মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ক্যানসারের লড়াইয়ে সামিয়া, মাথা ন্যাড়া করে পাশে স্বামী-সন্তান নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাস সবুজায়ন প্রকল্পের আওতায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ভারত–পাকিস্তান ম্যাচে টিকিটের চাহিদা বিশ্বকাপ ফাইনালের চেয়েও বেশি প্রেমের টানে সিলেটে এসে বিয়ে, পুলিশ হেফাজতে চীনা যুবক রহস্যময় প্রাণীর তদন্ত থেকে ভয়াবহ বিপর্যয় সরকারকে ব্যর্থ করতে একাত্তর ও চব্বিশের পরাজিত শক্তি অপচেষ্টা চালাচ্ছে: রাশেদ খাঁন আইপিএলে খেলার গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন মোহাম্মদ আমির নায়িকা শাবানা কেন অভিনয় ছেড়েছিলেন শ্রমিক বিক্ষোভে অবরুদ্ধ ঢাকা-আরিচা ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়ক, তীব্র যানজট শেখ হাসিনা ও কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্তের রায় কার্যকরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি

নায়িকা শাবানা কেন অভিনয় ছেড়েছিলেন

বিনোদন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৬:১১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 7
নায়িকা শাবানা কেন অভিনয় ছেড়েছিলেন

মাত্র আট বছর বয়সে তাঁর চলচ্চিত্রে অভিষেক। এরপর তিন যুগ ধরে অভিনয়, একের পর এক উপহার দিয়েছেন দর্শকনন্দিত সব সিনেমা আর পেয়েছেন হৃদয় উজাড় করা ভালোবাসা। এর মধ্য দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের অনন্য এক জায়গা তৈরি করেছিলেন। পুরো নাম আফরোজা সুলতানা রত্না হলেও তিনি বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে শাবানা নামেই পরিচিত। অভিনয়জীবনের ব্যস্ত সময়ে হঠাৎ ক্যামেরার সামনে থেকে সরে দাঁড়ান তিনি, পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। ফেলে যান দীর্ঘদিনের কর্মজীবন, সহশিল্পী ও অগণিত ভক্তকে। কেন এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলেন বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই অভিনয়শিল্পী? শাবানার মতে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং মা হিসেবে তাঁদের পাশে থাকার তাগিদ থেকেই অভিনয় ছেড়েছিলেন তিনি।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মূল তথ্য

বাবা–মায়ের আফরোজা সুলতানা রত্না, ষাটের দশকের শুরুতে এহতেশাম পরিচালিত ‘নতুন সুর’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু। ১৯৬৭ সালে একই পরিচালকের উর্দু ছবি ‘চকোরী’তে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। পরে একের পর এক ছবিতে অভিনয় করে হয়ে ওঠেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় এই নায়িকা। এরপর নায়িকা থেকে ভাবি, মা—বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন ১১টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং দেশের চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে দেওয়া হয় আজীবন সম্মাননা।

শাবানা কি বাংলাদেশে নাকি যুক্তরাষ্ট্রে? কী বলছেন শাবানা ও তাঁর স্বামী

শাবানার বাবার নাম ফয়েজ চৌধুরী, যিনি চট্টগ্রাম আদালতপাড়ায় টাইপিস্ট ছিলেন, একটা সময় চলচ্চিত্র পরিচালক আজিজুর রহমানের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় পরিচালনাও করেন। আর মা ফজিলাতুন্নেসা ছিলেন গৃহিণী। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই প্রথম সিনেমায় অভিনয়ে নাম লেখান শাবানা। ‘নতুন সুর’ ছবিতে শাবানা যখন অভিনয় করেন, তখন তিনি পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। পারিবারিক পরিচয়ের সূত্রে শাবানার বাবাকে তখন এহতেশামই বলেছিলেন, ‘তোর মেয়েটাকে আমি একটি ছবিতে নিতে চাই।’ শাবানার বাবা তখন নাকি এভাবেই বলেছিলেন, ‘রত্না (শাবানার ডাক নাম) কীভাবে অভিনয় করবে! সে এত লাজুক, কারও সামনেই আসতে চায় না।’ নাছোড়বান্দা এহতেশাম বলেছিলেন, ‘তোর মেয়েটার মতো একটা মেয়েই আমি খুঁজছি। এরপর শাবানার বাবা রাজি হন।’ ওই ছবির নায়ক-নায়িকা ছিলেন রহমান-রওশান আরা।

দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ও সামগ্রিক আলোচনা

সেই সময়ের কথা মনে করে শাবানা প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘ছবিতে আমার প্রথম দৃশ্য ছিল এমন, খুশিতে আমি দৌড়ে এসে বলব, “ভাইয়া, ভাইয়া, আপুর বিয়ে।” আমাকে জড়িয়ে ভাইয়া বলবে, “তাই নাকি রে!” প্রথমবারে শট ওকে! তার পর থেকে মায়ের চেয়ে বাবাই সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করতেন, অনুপ্রেরণা দিতেন। আমার বাবাও কিন্তু কয়েকটি ছবি পরিচালনা করেছিলেন। “মুক্তি” (১৯৬৯), “মালকাবানু” (১৯৭৪), “বিজয়িনী সোনাভান” (১৯৭৯), “আলতাবানু” (১৯৮২) ও “রাজার মেয়ে বেদিনী” (১৯৯১)। এর মধ্যে তো “মালকাবানু” সুপারহিট। গানগুলো এখনো মানুষ গায়।’

৭৩–এ শাবানা বললেন, পরিবারটাই আমার জগৎ

বাবা যে রত্নাকে তাঁর জীবনের শুরুতে চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে দিতে চাননি, পরে সেই বাবাই হয়ে ওঠেন তাঁর অনুপ্রেরণা। একটা সময় বাবা ফয়েজ চৌধুরী পরিচালিত সিনেমায়ও অভিনয় করেছিলেন শাবানা। এভাবে ধীরে ধীরে শাবানা হয়ে ওঠেন বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের একটা বড় অধ্যায়। এ অধ্যায়ে তিনি শেষ করেন ২৯৯টি সিনেমার কাজ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন আলমগীরের বিপরীতে। এই নায়কের বিপরীতে তাঁর অভিনীত ছবির সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১৩০। এরপরই যাঁর সঙ্গে জুটি হয়ে বেশি অভিনয় করেছেন, তিনি নায়করাজ রাজ্জাক।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

নায়িকা শাবানা কেন অভিনয় ছেড়েছিলেন

প্রকাশের সময় : ০৬:১১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

মাত্র আট বছর বয়সে তাঁর চলচ্চিত্রে অভিষেক। এরপর তিন যুগ ধরে অভিনয়, একের পর এক উপহার দিয়েছেন দর্শকনন্দিত সব সিনেমা আর পেয়েছেন হৃদয় উজাড় করা ভালোবাসা। এর মধ্য দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের অনন্য এক জায়গা তৈরি করেছিলেন। পুরো নাম আফরোজা সুলতানা রত্না হলেও তিনি বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে শাবানা নামেই পরিচিত। অভিনয়জীবনের ব্যস্ত সময়ে হঠাৎ ক্যামেরার সামনে থেকে সরে দাঁড়ান তিনি, পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। ফেলে যান দীর্ঘদিনের কর্মজীবন, সহশিল্পী ও অগণিত ভক্তকে। কেন এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলেন বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই অভিনয়শিল্পী? শাবানার মতে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং মা হিসেবে তাঁদের পাশে থাকার তাগিদ থেকেই অভিনয় ছেড়েছিলেন তিনি।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মূল তথ্য

