বালিয়াকান্দিতে সালিশ চলাকালে হামলা, আহত ১৫
- প্রকাশের সময় : ০৭:০৩:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫
- / 231
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে উপজেলা সালিশ চলাকালে হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ১৫ জন আহত হয়েছেন। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের বিলটাকাপোড়া ঈদগাহ ময়দানে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতরা হলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন মোল্লা, তার ছেলে রাশিদুল ইসলাম, দুই ভাই যথাক্রমে হুমায়ুন কবির ও মোহাম্মদ বাচ্চু মিয়া, ফরহাদ হোসেন, সবুর শিকদার, বাবলু মন্ডল, ইমান আলী মন্ডল, আব্দুর রহিম মাস্টার, তুহিন মোল্লা, ইলিয়াস সিকদার, আশরাফ সিকদার, জিল্লু সিকদার, জাহিদ হোসেন ও নাসির। আহতরা বর্তমানে ফরিদপুর ও বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তাদের সবার বাড়ি একই গ্রামে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নারুয়া ইউনিয়নের বিলটাকাপোড়া গ্রামটি দুটি ধারায় বিভক্ত। সম্প্রতি কিছু ঘটনায় দুই পক্ষের দ্ব›দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে। সেসব মীমাংসার জন্য বিলটাকাপোড়া ঈদগাহ ময়দানে সালিশে বসে দুই পক্ষ। সালিশ বোর্ড গঠন করার সময় হঠাৎ ওহাব মন্ডলের লোকজন হামলা চালায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদপুর সিটি কলেজের শিক্ষক মাহবুবুর রহমান জানান, গ্রামে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছে। আলমগীর হোসেনের লোকজন স্থানীয় মসজিদে নামাজ পড়তে গেলেও বাধা দেয় প্রতিপক্ষ। যেকারণে নতুন একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া আরও কিছু সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধান করতে সালিশের আয়োজন করা হয়। সাড়ে ১০টার দিকে সালিশ শুরু হয়। সালিশে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শওকত মৃধা, বিএনপি নেতা মশিউল আযম চুন্নুসহ উপজেলার ১০ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সালিশ বোর্ড গঠনের সময় প্রতিপক্ষের লোকজন ধর ধর বলে হামলা চালায়। এরপর তিনি ৯৯৯ এ ফোন দেন।
অপরপক্ষের নেতৃত্বে থাকা কলেজ শিক্ষক মো. আসাদ্জ্জুামান জানান, সালিশ করতে গিয়ে শেষ করতে পারিনি। বেশ কয়েকদিন ধরে এলাকায় দুটি পক্ষের দ্ব›েদ্বর কারণে উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ তাদের বসে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে বলেন। গ্রামের লোকেরা আমার কথা মানে। একারণে তিনি তাদের বসে মীমাংসার প্রস্তাব দিলে তারা রাজী হন। সালিশে তিনি যথারীতি বক্তৃতা দেন। তার কথায় সবাই খুশী হয়। এর মধ্যে একটা রিউমার ছড়ালো আলমের ছেলের কাছে অস্ত্র আছে। ছেলেরা ধাওয়া করে তাকে ধরে ফেলে। তারপরই মারামারি হয়। তিনি নিজেও মারামারি ঠেকাতে গিয়েছিলেন। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, এলাকার দুটি পক্ষ। একটি আলমগীর হোসেন আলম আরেকটি প্রয়াত বিএনপি নেতা চুন্নু চেয়ারম্যানের ছেলে সেলিম নেতৃত্ব দেয়। আমরা সবাই মিলেও আমাদের পক্ষের লোকদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। তাদের লাঠি দিয়েও পিটিয়েছি। বলেছি, তোমরা কাজটি ঠিক করোনি।
বালিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সভাপতি শওকত মৃধা বলেন, সালিশে আমরা উপজেলা থেকে বিএনপির কয়েকজন গিয়েছিলাম। সবই ঠিক ছিল। শেষ মুহূর্তে গিয়ে ঝামেলা হলো। আমরা চেয়েছিলাম সীমিত সংখ্যক লোক নিয়ে সালিশ করতে। ওখানে আমজনতা উপস্থিত হয়ে উস্কানী দিয়ে আলমগীর হোসেনের লোকদের মারধর করে। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশকে জানিয়ে আমরা নিরাপদে চলে আসি। আমরা চেয়েছিলাম শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে। সেটা আর হলোনা। পরিস্থিতি এখন শান্ত। তবে আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
বালিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপি নেতা মশিউল আযম চুন্নুর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজী হননি।
বালিয়াকান্দি থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল্লাহ আল মামুুন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখনও পুলিশ সেখানে অবস্থান করছে। এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দেয়নি।


























