Dhaka ০৭:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাবিতে মসজিদে ছাত্রীদের নামাজের ব্যবস্থাসহ ১১ দফা দাবি

রাবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৫৬:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ মার্চ ২০২৫
  • / 149

আসন্ন মাহে রমজান উপলক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসন বরাবর ১১ দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (১ মার্চ) দুপুরে “সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটওয়ার্ক, রাবি” -এর পক্ষ থেকে স্মারকলিপি প্রদান করেন সংগঠনটির মানবাধিকার কর্মীরা।

তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন খান, প্রক্টর অধ্যাপক মো. মাহবুবর রহমান ও জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন মজুমদার বরাবর স্মারকলিপিটি দেন।

তাদের দাবিসমূহ হলো, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকল মুসল্লীদের জন্য কেন্দ্রীয় মসজিদে ইফতারের আয়োজন করেছে। যা অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে মেয়েদের কথা চিন্তা করে অবশ্যই তাদের জন্য পর্দাসহীত আলাদা আয়োজনের ব্যবস্থা করতে হবে। এই ক্ষেত্রে তাদের নামাজের কথা বিবেচনা করে মেয়েদের জন্য ৬টি হলের যে কোন একটি হলেও আয়োজনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে; ডাইনিং এবং ক্যান্টিনের খাবারের মান বৃদ্ধি করতে হবে এবং হল প্রাধ্যক্ষ ও হাউজ টিউটর স্যারদের মাধ্যমে তা মনিটরিং করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে সুষম খাবার খেয়ে রোজা রাখতে পারে সেই দিকে অবশ্যই প্রশাসনকে নজর দিতে হবে; হলে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত রাতের খাবার এবং সেহরির ব্যবস্থা করতে হবে; হলে খাবারের মূল্য কমাতে হবে। প্রয়োজনে রমযান মাসে খাবারের জন্য প্রশাসনকে ভূর্তকির ব্যবস্থা করতে হবে।

আরও উল্লেখ করা হয়, মেয়েদের হলে আযান ভালো মত শোনা যায় না। এই ক্ষেত্রে প্রশাসনকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; মেয়েদের জন্য কেন্দ্রীয় মসজিদে পর্দাসহীত আলাদা নামাযের ব্যবস্থা করতে হবে; ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ইফতার শেষে আবর্জনা ফেলে রাখতে দেখা যায়। এই ক্ষেত্রে প্রশাসনকে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে; ইফতারের আবর্জনাগুলো প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে যাতে পরিবেশ দূষণ না হয়। ডাস্টবিন সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে, বিশেষ করে মাঠগুলোতে; ভিন্ন ধর্মালম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিটি হলের ক্যান্টিনে অবশ্যই সকাল ও দুপুরের খাবার নিশ্চিত করতে হবে। অন্য ধর্মের অনুসারী কোন শিক্ষার্থীকে যাতে খাবার কেন্দ্রীক কোন বিড়াম্বনাতে পড়তে না হয়। এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো; ক্যাম্পাসের পবিত্রতা রক্ষার্থে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; প্রত্যেক ধর্মের অনুসারীরা যাতে নির্ভয়ে ও নিঃসংকচে তাদের নিজ ধর্ম পালন করতে পারে; এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটোয়ার্ক রাবির সভাপতি এস. এম. সালমান সাব্বির সহ কমিটির বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা মানবাধিকার কর্মীরা।

উল্লেখ্য, সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটোয়ার্ক বিভিন্ন ক্যাম্পাসের মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে থাকে। বিভিন্ন নির্যাতনের ডকুমেন্টারি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সাহায্য করে থাকে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রাবিতে মসজিদে ছাত্রীদের নামাজের ব্যবস্থাসহ ১১ দফা দাবি

প্রকাশের সময় : ০৬:৫৬:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ মার্চ ২০২৫

আসন্ন মাহে রমজান উপলক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসন বরাবর ১১ দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (১ মার্চ) দুপুরে “সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটওয়ার্ক, রাবি” -এর পক্ষ থেকে স্মারকলিপি প্রদান করেন সংগঠনটির মানবাধিকার কর্মীরা।

তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন খান, প্রক্টর অধ্যাপক মো. মাহবুবর রহমান ও জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন মজুমদার বরাবর স্মারকলিপিটি দেন।

তাদের দাবিসমূহ হলো, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকল মুসল্লীদের জন্য কেন্দ্রীয় মসজিদে ইফতারের আয়োজন করেছে। যা অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে মেয়েদের কথা চিন্তা করে অবশ্যই তাদের জন্য পর্দাসহীত আলাদা আয়োজনের ব্যবস্থা করতে হবে। এই ক্ষেত্রে তাদের নামাজের কথা বিবেচনা করে মেয়েদের জন্য ৬টি হলের যে কোন একটি হলেও আয়োজনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে; ডাইনিং এবং ক্যান্টিনের খাবারের মান বৃদ্ধি করতে হবে এবং হল প্রাধ্যক্ষ ও হাউজ টিউটর স্যারদের মাধ্যমে তা মনিটরিং করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে সুষম খাবার খেয়ে রোজা রাখতে পারে সেই দিকে অবশ্যই প্রশাসনকে নজর দিতে হবে; হলে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত রাতের খাবার এবং সেহরির ব্যবস্থা করতে হবে; হলে খাবারের মূল্য কমাতে হবে। প্রয়োজনে রমযান মাসে খাবারের জন্য প্রশাসনকে ভূর্তকির ব্যবস্থা করতে হবে।

আরও উল্লেখ করা হয়, মেয়েদের হলে আযান ভালো মত শোনা যায় না। এই ক্ষেত্রে প্রশাসনকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; মেয়েদের জন্য কেন্দ্রীয় মসজিদে পর্দাসহীত আলাদা নামাযের ব্যবস্থা করতে হবে; ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ইফতার শেষে আবর্জনা ফেলে রাখতে দেখা যায়। এই ক্ষেত্রে প্রশাসনকে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে; ইফতারের আবর্জনাগুলো প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে যাতে পরিবেশ দূষণ না হয়। ডাস্টবিন সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে, বিশেষ করে মাঠগুলোতে; ভিন্ন ধর্মালম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিটি হলের ক্যান্টিনে অবশ্যই সকাল ও দুপুরের খাবার নিশ্চিত করতে হবে। অন্য ধর্মের অনুসারী কোন শিক্ষার্থীকে যাতে খাবার কেন্দ্রীক কোন বিড়াম্বনাতে পড়তে না হয়। এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো; ক্যাম্পাসের পবিত্রতা রক্ষার্থে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; প্রত্যেক ধর্মের অনুসারীরা যাতে নির্ভয়ে ও নিঃসংকচে তাদের নিজ ধর্ম পালন করতে পারে; এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটোয়ার্ক রাবির সভাপতি এস. এম. সালমান সাব্বির সহ কমিটির বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা মানবাধিকার কর্মীরা।

উল্লেখ্য, সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটোয়ার্ক বিভিন্ন ক্যাম্পাসের মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে থাকে। বিভিন্ন নির্যাতনের ডকুমেন্টারি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সাহায্য করে থাকে।