বাবা–মায়ের আফরোজা সুলতানা রত্না, ষাটের দশকের শুরুতে এহতেশাম পরিচালিত ‘নতুন সুর’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু। ১৯৬৭ সালে একই পরিচালকের উর্দু ছবি ‘চকোরী’তে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। পরে একের পর এক ছবিতে অভিনয় করে হয়ে ওঠেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় এই নায়িকা। এরপর নায়িকা থেকে ভাবি, মা—বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন ১১টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং দেশের চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে দেওয়া হয় আজীবন সম্মাননা।

শাবানা কি বাংলাদেশে নাকি যুক্তরাষ্ট্রে? কী বলছেন শাবানা ও তাঁর স্বামী

শাবানার বাবার নাম ফয়েজ চৌধুরী, যিনি চট্টগ্রাম আদালতপাড়ায় টাইপিস্ট ছিলেন, একটা সময় চলচ্চিত্র পরিচালক আজিজুর রহমানের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় পরিচালনাও করেন। আর মা ফজিলাতুন্নেসা ছিলেন গৃহিণী। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই প্রথম সিনেমায় অভিনয়ে নাম লেখান শাবানা। ‘নতুন সুর’ ছবিতে শাবানা যখন অভিনয় করেন, তখন তিনি পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। পারিবারিক পরিচয়ের সূত্রে শাবানার বাবাকে তখন এহতেশামই বলেছিলেন, ‘তোর মেয়েটাকে আমি একটি ছবিতে নিতে চাই।’ শাবানার বাবা তখন নাকি এভাবেই বলেছিলেন, ‘রত্না (শাবানার ডাক নাম) কীভাবে অভিনয় করবে! সে এত লাজুক, কারও সামনেই আসতে চায় না।’ নাছোড়বান্দা এহতেশাম বলেছিলেন, ‘তোর মেয়েটার মতো একটা মেয়েই আমি খুঁজছি। এরপর শাবানার বাবা রাজি হন।’ ওই ছবির নায়ক-নায়িকা ছিলেন রহমান-রওশান আরা।

দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ও সামগ্রিক আলোচনা

সেই সময়ের কথা মনে করে শাবানা প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘ছবিতে আমার প্রথম দৃশ্য ছিল এমন, খুশিতে আমি দৌড়ে এসে বলব, “ভাইয়া, ভাইয়া, আপুর বিয়ে।” আমাকে জড়িয়ে ভাইয়া বলবে, “তাই নাকি রে!” প্রথমবারে শট ওকে! তার পর থেকে মায়ের চেয়ে বাবাই সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করতেন, অনুপ্রেরণা দিতেন। আমার বাবাও কিন্তু কয়েকটি ছবি পরিচালনা করেছিলেন। “মুক্তি” (১৯৬৯), “মালকাবানু” (১৯৭৪), “বিজয়িনী সোনাভান” (১৯৭৯), “আলতাবানু” (১৯৮২) ও “রাজার মেয়ে বেদিনী” (১৯৯১)। এর মধ্যে তো “মালকাবানু” সুপারহিট। গানগুলো এখনো মানুষ গায়।’

৭৩–এ শাবানা বললেন, পরিবারটাই আমার জগৎ

বাবা যে রত্নাকে তাঁর জীবনের শুরুতে চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে দিতে চাননি, পরে সেই বাবাই হয়ে ওঠেন তাঁর অনুপ্রেরণা। একটা সময় বাবা ফয়েজ চৌধুরী পরিচালিত সিনেমায়ও অভিনয় করেছিলেন শাবানা। এভাবে ধীরে ধীরে শাবানা হয়ে ওঠেন বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের একটা বড় অধ্যায়। এ অধ্যায়ে তিনি শেষ করেন ২৯৯টি সিনেমার কাজ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন আলমগীরের বিপরীতে। এই নায়কের বিপরীতে তাঁর অভিনীত ছবির সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১৩০। এরপরই যাঁর সঙ্গে জুটি হয়ে বেশি অভিনয় করেছেন, তিনি নায়করাজ রাজ্জাক।