মুরগির দাম বাড়লেও কমেছে ডিমের দাম

- প্রকাশের সময় : ১২:৩৩:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
শারদীয় দুর্গাপূজার টানা ছুটির প্রভাব পড়েছে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি কিছুটা কম হলেও চাল, ডাল, তেলসহ অধিকাংশ পণ্যের দাম চড়া মূল্যে আটকে রয়েছে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে ব্রয়লার ও সোনালী মুরগির দাম বাড়লেও স্বস্তি ফিরেছে ডিমের বাজারে। এছাড়া বাজারে শীতকালীন নতুন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে।
আজ শুক্রবার রাজধানীর রামপুরা, শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচাসহ বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে বাজারদরের এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার থেকে হঠাৎ করেই মুরগির দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত সপ্তাহে কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগি এখন সর্বনিম্ন ১৮০ টাকা থেকে শুরু করে বেশিরভাগ দোকানে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সোনালী মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত সপ্তাহে ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া সোনালী মুরগি বর্তমানে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
মুরগির দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে রামপুরা বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ কয়েক দিন ধরে খামার পর্যায়েই মুরগির সরবরাহ কিছুটা কম। টানা ছুটির কারণে এমনটা হতে পারে। সেই সঙ্গে পরিবহন খরচ ও পোল্ট্রি ফিডের (খাবার) দাম চড়া থাকায় আড়তদারদের বেশি দামে মুরগি কিনতে হচ্ছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।
মুরগির বাজার উত্তপ্ত হলেও সাধারণ ক্রেতাদের স্বস্তি দিচ্ছে ডিমের দাম। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় ডিমের দাম এখন বেশ নিম্নমুখী। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১৫ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে। গত সপ্তাহে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ডজন ডিম ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় নেমে এসেছে। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানে এখনো প্রতি হালি ডিমের দাম ৫০ টাকা রাখা হচ্ছে, যা আগে ১৫৫ টাকা ডজন ছিল।
ডিম ব্যবসায়ী আসাদুল্লাহ বলেন, সরকারি নানা নজরদারি এবং বাজার তদারকির কারণে পাইকারি পর্যায়ে ডিমের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। তাছাড়া ছুটির মধ্যে ডিমের চাহিদাও কিছুটা কম ছিল। আড়তে ডিম জমিয়ে রাখার কোনো সুযোগ নেই। ফলে ডিমের দাম আগের চেয়ে কমে এসেছে এবং আগামী কয়েক দিন এই দাম আরও কিছুটা কমতে পারে।
এদিকে পুরোদমে শীত না এলেও ঋতু পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে সবজির বাজারে। মৌসুমের আগাম সবজির সরবরাহ বাজারে প্রতিনিয়ত বাড়ছে। নতুন হিসেবে বরাবরের মতোই এসব সবজি বেশ চড়া দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, নতুন সবজির সরবরাহ বাড়ায় পুরনো সবজিগুলোর দাম বাজারভেদে খানিকটা কমতে শুরু করেছে।
নতুন সবজি হিসেবে এখন প্রায় সব দোকানেই ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা ও শিম পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি ফুলকপি আকার ও বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত দামে। একইভাবে বাজারে আসা প্রতিটি বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়া মুলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে।
এসব নতুন সবজির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম চড়া নতুন শিমের। নতুন শিমের স্বাদ নিতে ভোক্তাকে কেজিপ্রতি গুণতে হচ্ছে অন্তত ১২০ থেকে ১৬০ টাকা। যদিও এই দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে প্রায় ২০ টাকা কম। সবজি বিক্রেতারা জানান, সপ্তাহ দুয়েক ধরেই এসব সবজি বাজারে আসছে এবং ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়ার সাথে সাথে দামও কমে আসছে।
অন্যদিকে পূজার ছুটির কারণে বাজারে ক্রেতা কমায় অন্যান্য সাধারণ সবজির দামও কমেছে। লম্বা বেগুন প্রতি কেজি সপ্তাহ দুয়েক আগেও যেখানে ৯০ থেকে ১০০ টাকা ছিল, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। প্রতি কেজি পটল ও ঢ্যাঁড়সের দাম নেমে এসেছে ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। এছাড়া করলা, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে কেনা যাচ্ছে। তবে চাল, ডাল, তেলসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগের মতোই উচ্চমূল্যে আটকে আছে। গত এক সপ্তাহে এসব পণ্যের দামে কোনো হেরফের লক্ষ্য করা যায়নি।





















