মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
উয়েফার চাপে ‘বিশ্বকাপ বিক্রি’ প্রকল্পের নথি দেখাতে রাজি ফিফা বাগ্‌দান ভাঙার গুঞ্জন, জিয়া শঙ্কর লিখলেন, ‘আমরা একে অপরকে ভালোবাসি’ ফুটবলাররা কি আসলেই বোকা, নাকি আমরা ভুল জানি বিজেপি নেতাদের আপত্তিতে সরানো হলো দিয়া মির্জার ভিডিওটি, আদালতের অসন্তোষ সৈয়দপুর বিএইউএসটিতে দিনব্যাপী এন্টারপ্রেনার্স ফেয়ার অনুষ্ঠিত শিল্প পুলিশ প্রধানসহ শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল ১৩০তম হয়েও বাংলাদেশের কিশোর ফুটবলাররা পেল লাখ টাকা করে পুরস্কার ২৫ হাজার কোটি টাকার সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার! কে এই কাব্য নাটকীয় ম্যাচে চট্টগ্রামের ১ উইকেটের জয়, সাদিকুরের সেঞ্চুরি মা–বাবার সঙ্গে ছোট্ট আনায়া, অপূর্বকন্যার মিষ্টি ছবি

ক্যানসারের লড়াইয়ে সামিয়া, মাথা ন্যাড়া করে পাশে স্বামী-সন্তান

বিনোদন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৫৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 6
ক্যানসারের লড়াইয়ে সামিয়া, মাথা ন্যাড়া করে পাশে স্বামী-সন্তান

২০২২ সালে প্রথম কোলন ক্যানসার ধরা পড়ে সামিয়ার। চিকিৎসকের পরামর্শে ওই বছরের এপ্রিলে সিঙ্গাপুরে যান তিনি। সেখানে পরীক্ষায় জানা যায়, ক্যানসার চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেখানকার চিকিৎসায় সাড়া পেয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছিলেন সামিয়া। কিন্তু নিয়মিত ফলোআপের মধ্যে জেনেটিক পরীক্ষায় আবার ক্যানসার ধরা পড়ে। এবার ওভারিয়ান ক্যানসার।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মূল তথ্য

ছেলের হাতে ন্যাড়া হলো মায়ের মাথা। একটু পর ছেলেও মাথা ন্যাড়া করে হাজির। মায়ের কষ্টের সময়ে তাঁকে একা থাকতে দিতে চাননি স্বামীও। তাই নিজের মাথার চুল ফেলে তিনিও দাঁড়ালেন স্ত্রীর পাশে। ক্যানসারের চিকিৎসায় চুল হারানোর কষ্টটা যেন সামিয়াকে একা বইতে না হয়, পরিবারের মানুষগুলোও ভাগ করে নিলেন সেই কষ্ট। উপস্থাপক সামিয়া আফরিন এখন ডিম্বাশয় (ওভারিয়ান) ক্যানসারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি নিচ্ছেন। চুল পড়ে যাবে, চিকিৎসক আগেই জানিয়েছিলেন। তাই নিজেকে সেভাবেই প্রস্তুত করছিলেন। প্রথমে চুল ছোট করেন, পরে ছেলে আহানাফ আরাবির হাতে মাথা ন্যাড়া করান। একটু পর ছেলে নিজেও মাথা ন্যাড়া করে হাসিমুখে হাজির হয়। স্ত্রীকে সঙ্গ দিতে মাথার চুল ফেলে দেন স্বামী এস এম রেজাউল ইমরানও। গত ১৫ সেপ্টেম্বর মাথা ন্যাড়া করার একটি ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করে নিজের অনুভূতি জানিয়েছেন সামিয়া। লিখেছিলেন, কেমোথেরাপির কারণে চুল পড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে মন খারাপ না করে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সবকিছু নিয়ে মন খারাপ করে লাভ নেই; সময়ের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারাটাই আসল।

