মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ইসরায়েলে সরকার গঠনের সমীকরণে অচলাবস্থা: বিরোধীদের বৈঠক, ‘কিংমেকার’ আরব দলগুলো অক্টোবরে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১২ ও গণপিটুনিতে ২২ জনের মৃত্যু: এইচআরএসএস রাশনা ইমামকে প্রধান করে নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগের কমিটি বিসিবির একই নামে একাল-সেকালের ৫ ঢাকাই সিনেমা যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু সাফে সেই ‘অভিশপ্ত’ ঘড়ির কাঁটা কি এবারও কাঁদাবে বাংলাদেশকে যে দিনগুলো মিস করেন সুপারস্টার রজনীকান্ত উয়েফার চাপে ‘বিশ্বকাপ বিক্রি’ প্রকল্পের নথি দেখাতে রাজি ফিফা বাগ্‌দান ভাঙার গুঞ্জন, জিয়া শঙ্কর লিখলেন, ‘আমরা একে অপরকে ভালোবাসি’ ফুটবলাররা কি আসলেই বোকা, নাকি আমরা ভুল জানি

অক্টোবরে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১২ ও গণপিটুনিতে ২২ জনের মৃত্যু: এইচআরএসএস

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৫৫:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 2
চলতি বছরের অক্টোবর মাসে দেশজুড়ে অন্তত ৭০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১২ জন নিহত এবং ৩৩৪ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে গণপিটুনির ৩৩টি ঘটনায় ২২ জন এবং মব সহিংসতার ২২টি ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন কারাগারে ১৯ জন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) অক্টোবর মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ১৬টি জাতীয় দৈনিক, নিজস্ব তথ্য সংগ্রহ ও ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংয়ের সমন্বয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে রাজনৈতিক সহিংসতায় আহতের সংখ্যা কমলেও মোট ঘটনা ও নিহতের সংখ্যা বেড়েছে। অক্টোবরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ৩৫টি ঘটনায় ৯ জন নিহত ও ১৮৫ জন আহত হন। বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ১৬ জন আহত, বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হন। রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত মোট ১২ জনের মধ্যে ১০ জন বিএনপির এবং ২ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে ছয়টি সহিংসতার ঘটনায় ১ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া দুর্বৃত্তদের পৃথক হামলায় নিহত হয়েছেন আরও ৭ জন নেতাকর্মী (আওয়ামী লীগের ৪, বিএনপির ২ এবং ১ জন চরমপন্থী)। এ মাসে অন্তত ৩১ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং হামলা-ভাঙচুরের শিকার হয়েছে ৭০টি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান প্রসঙ্গে বলা হয়, বিভিন্ন কার্যক্রমে অক্টোবর মাসে সারাদেশে অন্তত ২৫ হাজার ১৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ৩৮৪ জন, বিএনপির ৮১ জন, জামায়াতের ২৭ জন, এনসিপির ১ জন এবং চরমপন্থী সংগঠনের ১৮ জন সদস্য রয়েছেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে ৩ জন নিহত হয়েছেন।
গণপিটুনি ও মব সহিংসতায় উদ্বেগ জানিয়ে বলা হয়, চোর-ডাকাত সন্দেহে ৩৩টি গণপিটুনির ঘটনায় ২২ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। মব ভায়োলেন্সে ১ জন নিহত ও ৩৬ জন আহত হন। এ ছাড়া সাংবাদিক নির্যাতনের ২৮টি ঘটনায় ১ জন নিহত, ৩১ জন আহত এবং ৭ জন লাঞ্ছিতসহ মোট ৪৬ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।
নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্রে বলা হয়, অক্টোবরে ২৬১ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৮২ জন ধর্ষণের শিকার হন (যার ৫১ শতাংশই শিশু-কিশোরী)। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে পাঁচজনকে এবং গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২০ জন। পারিবারিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৪৭ জন নারী এবং আত্মহত্যা করেছেন ২১ জন। এছাড়া মাসজুড়ে ২০১ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ৩৮ জনের প্রাণহানি ঘটে।
সীমান্ত পরিস্থিতি ও শ্রমিক অধিকার নিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিএসএফের হামলায় ১ জন নিহত ও ২ জন আহত হয়েছেন এবং সীমান্তে আরও ২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, অক্টোবরে সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতির কিছু সূচকে উন্নতি এলেও রাজনৈতিক সংঘাত, নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা, মব জাস্টিস, বিচারবহির্ভূত ও হেফাজতে মৃত্যু এবং নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।
Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

