নির্বিষ বোলিংয়ে বাংলাদেশের অসহায় এক দিন

- প্রকাশের সময় : ০৬:৪৫:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
- / 5

বহুদিন পর টেস্ট ক্রিকেটে এমন একটা দিন কাটাল বাংলাদেশ। বোলাররা টানা বল করে গেলেন, কিন্তু উইকেট নেওয়া সম্ভাবনা তেমন একটা তৈরি করতে পারলেন না। অবস্থা এতটাই খারাপ যে চোটের ‘বাহানায়’ বাংলাদেশ সময় অপচয়ও করল। যা নিয়ে বিরক্তি আর লুকাননি ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামিও।গতকাল তাওহিদ হৃদয়ের অবিশ্বাস্য ডাবল সেঞ্চুরির পর বাংলাদেশ যতটা সতেজ থাকার কথা ছিল, আজ যত সময় গড়াল, বাংলাদেশ যেন ততই হাঁটল উল্টো পথে। সারা দিন প্রায় নির্বিষ বোলিংয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ৩৪৫ রান তুলে এগিয়ে গেছে ৩১৫ রানে। হৃদয়ের হাত ধরে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩০ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিং শুরু করেছিল বাংলাদেশ। আজ সকালে তা ছিল ২৩ রান। কিন্তু সেই সুবিধা তাঁরা কাজে তো লাগাতেই পারেননি, বলতে গেলে উল্টো ছড়ি ঘুরিয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
খেলার মাঠের প্রেক্ষাপট ও মূল মুহূর্ত
ইনিংসের শুরু থেকেই তাঁদের ব্যাটসম্যানদের সামনে দিশাহারা হয়ে পড়েছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। রানও এসেছে দ্রুতগতিতে। ইনিংসের প্রথম কয়েক ওভার পেসারদের দিয়ে চেষ্টা করেছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। তাঁদের বলে কোনো মুভমেন্ট ছিল না, ব্যাটসম্যানদের জন্য কোনো অস্বস্তিও।
বাকি দিনের বেশির ভাগটাই তিন স্পিনার হাত ঘুরিয়েছেন। তাঁরা নিতে পেরেছেন শুধু ৩ উইকেট। ৮৫ রানের উদ্বোধনী জুটির পর তাইজুল ইসলামের বলে এগিয়ে এসে ডিফেন্ড করতে গিয়ে জশুয়া দা সিলভা এলবিডব্লু হন।ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে ম্যাচটা জিততেই চায়, তা শুরু থেকেই বুঝিয়ে দেন ব্র্যান্ডন কিং। ৮৪ বলে ৬১ রান করা এই ওপেনার মেহেদী হাসান মিরাজের বলে স্লিপে ক্যাচ দেন। ২ উইকেট পেয়ে কিছুটা স্বস্তি নিয়েই মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।সেই শেষ, দিনের বাকিটা সময় অসহায় হয়েই ছিল বাংলাদেশ। কেভিন উইকহামকে তাইজুলের বলে তাঁর হাতেই ক্যাচ দেন ঠিক, কিন্তু তার আগেই তিনি দলকে তুলে দিয়ে যান বড় রানের পথে। কাভেম হজের সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল ১৬৫ রানের। হজ পরে পান টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরিও। দিন শেষ তিনি অপরাজিত ১৪০ রানে।
টেস্টের চতুর্থ দিনে এসে উইকেট এখনো তেমন ফাটেনি। মাঝেমধ্যে দু–একটা বল টার্ন করছে, কিন্তু সেটি ব্যাটসম্যানদের জন্য ভোগানোর জন্য যথেষ্ট হচ্ছে না। উইকেটে বোলারদের জন্য বলতে গেলে এখনো তেমন সাহায্য নেই।
ম্যাচের বিশ্লেষণ ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া
এখনকার টেস্ট ক্রিকেটে চতুর্থ দিনে এসেও উইকেট থেকে বোলারদের জন্য কোনো সুবিধা থাকবে না, এই চাওয়া স্বাগতিক দলের ছিল কি না, তা এখন প্রশ্ন। আবার উইকেট থেকে সাহায্য না পাওয়া বোলাররাও এমন কিছু করতে পারেননি, যা প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের বিপদে ফেলতে পারে। বেশির ভাগ সময় তাঁদের লাইন-লেন্থও ঠিক থাকেনি। শুধু মিরাজ ছাড়া বাকি চার বোলারই ওভারপ্রতি ৪ রানের বেশি খরচ করেছেন।তাতে এই টেস্টের পথ এখন অনেকটাই ঠিক হয়ে গেছে—ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচটা জিতবে, নয়তো ড্র হবে। এই দুই ফলের বাইরে কিছু হলে তা হবে অবিশ্বাস্য কিছুই।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩৫৬ ও ৩৪৫/৩ (হজ ১৪০*, উইকহাম ৭৮, কিং ৬১; তাইজুল ২/১১৮, মিরাজ ১/৫৮)। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৩৮৬ (হৃদয় ২৪২*, মুশফিক ৩৪; ওয়ারিক্যান ৪/১০৪)।
রেকর্ড গড়া ইনিংস নিয়ে হৃদয় বললেন, ‘এটা আমার স্বপ্ন ছিল’






