উপস্থাপক সামিয়ার ক্যানসার ফিরে এসেছে, এবার লড়াইটা অন্য রকম

মাথার চুল ফেলে দিয়েছেন সামিয়া, জানালেন জীবনের কঠিন সময়ের কথা

দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ও সামগ্রিক আলোচনা

গত বছরের ২০ মার্চ ঢাকার বনানীতে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের সহায়তায় আয়োজিত ‘রিভোগ ওয়্যার টু কেয়ার’ নামের পোশাক প্রদর্শনীতে নিজের ক্যানসারের কথা প্রকাশ্যে জানান সামিয়া। এর আগে কাছের মানুষ ছাড়া অনেকেই তাঁর অসুস্থতার কথা জানতেন না।

গত ১১ অক্টোবর রাজধানীর বনানীতে নিজের বাসায় প্রথম আলোর সঙ্গে কথা হয় সামিয়ার। বললেন, ‘চুল তো মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্য। চুল থাকুক বা না থাকুক, আত্মবিশ্বাসটাই মূল। আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। হাঁটাচলা করতে পারছি, এটাই অনেক বড় পাওয়া।’একবার ক্যানসার, আবার নতুন লড়াই২০২২ সালে প্রথম কোলন ক্যানসার ধরা পড়ে সামিয়ার। চিকিৎসকের পরামর্শে ওই বছরের এপ্রিলে সিঙ্গাপুরে যান তিনি। সেখানে পরীক্ষায় জানা যায়, ক্যানসার চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অস্ত্রোপচার ও কেমোথেরাপির কথা শুনে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এমনকি কোনো চিকিৎসা না করেই দেশে ফিরে আসার কথাও ভেবেছিলেন।সামিয়া বলেন, ‘চিকিৎসক দেবর যখন প্রথম খবরটা দিল, ভেবেছিলাম, যখন হয়েই গেছে, তখন আর কী করা যাবে! সন্ধ্যায় সেজেগুজে দাওয়াত খেতেও গিয়েছি। কিন্তু সিঙ্গাপুরে গিয়ে যখন শুনলাম ক্যানসার চতুর্থ পর্যায়ে, অস্ত্রোপচার করতে হবে, কেমোথেরাপি দিতে হবে, তখন ভেঙে পড়ি। অনেক কান্নাকাটি করেছি। মনে হয়েছিল, চিকিৎসা নিলে আমার পুরো জীবনযাপন বদলে যাবে।’

মাকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্যই চুল কেটে দিই। নিজের চুলও কেটে ফেলি। ভালোই লেগেছে। ক্যাম্পাসে গেলে বন্ধুরা চুল ফেলে দেওয়ার কারণ জানতে চেয়েছে। মায়ের কথা বলার পর সবাই সাপোর্ট করেছে।আহানাফ আরাবি, সামিয়া আফরিনের ছেলে

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ক্যানসারের লড়াইয়ে সামিয়া, মাথা ন্যাড়া করে পাশে স্বামী-সন্তান

প্রকাশের সময় : ০৬:৫৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

২০২২ সালে প্রথম কোলন ক্যানসার ধরা পড়ে সামিয়ার। চিকিৎসকের পরামর্শে ওই বছরের এপ্রিলে সিঙ্গাপুরে যান তিনি। সেখানে পরীক্ষায় জানা যায়, ক্যানসার চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেখানকার চিকিৎসায় সাড়া পেয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছিলেন সামিয়া। কিন্তু নিয়মিত ফলোআপের মধ্যে জেনেটিক পরীক্ষায় আবার ক্যানসার ধরা পড়ে। এবার ওভারিয়ান ক্যানসার।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মূল তথ্য

