মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাস সবুজায়ন প্রকল্পের আওতায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ভারত–পাকিস্তান ম্যাচে টিকিটের চাহিদা বিশ্বকাপ ফাইনালের চেয়েও বেশি প্রেমের টানে সিলেটে এসে বিয়ে, পুলিশ হেফাজতে চীনা যুবক রহস্যময় প্রাণীর তদন্ত থেকে ভয়াবহ বিপর্যয় সরকারকে ব্যর্থ করতে একাত্তর ও চব্বিশের পরাজিত শক্তি অপচেষ্টা চালাচ্ছে: রাশেদ খাঁন আইপিএলে খেলার গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন মোহাম্মদ আমির নায়িকা শাবানা কেন অভিনয় ছেড়েছিলেন শ্রমিক বিক্ষোভে অবরুদ্ধ ঢাকা-আরিচা ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়ক, তীব্র যানজট শেখ হাসিনা ও কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্তের রায় কার্যকরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি বাংলাদেশকে ‘সেরা’ মেনেও শিরোপা চান ভারতের কোচ

‘ওই যে আর ডি বর্মনের বাপ যাচ্ছে!’

বিনোদন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৫:১৮:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 9
‘ওই যে আর ডি বর্মনের বাপ যাচ্ছে!’

ছেলেকে নিয়ে শচীনকর্তার নানা অভিযোগ। ছেলে নাকি শুয়ে-বসে সময় কাটায়! শরীরচর্চায় মন নেই। নিজে অবশ্য চলতেন কড়া নিয়ম মেনে। গোছানো জীবনযাপন ছিল। প্রতিদিন সকালে হাঁটতে বেরোতেন। ছেলেকেও সেই অভ্যাসে আনতে চাইতেন। বকাঝকাও করতেন। এমনই এক সকালে জুহুতে হাঁটতে বেরিয়েছেন শচীনকর্তা। পথে তাঁকে দেখে একজন বলে উঠলেন, ‘ওই যে আর ডি বর্মনের বাপ যাচ্ছে!’

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মূল তথ্য

কথাটি শুনে আনন্দে ভরে উঠল বাবার মন। বাড়ি ফিরে ছেলেকে শোনালেন ঘটনাটি। এত দিন মানুষ তাঁকে চিনেছে এসডি বর্মন হিসেবে। আজ চিনেছে আর ডি বর্মনের বাবা বলে। ছেলের এই পরিচিতি তাঁকে গর্বিত করেছিল।

ছোট কর্তা রাহুল দেববর্মন নিজেই ঘটনাটি বলেছিলেন এক সাক্ষাৎকারে। ১৯৮৪ সালের সংখ্যার ‘ফিল্মফেয়ার’-এ প্রকাশিত কথোপকথনেও পাওয়া যায় ছেলের পরিচয়ে বাবার আনন্দিত হওয়ার স্মৃতি। নিজের বিপুল খ্যাতির পাশে সন্তানের পরিচয়টিও সেদিন সানন্দে তুলে নিয়েছিলেন তিনি।

আজ আপনাদের শোনাব সেই মানুষটির কথা। বাংলা গানের শ্রোতাদের কাছে যিনি শচীনকর্তা। শচীন দেববর্মন। হিন্দি সিনেমার ‘দাদা বর্মন’। সুরকার, সংগীত পরিচালক ও গায়ক—তিন পরিচয়েই রেখে গেছেন স্বতন্ত্র ছাপ। তাঁর সুরে ধরা দিয়েছে প্রেম ও বিরহ। মিশে থেকেছে বাংলার নদী আর মাটির টান।

দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ও সামগ্রিক আলোচনা

আজ তাঁকে ফিরে দেখার বিশেষ উপলক্ষও আছে। আজ ৩১ অক্টোবর তাঁর ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে মুম্বাইয়ে মারা যান তিনি। বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।

জন্মদিনে জানা–অজানা শচীন দেববর্মন

রাজপরিবারের সন্তান, সুরে বাংলার মাটিজন্ম রাজপরিবারে। কিন্তু তাঁর সুরের অনেকখানি জুড়ে ছিল সাধারণ মানুষের জীবন। শচীন দেববর্মনের জন্ম ১৯০৬ সালের ১ অক্টোবর, কুমিল্লায়। বাবা নবদ্বীপচন্দ্র দেববর্মন ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য। মা নির্মলা দেবী মণিপুরের রাজকন্যা। কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ১৯২৪ সালে বিএ পাস করে উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতায় যান শচীন। তবে এমএ শেষ করেননি। সংগীতই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের প্রধান সাধনা।লোকগানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় শৈশবেই। সেই শিক্ষকদের সবাই নামকরা ওস্তাদ ছিলেন না। তাঁর জীবনীতে পাওয়া যায়, বাড়ির প্রবীণ সহায়ক মাধবের কণ্ঠে শুনতেন রামায়ণের কাহিনিনির্ভর গান। আর মাছ ধরার সঙ্গী আনোয়ার দোতারা বাজিয়ে গাইতেন ভাটিয়ালি। চারপাশের মানুষের মুখে শোনা এসব সুর তাঁর সংগীতবোধ গড়ে তুলেছিল।পরে কৃষ্ণচন্দ্র দে, ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়, ওস্তাদ বাদল খাঁ ও ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর মতো গুণীজনের কাছে তালিম নেন। লোকসুরের সহজ আবেদন আর শাস্ত্রীয় সংগীতের শিক্ষা এভাবেই মিলেছিল তাঁর মধ্যে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

‘ওই যে আর ডি বর্মনের বাপ যাচ্ছে!’

