মাতা- রাজিয়া খাতুন। জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৬৭। পরিচয়পত্রের নম্বর ১৯৬৭২৬৯২৬১৯০০০০৩৩। ঠিকানা বাসা-৩৬৩, গ্রাম/রাস্তা- শেরেবাংলা রোড, ডাকঘর-সোনাডাঙ্গা-৯১০০। সোনাডাঙ্গা, খুলনা।

জানা যায়, ২০১৮ সালে খুলনা-২ সংসদীয় আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সেখ সালাহউদ্দিন। ২০২৪ সালেও তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কাগজপত্রে তিনি সেখ সালাহউদ্দিন হলেও সর্বত্র তিনি সেখ জুয়েল নামেই বেশি পরিচিত। গত ৫ আগস্টে গণ অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকার পতনের পরপরই সেখ জুয়েলসহ শেখ পরিবারের প্রায় সবাই ভারতে আশ্রয় নেন। এর আগে শেখ পরিবারের অনেকেই ৬২৬ জনের মধ্যে ছিলেন সেনাবাহিনীর হেফাজতে। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে সময় সুুযোগমতো ক্যান্টনমেন্টের নিরাপত্তা হেফাজত থেকে বের হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান।

একাধিক সূত্র বলছে, ভারতে আশ্রয় নেওয়া অনেককে আবার ট্রাভেল কার্ডও দেওয়া হয়েছে। সেই কার্ড ব্যবহার করে তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করতে পারছেন। তবে সেখ জুয়েল কলকাতাতেই বেশির ভাগ সময় কাটাচ্ছেন। তার বড় ভাই শেখ হেলাল, শেখ সোহেল এবং ছোট ভাই শেখ রুবেলও পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাতেই অবস্থান করছেন।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

সেখ জুয়েল হয়ে গেলেন বিধান মল্লিক, নিয়েছেন ভারতের নাগরিকত্ব

প্রকাশের সময় : ০৯:১৮:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫

ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে পতিত সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই সেখ সালাহউদ্দিন ওরফে সেখ জুয়েল নিজের পরিচয় বদলিয়ে হয়ে গেছেন বিধান মল্লিক। তিনি নিজেকে ভারতীয় নাগরীক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। বাগিয়ে নিয়েছেন ভারতীয় আধার কার্ড। যেখানে তার নাম বিধান মল্লিক হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে।

তার বাবার নাম শেখ আবু নাছের হলেও নতুন পরিচয়ে বাবা এখন মুদিন্দ্রনাথ মল্লিক। আর এই পরিচয়ে চষে বেড়াচ্ছেন ভারতের এপাশ থেকে ওপাশ। বাংলাদেশের সাবেক প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ভাতিজার এমন কাণ্ডে রীতিমতো কপালে চোখ উঠেছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের।

অনেকে বলছেন, শেখ পরিবারের এমন প্রভাবশালী সদস্যের এমন কাজ করাটা কোনোভাবেই মানায়নি। তবে শুধু সেখ জুয়েল নন, একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দেশের অন্যতম প্রভাবশালী শেখ পরিবারের অনেক সদস্যই বর্তমানে ভারতীয় আধার কার্ড গ্রহণ করেছেন। সেখ জুয়েলের ভারতীয় আধার কার্ডের একটি কপি ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।

এটি পর্যালোচনা করলে দেখা যাচ্ছে, তাতে সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল নাম পাল্টে হয়েছেন বিধান মল্লিক। বাবার নাম মুদিন্দ্রনাথ মল্লিক। জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৫৯। আধার কার্ড নম্বর ৮৪৪২০৫৬৭৫৭২৬। ঠিকানা, শাড়াপুল শাড়াপুল, ডাকবাংলো স্বরূপনগর, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ ৭৪৩২৮৬।

এদিকে সেখ জুয়েলের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী নাম হলো- সেখ সালাহউদ্দিন (SHAIKH SALAUDDIN)। বাবা সেখ আবু নাছের। মাতা- রাজিয়া খাতুন। জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৬৭। পরিচয়পত্রের নম্বর ১৯৬৭২৬৯২৬১৯০০০০৩৩। ঠিকানা বাসা-৩৬৩, গ্রাম/রাস্তা- শেরেবাংলা রোড, ডাকঘর-সোনাডাঙ্গা-৯১০০। সোনাডাঙ্গা, খুলনা।

জানা যায়, ২০১৮ সালে খুলনা-২ সংসদীয় আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সেখ সালাহউদ্দিন। ২০২৪ সালেও তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কাগজপত্রে তিনি সেখ সালাহউদ্দিন হলেও সর্বত্র তিনি সেখ জুয়েল নামেই বেশি পরিচিত। গত ৫ আগস্টে গণ অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকার পতনের পরপরই সেখ জুয়েলসহ শেখ পরিবারের প্রায় সবাই ভারতে আশ্রয় নেন। এর আগে শেখ পরিবারের অনেকেই ৬২৬ জনের মধ্যে ছিলেন সেনাবাহিনীর হেফাজতে। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে সময় সুুযোগমতো ক্যান্টনমেন্টের নিরাপত্তা হেফাজত থেকে বের হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান।

একাধিক সূত্র বলছে, ভারতে আশ্রয় নেওয়া অনেককে আবার ট্রাভেল কার্ডও দেওয়া হয়েছে। সেই কার্ড ব্যবহার করে তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করতে পারছেন। তবে সেখ জুয়েল কলকাতাতেই বেশির ভাগ সময় কাটাচ্ছেন। তার বড় ভাই শেখ হেলাল, শেখ সোহেল এবং ছোট ভাই শেখ রুবেলও পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাতেই অবস্থান করছেন।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন