Dhaka ০৭:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন চারটি পাঠ্যবই অনুমোদন ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন পুলিশকে শক্তিশালী না করলে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা সম্ভব নয় : আইজিপি অন্যের নামে জমি রেকর্ড হলে নিজের নামে করবেন যেভাবে বিএনপি নেতা দাবি করা সেই ইউএনও বললেন ‘রসিকতা’ ‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’ স্ট্যাটাস এসিল্যান্ডের, পরে হাসপাতালে ভর্তি তিন প্রতিষ্ঠান থেকে এলএনজি কিনবে সরকার রাজবাড়ীতে রোহান হত্যা মামলার প্রবাসী আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মধুখালীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা পত্নীতলায় ট্যাপেন্টাডলসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

বিএনপি নেতা দাবি করা সেই ইউএনও বললেন ‘রসিকতা’

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৫:২৮:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 10

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদারের সুর পাল্টে গেছে। সম্প্রতি নিজেকে একটি রাজনৈতিক দলের (বিএনপি) নেতা দাবি করলেও এখন বলছেন, নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করা ছিল তার ‘রসিকতা’।

স্থানীয় সূত্র ও একাধিক সরকারি কর্মকর্তার অভিযোগ, পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম রব্বানী সরদার দাপ্তরিক বৈঠক এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে নিজেকে বিএনপির স্থানীয় নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। সম্প্রতি এক গণমাধ্যমকর্মীকে দেওয়া বক্তব্যে নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করেন তিনি। যা এরই মধ্যে টক অব দা কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে।

একজন বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডার কর্মকর্তা হয়ে দলীয় পরিচয় প্রকাশ করায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন ওঠে।

সাধারণ মানুষ ও সেবা নিতে আসা প্রার্থীরা বলছেন, দলীয় পরিচয়ের কারণে নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে সাধারণ মানুষ সেবা পেতে গিয়ে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। কোনো বিষয়ে জানতে চাইলে বা প্রতিকার চাইতে গেলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করেন তিনি।

উপজেলা কমিউনিষ্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মুর্তজা আলম বলেন, ইউএনও মানুষকে মানুষ মনে করেন না। তার দপ্তরে ঢুকতে দরজায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।

ঢোকার অনুমতি পেলেও চেয়ারে বসা যায় না। টাকা ছাড়া কোনো কাজ করেন না। টাকা পেলে আবার ভালো আচরণ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির এক নেতা জানান, তাদের সঙ্গেও ইউএনও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য আচরণ করেন। তার আচারণে শিক্ষক সমাজ ক্ষুব্ধ।

বাদল হোসেন নামে স্থানীয় এক সংবাদকর্মী জানান, ইউএনও গোলাম রব্বানী সবসময় নিজেকে বিএনপির ক্যাডার ভাবেন। কথায় কথায় মানুষকে জ্ঞান দেন। অথচ আমি যতটা জেনেছি ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন তিনি।

যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা খয়রাত আলী জানান, জাহিদুর এমপি ছাড়া এই ইউএনও কারো সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন না। আমার সঙ্গেও একাধিকবার খারাপ আচরণ করেছেন। এমপিকে হাতে রেখে সার ডিলার নিয়োগসহ টিআর-কাবিখা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা লুটপাট করছেন তিনি।

উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইউএনও অফিসে যোগদানের পর থেকেই সহকর্মীদের সঙ্গে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। কর্মচারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং বদলি বা সাময়িক বরখাস্ত করার হুমকি দেন তিনি।

একজন বিসিএস কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি অফিসে একটি পেশাদার ও সেবামুখী পরিবেশ থাকার কথা, কিন্তু এখানে এখন ইউএনওর রাম রাজত্ব চলছে। অফিসারদের সারাক্ষণ এক ধরনের মানসিক চাপের মধ্যে থাকতে হয়। অফিসার্স ক্লাবে কেউ যান না।

ঠাকুরগাঁও জজ কোর্টের সিনিয়র আইজীবী আবু সায়েম বলেন, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯ অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন না বা রাজনৈতিক পরিচয় দিতে পারেন না। কিন্তু পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারএ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ফলাও করে প্রচার করছেন। একজন সরকারি কর্মকর্তার এ ধরনের আচরণ প্রশাসন ও জনগণের মধ্যকার আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম রব্বানী সরদার বলেন, আমি কারো সঙ্গে অসদাচরণ করিনি, নিয়ম মেনে চাকরি করছি। নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি রসিকতা করে বলেছি।’

সূত্র: কালের কণ্ঠ

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বিএনপি নেতা দাবি করা সেই ইউএনও বললেন ‘রসিকতা’

প্রকাশের সময় : ০৫:২৮:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদারের সুর পাল্টে গেছে। সম্প্রতি নিজেকে একটি রাজনৈতিক দলের (বিএনপি) নেতা দাবি করলেও এখন বলছেন, নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করা ছিল তার ‘রসিকতা’।

স্থানীয় সূত্র ও একাধিক সরকারি কর্মকর্তার অভিযোগ, পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম রব্বানী সরদার দাপ্তরিক বৈঠক এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে নিজেকে বিএনপির স্থানীয় নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। সম্প্রতি এক গণমাধ্যমকর্মীকে দেওয়া বক্তব্যে নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করেন তিনি। যা এরই মধ্যে টক অব দা কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে।

একজন বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডার কর্মকর্তা হয়ে দলীয় পরিচয় প্রকাশ করায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন ওঠে।

সাধারণ মানুষ ও সেবা নিতে আসা প্রার্থীরা বলছেন, দলীয় পরিচয়ের কারণে নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে সাধারণ মানুষ সেবা পেতে গিয়ে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। কোনো বিষয়ে জানতে চাইলে বা প্রতিকার চাইতে গেলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করেন তিনি।

উপজেলা কমিউনিষ্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মুর্তজা আলম বলেন, ইউএনও মানুষকে মানুষ মনে করেন না। তার দপ্তরে ঢুকতে দরজায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।

ঢোকার অনুমতি পেলেও চেয়ারে বসা যায় না। টাকা ছাড়া কোনো কাজ করেন না। টাকা পেলে আবার ভালো আচরণ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির এক নেতা জানান, তাদের সঙ্গেও ইউএনও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য আচরণ করেন। তার আচারণে শিক্ষক সমাজ ক্ষুব্ধ।

বাদল হোসেন নামে স্থানীয় এক সংবাদকর্মী জানান, ইউএনও গোলাম রব্বানী সবসময় নিজেকে বিএনপির ক্যাডার ভাবেন। কথায় কথায় মানুষকে জ্ঞান দেন। অথচ আমি যতটা জেনেছি ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন তিনি।

যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা খয়রাত আলী জানান, জাহিদুর এমপি ছাড়া এই ইউএনও কারো সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন না। আমার সঙ্গেও একাধিকবার খারাপ আচরণ করেছেন। এমপিকে হাতে রেখে সার ডিলার নিয়োগসহ টিআর-কাবিখা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা লুটপাট করছেন তিনি।

উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইউএনও অফিসে যোগদানের পর থেকেই সহকর্মীদের সঙ্গে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। কর্মচারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং বদলি বা সাময়িক বরখাস্ত করার হুমকি দেন তিনি।

একজন বিসিএস কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি অফিসে একটি পেশাদার ও সেবামুখী পরিবেশ থাকার কথা, কিন্তু এখানে এখন ইউএনওর রাম রাজত্ব চলছে। অফিসারদের সারাক্ষণ এক ধরনের মানসিক চাপের মধ্যে থাকতে হয়। অফিসার্স ক্লাবে কেউ যান না।

ঠাকুরগাঁও জজ কোর্টের সিনিয়র আইজীবী আবু সায়েম বলেন, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯ অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন না বা রাজনৈতিক পরিচয় দিতে পারেন না। কিন্তু পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারএ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ফলাও করে প্রচার করছেন। একজন সরকারি কর্মকর্তার এ ধরনের আচরণ প্রশাসন ও জনগণের মধ্যকার আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম রব্বানী সরদার বলেন, আমি কারো সঙ্গে অসদাচরণ করিনি, নিয়ম মেনে চাকরি করছি। নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি রসিকতা করে বলেছি।’

সূত্র: কালের কণ্ঠ