বিএনপিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর তারেক রহমান, সতর্ক নেতা-কর্মীরা

- প্রকাশের সময় : ০৯:৫০:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
- / 2
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি ও নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর নির্দেশনায় একের পর এক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ায় সতর্ক হয়ে উঠেছেন দলটির মন্ত্রী, সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ এবং সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বার্তা স্পষ্ট—দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অন্যায় করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
গত ১১ অক্টোবর বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল আচরণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে সাধারণ নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী নেতাদেরও দলীয় শৃঙ্খলার আওতায় থাকার বার্তা দেওয়া হয়।
বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অনিয়মে জড়ানোর অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক পদ হারানোর পাশাপাশি কঠোর ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে পারেন সংশ্লিষ্টরা। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এমন অবস্থান সারা দেশের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সতর্কতা তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা দেশবাসী সাদরে গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে দলীয় নেতা-কর্মীরা সতর্ক রয়েছেন।
বিএনপি চেয়ারম্যানের আরেক উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তারেক রহমান দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে আসছেন। এখন সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাঁরা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, সংগঠনের কোনো নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব কিংবা শৃঙ্খলা ভঙ্গের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কারসহ কঠোর সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসান জাফির তুহিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে তাঁরা দলীয়ভাবে তাঁর নীতি অনুসরণ করছেন।
কমিটি বিলুপ্তি ও বহিষ্কারে কঠোর বার্তা
দলীয় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই সময়ে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল এবং ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্তির ঘোষণা আসে। পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিটি বিলুপ্তির আগের দিন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বোঝাতে চাইছে, সাংগঠনিক পদ কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব কোনো অনিয়মের দায় থেকে কাউকে রক্ষা করবে না। স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার, দখলদারিত্ব বা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বকেও জবাবদিহির আওতায় আসতে হতে পারে।
মন্ত্রী-এমপিদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার বার্তা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কঠোর অবস্থান শুধু তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠকেও জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বশীল আচরণ, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দলটির নেতাদের মতে, জনপ্রতিনিধিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো বিতর্ক তৈরি হলে তা সরকারের পাশাপাশি দলের ভাবমূর্তিতেও প্রভাব ফেলে। এ কারণে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের আচরণ এবং কর্মকাণ্ডের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, প্রজ্ঞাপন জারি
এদিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করায় তা কার্যকর হয়েছে।
ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের পর বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীসহ পূর্ণ মন্ত্রী রয়েছেন ২৭ জন এবং প্রতিমন্ত্রী ২৩ জন।
তৃণমূলেও নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ
বিএনপির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনা তৃণমূল পর্যন্ত কার্যকর করা। রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি এবং অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
দলীয় নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কঠোর অবস্থান মাঠপর্যায়েও কার্যকর হলে দলীয় পরিচয়ে অপকর্মের প্রবণতা কমবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন





















