হৃদয়ের টেস্ট সামর্থ্য ২০২২ সালেই টের পেয়েছিলেন হাবিবুল

- প্রকাশের সময় : ০৫:৩০:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
- / 4

সিলেটের কড়া রোদে ধৈর্য, মানসিক দৃঢ়তা আর সময়ের প্রয়োজনে বিধ্বংসী রূপ দেখিয়ে তাওহিদ হৃদয় যখন উঠলেন চূড়ায়, খেললেন রেকর্ডময় অবিস্মরণীয় ২৪২ রানের ইনিংস। তখন তৃপ্তির হাসি হাসছিলেন জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন।
খেলার মাঠের প্রেক্ষাপট ও মূল মুহূর্ত
১৩৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন চরম ব্যাকফুটে, তখন উইকেটে গিয়ে একাই লড়াইয়ের চিত্র বদলে দেন তাওহিদ হৃদয়। ৮ ঘণ্টার দীর্ঘ ধৈর্য, মানসিক দৃঢ়তা আর ১১টি ছক্কায় গড়া ২৪২ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসটি হঠাৎ কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। এর পেছনের রহস্য প্রকাশ করতে গিয়ে দ্য ডেইলি স্টারকে বাশার শোনালেন কয়েক বছর আগের এক দূরদর্শী মূল্যায়নের কথা—’প্রথমবার নির্বাচক থাকার সময় ২০২২ বা ২০২৩ সালের দিকে সিলেটে এক প্রথম শ্রেণির ম্যাচে তাকে দেখেছিলাম। সেখান থেকে ফিরেই আমি চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে (তখনকার প্রধান কোচ) বলেছিলাম, হৃদয় আমাদের পরবর্তী সেরা টেস্ট ব্যাটসম্যান। ৬ নম্বরে তার মতো একজন ব্যাটসম্যান দলকে অনেক দূর এগিয়ে নেবে।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার পর হৃদয়ের টেস্ট খেলা নিয়ে নানা রকম গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। অনেকে বলছিলেন তিনি নাকি সাদা পোশাকের ক্রিকেটে আগ্রহী নন। তবে সেই বিভ্রান্তি বাশার নিজেই সরাসরি দূর করেছিলেন—’আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “তুমি কেন টেস্ট খেলতে চাও না?” হৃদয় অবাক হয়ে উত্তর দিয়েছিল, “আমি তো কখনোই এমন কথা বলিনি; আমি টেস্ট খেলতে চাই।”’
দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে পচেফস্ট্রুমে অপরাজিত ৩৫০ রানের পর সিলেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই রূপকথা—হৃদয়ের ভেতরের জেদ ও তাড়নাই তাকে সফল করেছে বলে মনে করেন বাশার, ‘সবচেয়ে বড় কথা হলো, হৃদয় খুব করে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চেয়েছিল। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা “এ” দলের সিরিজটি সে খেলতে চেয়েছিল। আমি তাকে সেই সুযোগ দিতে চেয়েছিলাম, আর সেই ভেতরের তাড়নাই তাকে এখানে বড় সাফল্য এনে দিয়েছে।’
ম্যাচের বিশ্লেষণ ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া
তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ১১৭ রান এবং তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে আরও ৮৫ রান যোগ করে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন হৃদয়। ক্র্যাম্পে কাতর হয়ে দিনশেষে সংবাদ সম্মেলনে আসতে না পারলেও, বাশারের সেই দূরদর্শী উক্তি—’হৃদয়ই আমাদের পরবর্তী সেরা টেস্ট ব্যাটার’—আজ সিলেটে শতভাগ সত্য প্রমাণ করলেন তাওহিদ হৃদয়।






















