বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot

এসএসসির খাতায় শূন্যকে ৮৫, ১৩-কে ৮৩ নম্বর করার ঘটনায় মামলা

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ১০:২০:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 5

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভয়াবহ অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। কোনো শিক্ষার্থীর শূন্য নম্বরকে ৮৫, আবার ১৩ নম্বরকে ৮৩ করা হয়েছে। এমনকি জিপিএ-৫ পাওয়া এক শিক্ষার্থী খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর অকৃতকার্য হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৯ লাখ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১২ লাখ। ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন থাকায় খাতা পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ দেওয়া হলে প্রায় ১৩ লাখ উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়ে।

পুনর্নিরীক্ষণের ফল তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে। অকৃতকার্য পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে এবং নতুন করে তিন হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

উত্তরপত্র মূল্যায়নে পরীক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কোনো কোনো পরীক্ষক নিজেরা খাতা না দেখে অন্যদের দিয়ে মূল্যায়ন করিয়েছেন। এসব অনিয়মে জড়িত পরীক্ষকদের আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি পরীক্ষক পরিবর্তন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মূল্যায়নব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ পাওয়া এক শিক্ষার্থীর খাতা পুনর্নিরীক্ষণের বিস্ময়কর ঘটনাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, এক শিক্ষার্থীর সন্দেহ ছিল, তার বন্ধু জিপিএ-৫ পাওয়ার যোগ্য নয়। এ কারণে বন্ধুর অজান্তেই তার পরিচয়ে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে সে। আবেদনপ্রক্রিয়ায় ভেরিফিকেশন কোডের প্রয়োজন না থাকায় এটি সম্ভব হয়।

পরে পুনর্নিরীক্ষণে দেখা যায়, জিপিএ-৫ পাওয়া ওই শিক্ষার্থী আসলে অকৃতকার্য। তার উত্তরপত্রে শূন্য নম্বরকে ৮৫ এবং ১৩ নম্বরকে ৮৩ করা হয়েছিল।

এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘জিরোকে বানিয়েছে ৮৫, ১৩-কে বানিয়েছে ৮৩, জিপিএ-৫ মানে এ-প্লাস। তার মানে কী? ডাল মে কুছ কালা হ্যায়।’

অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা কে করেছেন? এটা বের করা কত কঠিন! আজ (বুধবার) মামলা করে দিলাম। এটা বের করতে হবে আমাকে।’

শিক্ষামন্ত্রী জানান, উত্তরপত্র মূল্যায়নে এমন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত পরীক্ষকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

এসএসসির খাতায় শূন্যকে ৮৫, ১৩-কে ৮৩ নম্বর করার ঘটনায় মামলা

প্রকাশের সময় : ১০:২০:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভয়াবহ অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। কোনো শিক্ষার্থীর শূন্য নম্বরকে ৮৫, আবার ১৩ নম্বরকে ৮৩ করা হয়েছে। এমনকি জিপিএ-৫ পাওয়া এক শিক্ষার্থী খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর অকৃতকার্য হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৯ লাখ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১২ লাখ। ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন থাকায় খাতা পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ দেওয়া হলে প্রায় ১৩ লাখ উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়ে।

পুনর্নিরীক্ষণের ফল তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে। অকৃতকার্য পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে এবং নতুন করে তিন হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

উত্তরপত্র মূল্যায়নে পরীক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কোনো কোনো পরীক্ষক নিজেরা খাতা না দেখে অন্যদের দিয়ে মূল্যায়ন করিয়েছেন। এসব অনিয়মে জড়িত পরীক্ষকদের আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি পরীক্ষক পরিবর্তন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মূল্যায়নব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ পাওয়া এক শিক্ষার্থীর খাতা পুনর্নিরীক্ষণের বিস্ময়কর ঘটনাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, এক শিক্ষার্থীর সন্দেহ ছিল, তার বন্ধু জিপিএ-৫ পাওয়ার যোগ্য নয়। এ কারণে বন্ধুর অজান্তেই তার পরিচয়ে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে সে। আবেদনপ্রক্রিয়ায় ভেরিফিকেশন কোডের প্রয়োজন না থাকায় এটি সম্ভব হয়।

পরে পুনর্নিরীক্ষণে দেখা যায়, জিপিএ-৫ পাওয়া ওই শিক্ষার্থী আসলে অকৃতকার্য। তার উত্তরপত্রে শূন্য নম্বরকে ৮৫ এবং ১৩ নম্বরকে ৮৩ করা হয়েছিল।

এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘জিরোকে বানিয়েছে ৮৫, ১৩-কে বানিয়েছে ৮৩, জিপিএ-৫ মানে এ-প্লাস। তার মানে কী? ডাল মে কুছ কালা হ্যায়।’

অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা কে করেছেন? এটা বের করা কত কঠিন! আজ (বুধবার) মামলা করে দিলাম। এটা বের করতে হবে আমাকে।’

শিক্ষামন্ত্রী জানান, উত্তরপত্র মূল্যায়নে এমন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত পরীক্ষকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।