প্রকাশের সময় : ০৫:১৮:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ছেলেকে নিয়ে শচীনকর্তার নানা অভিযোগ। ছেলে নাকি শুয়ে-বসে সময় কাটায়! শরীরচর্চায় মন নেই। নিজে অবশ্য চলতেন কড়া নিয়ম মেনে। গোছানো জীবনযাপন ছিল। প্রতিদিন সকালে হাঁটতে বেরোতেন। ছেলেকেও সেই অভ্যাসে আনতে চাইতেন। বকাঝকাও করতেন। এমনই এক সকালে জুহুতে হাঁটতে বেরিয়েছেন শচীনকর্তা। পথে তাঁকে দেখে একজন বলে উঠলেন, ‘ওই যে আর ডি বর্মনের বাপ যাচ্ছে!’

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মূল তথ্য

কথাটি শুনে আনন্দে ভরে উঠল বাবার মন। বাড়ি ফিরে ছেলেকে শোনালেন ঘটনাটি। এত দিন মানুষ তাঁকে চিনেছে এসডি বর্মন হিসেবে। আজ চিনেছে আর ডি বর্মনের বাবা বলে। ছেলের এই পরিচিতি তাঁকে গর্বিত করেছিল।

ছোট কর্তা রাহুল দেববর্মন নিজেই ঘটনাটি বলেছিলেন এক সাক্ষাৎকারে। ১৯৮৪ সালের সংখ্যার ‘ফিল্মফেয়ার’-এ প্রকাশিত কথোপকথনেও পাওয়া যায় ছেলের পরিচয়ে বাবার আনন্দিত হওয়ার স্মৃতি। নিজের বিপুল খ্যাতির পাশে সন্তানের পরিচয়টিও সেদিন সানন্দে তুলে নিয়েছিলেন তিনি।

আজ আপনাদের শোনাব সেই মানুষটির কথা। বাংলা গানের শ্রোতাদের কাছে যিনি শচীনকর্তা। শচীন দেববর্মন। হিন্দি সিনেমার ‘দাদা বর্মন’। সুরকার, সংগীত পরিচালক ও গায়ক—তিন পরিচয়েই রেখে গেছেন স্বতন্ত্র ছাপ। তাঁর সুরে ধরা দিয়েছে প্রেম ও বিরহ। মিশে থেকেছে বাংলার নদী আর মাটির টান।

দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ও সামগ্রিক আলোচনা

আজ তাঁকে ফিরে দেখার বিশেষ উপলক্ষও আছে। আজ ৩১ অক্টোবর তাঁর ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে মুম্বাইয়ে মারা যান তিনি। বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।

জন্মদিনে জানা–অজানা শচীন দেববর্মন

রাজপরিবারের সন্তান, সুরে বাংলার মাটিজন্ম রাজপরিবারে। কিন্তু তাঁর সুরের অনেকখানি জুড়ে ছিল সাধারণ মানুষের জীবন। শচীন দেববর্মনের জন্ম ১৯০৬ সালের ১ অক্টোবর, কুমিল্লায়। বাবা নবদ্বীপচন্দ্র দেববর্মন ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য। মা নির্মলা দেবী মণিপুরের রাজকন্যা। কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ১৯২৪ সালে বিএ পাস করে উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতায় যান শচীন। তবে এমএ শেষ করেননি। সংগীতই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের প্রধান সাধনা।লোকগানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় শৈশবেই। সেই শিক্ষকদের সবাই নামকরা ওস্তাদ ছিলেন না। তাঁর জীবনীতে পাওয়া যায়, বাড়ির প্রবীণ সহায়ক মাধবের কণ্ঠে শুনতেন রামায়ণের কাহিনিনির্ভর গান। আর মাছ ধরার সঙ্গী আনোয়ার দোতারা বাজিয়ে গাইতেন ভাটিয়ালি। চারপাশের মানুষের মুখে শোনা এসব সুর তাঁর সংগীতবোধ গড়ে তুলেছিল।পরে কৃষ্ণচন্দ্র দে, ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়, ওস্তাদ বাদল খাঁ ও ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর মতো গুণীজনের কাছে তালিম নেন। লোকসুরের সহজ আবেদন আর শাস্ত্রীয় সংগীতের শিক্ষা এভাবেই মিলেছিল তাঁর মধ্যে।