ছেলের হাতে ন্যাড়া হলো মায়ের মাথা। একটু পর ছেলেও মাথা ন্যাড়া করে হাজির। মায়ের কষ্টের সময়ে তাঁকে একা থাকতে দিতে চাননি স্বামীও। তাই নিজের মাথার চুল ফেলে তিনিও দাঁড়ালেন স্ত্রীর পাশে। ক্যানসারের চিকিৎসায় চুল হারানোর কষ্টটা যেন সামিয়াকে একা বইতে না হয়, পরিবারের মানুষগুলোও ভাগ করে নিলেন সেই কষ্ট। উপস্থাপক সামিয়া আফরিন এখন ডিম্বাশয় (ওভারিয়ান) ক্যানসারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি নিচ্ছেন। চুল পড়ে যাবে, চিকিৎসক আগেই জানিয়েছিলেন। তাই নিজেকে সেভাবেই প্রস্তুত করছিলেন। প্রথমে চুল ছোট করেন, পরে ছেলে আহানাফ আরাবির হাতে মাথা ন্যাড়া করান। একটু পর ছেলে নিজেও মাথা ন্যাড়া করে হাসিমুখে হাজির হয়। স্ত্রীকে সঙ্গ দিতে মাথার চুল ফেলে দেন স্বামী এস এম রেজাউল ইমরানও। গত ১৫ সেপ্টেম্বর মাথা ন্যাড়া করার একটি ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করে নিজের অনুভূতি জানিয়েছেন সামিয়া। লিখেছিলেন, কেমোথেরাপির কারণে চুল পড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে মন খারাপ না করে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সবকিছু নিয়ে মন খারাপ করে লাভ নেই; সময়ের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারাটাই আসল।

উপস্থাপক সামিয়ার ক্যানসার ফিরে এসেছে, এবার লড়াইটা অন্য রকম

মাথার চুল ফেলে দিয়েছেন সামিয়া, জানালেন জীবনের কঠিন সময়ের কথা

দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ও সামগ্রিক আলোচনা

গত বছরের ২০ মার্চ ঢাকার বনানীতে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের সহায়তায় আয়োজিত ‘রিভোগ ওয়্যার টু কেয়ার’ নামের পোশাক প্রদর্শনীতে নিজের ক্যানসারের কথা প্রকাশ্যে জানান সামিয়া। এর আগে কাছের মানুষ ছাড়া অনেকেই তাঁর অসুস্থতার কথা জানতেন না।

গত ১১ অক্টোবর রাজধানীর বনানীতে নিজের বাসায় প্রথম আলোর সঙ্গে কথা হয় সামিয়ার। বললেন, ‘চুল তো মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্য। চুল থাকুক বা না থাকুক, আত্মবিশ্বাসটাই মূল। আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। হাঁটাচলা করতে পারছি, এটাই অনেক বড় পাওয়া।’একবার ক্যানসার, আবার নতুন লড়াই২০২২ সালে প্রথম কোলন ক্যানসার ধরা পড়ে সামিয়ার। চিকিৎসকের পরামর্শে ওই বছরের এপ্রিলে সিঙ্গাপুরে যান তিনি। সেখানে পরীক্ষায় জানা যায়, ক্যানসার চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অস্ত্রোপচার ও কেমোথেরাপির কথা শুনে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এমনকি কোনো চিকিৎসা না করেই দেশে ফিরে আসার কথাও ভেবেছিলেন।সামিয়া বলেন, ‘চিকিৎসক দেবর যখন প্রথম খবরটা দিল, ভেবেছিলাম, যখন হয়েই গেছে, তখন আর কী করা যাবে! সন্ধ্যায় সেজেগুজে দাওয়াত খেতেও গিয়েছি। কিন্তু সিঙ্গাপুরে গিয়ে যখন শুনলাম ক্যানসার চতুর্থ পর্যায়ে, অস্ত্রোপচার করতে হবে, কেমোথেরাপি দিতে হবে, তখন ভেঙে পড়ি। অনেক কান্নাকাটি করেছি। মনে হয়েছিল, চিকিৎসা নিলে আমার পুরো জীবনযাপন বদলে যাবে।’

মাকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্যই চুল কেটে দিই। নিজের চুলও কেটে ফেলি। ভালোই লেগেছে। ক্যাম্পাসে গেলে বন্ধুরা চুল ফেলে দেওয়ার কারণ জানতে চেয়েছে। মায়ের কথা বলার পর সবাই সাপোর্ট করেছে।আহানাফ আরাবি, সামিয়া আফরিনের ছেলে