পোশাকশ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান মালিকদের

- প্রকাশের সময় : ১১:১৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / 8

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের পরিপ্রেক্ষিতে কারখানার উৎপাদন সচল রাখতে আন্দোলন স্থগিত করে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন পোশাকশিল্পের মালিকেরা। মজুরি বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তাঁরা।
মালিকপক্ষের নেতারা বলেছেন, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমাধান করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শ্রমিকদের স্বার্থের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।
বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক বলেন, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। এ জন্য বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে।
তিনি বলেন, ২০২১ সালে সর্বশেষ মজুরি বোর্ড গঠনের সময় পাঁচ বছর ধরে প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে বাধ্যতামূলক বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে অন্তর্বর্তী সরকার এ সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করে এবং বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে। মালিকপক্ষও ওই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিল।
আগামী জানুয়ারিতে তিন বছরের এ সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করে ফজলুল হক বলেন, বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি মিছিল বা আন্দোলনের মাধ্যমে নয়, নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সমাধান করা উচিত। একই সঙ্গে বাড়তি বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
তিনি আরও বলেন, সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের দুজন করে প্রতিনিধি এবং সরকারের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তাই বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর সংশ্লিষ্ট সবার আস্থা রাখা প্রয়োজন। শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে সবাইকে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
এদিকে, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, শ্রমিকদের বেতন নির্ধারণের জন্য সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তাই চলমান আন্দোলনের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পর আন্দোলনের দাবি এবং এর পেছনের কারণগুলো স্পষ্টভাবে জানা জরুরি। শ্রমিক অসন্তোষের কারণ চিহ্নিত করার পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

