অক্টোবরে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১২ ও গণপিটুনিতে ২২ জনের মৃত্যু: এইচআরএসএস

প্রকাশের সময় : ০৮:৫৫:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
চলতি বছরের অক্টোবর মাসে দেশজুড়ে অন্তত ৭০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১২ জন নিহত এবং ৩৩৪ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে গণপিটুনির ৩৩টি ঘটনায় ২২ জন এবং মব সহিংসতার ২২টি ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন কারাগারে ১৯ জন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) অক্টোবর মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ১৬টি জাতীয় দৈনিক, নিজস্ব তথ্য সংগ্রহ ও ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংয়ের সমন্বয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে রাজনৈতিক সহিংসতায় আহতের সংখ্যা কমলেও মোট ঘটনা ও নিহতের সংখ্যা বেড়েছে। অক্টোবরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ৩৫টি ঘটনায় ৯ জন নিহত ও ১৮৫ জন আহত হন। বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ১৬ জন আহত, বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হন। রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত মোট ১২ জনের মধ্যে ১০ জন বিএনপির এবং ২ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে ছয়টি সহিংসতার ঘটনায় ১ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া দুর্বৃত্তদের পৃথক হামলায় নিহত হয়েছেন আরও ৭ জন নেতাকর্মী (আওয়ামী লীগের ৪, বিএনপির ২ এবং ১ জন চরমপন্থী)। এ মাসে অন্তত ৩১ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং হামলা-ভাঙচুরের শিকার হয়েছে ৭০টি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান প্রসঙ্গে বলা হয়, বিভিন্ন কার্যক্রমে অক্টোবর মাসে সারাদেশে অন্তত ২৫ হাজার ১৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ৩৮৪ জন, বিএনপির ৮১ জন, জামায়াতের ২৭ জন, এনসিপির ১ জন এবং চরমপন্থী সংগঠনের ১৮ জন সদস্য রয়েছেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে ৩ জন নিহত হয়েছেন।
গণপিটুনি ও মব সহিংসতায় উদ্বেগ জানিয়ে বলা হয়, চোর-ডাকাত সন্দেহে ৩৩টি গণপিটুনির ঘটনায় ২২ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। মব ভায়োলেন্সে ১ জন নিহত ও ৩৬ জন আহত হন। এ ছাড়া সাংবাদিক নির্যাতনের ২৮টি ঘটনায় ১ জন নিহত, ৩১ জন আহত এবং ৭ জন লাঞ্ছিতসহ মোট ৪৬ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।
নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্রে বলা হয়, অক্টোবরে ২৬১ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৮২ জন ধর্ষণের শিকার হন (যার ৫১ শতাংশই শিশু-কিশোরী)। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে পাঁচজনকে এবং গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২০ জন। পারিবারিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৪৭ জন নারী এবং আত্মহত্যা করেছেন ২১ জন। এছাড়া মাসজুড়ে ২০১ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ৩৮ জনের প্রাণহানি ঘটে।
সীমান্ত পরিস্থিতি ও শ্রমিক অধিকার নিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিএসএফের হামলায় ১ জন নিহত ও ২ জন আহত হয়েছেন এবং সীমান্তে আরও ২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, অক্টোবরে সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতির কিছু সূচকে উন্নতি এলেও রাজনৈতিক সংঘাত, নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা, মব জাস্টিস, বিচারবহির্ভূত ও হেফাজতে মৃত্যু এবং নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।