Dhaka ০৮:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

সরকারি সোয়া কোটি টাকা আত্মসাৎ, কারাগারের জেলার বরখাস্ত

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৩০:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 3

সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের জেলার মো. আব্দুল ফাত্তাহকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। একই সঙ্গে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া বিল দাখিল ও বিধিবহির্ভূতভাবে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-৩ শাখা থেকে জারি করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী প্রজ্ঞাপন দুটি জারি করেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মো. আব্দুল ফাত্তাহ ২০২৩ সালের ১৭ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পঞ্চগড় জেলা কারাগারের জেলার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই সময়ে খোরাকি রেশন খাতে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। কারা অধিদপ্তরের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির সরেজমিন তদন্তে তিনটি ভুয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৫৭টি ভুয়া বিল অনুমোদন করে মোট এক কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এ ঘটনায় জেলার, জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কারারক্ষী মো. জাফর মাহামুদ শাকিলের যোগসাজশের বিষয়টি উঠে এসেছে। আত্মসাৎ করা অর্থের মধ্যে ৯টি চালানের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের পঞ্চগড় শাখায় মোট এক কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে আব্দুল ফাত্তাহ ৪০ লাখ টাকা জমা দিয়েছেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া কারাগারে বন্দির সংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও চারটি পৃথক চাহিদাপত্রের মাধ্যমে খোরাকি রেশন খাতে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের চেষ্টা এবং আর্থিক নথিপত্র প্রক্রিয়াকরণে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়।

এসব অভিযোগে ২০২৫ সালে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শের ভিত্তিতে এ দণ্ড চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এ দিকে, আরেকটি প্রজ্ঞাপনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন জেলা আদালতের সমন ও সাক্ষ্য প্রদানের সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করে আদালতে সাক্ষ্য না দিয়েও ভুয়া বিলের বিপরীতে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ভ্রমণকারী কর্মকর্তা, নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা ও প্রত্যয়নপত্রের স্থানে তিন ধরনের স্বাক্ষর ব্যবহার করা হলেও প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষকের সিল ব্যবহারের বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দুলাল কৃষ্ণ সাহা ২০০০ সালের ২৮ জুন রাসায়নিক পরীক্ষক পদে ষষ্ঠ গ্রেডে যোগ দেন। ২০২৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একই গ্রেডে কর্মরত থাকাকালে তিনি দেশের অভ্যন্তরে বিমানযোগে ভ্রমণের প্রাধিকারভুক্ত না হয়েও ২৩ বছরে শতাধিকবার বিভিন্ন স্থানে বিমানে যাতায়াতের ভ্রমণ বিল দাখিল করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূতভাবে সরকারি কোষাগার থেকে ৩ লাখ ১৫ হাজার ৭৫৭ টাকা উত্তোলনের বিষয়টি উঠে আসে। এ ঘটনায় ২০২৫ সালে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শের ভিত্তিতে এ দণ্ড চূড়ান্ত করা হয়।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

সরকারি সোয়া কোটি টাকা আত্মসাৎ, কারাগারের জেলার বরখাস্ত

প্রকাশের সময় : ০৬:৩০:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের জেলার মো. আব্দুল ফাত্তাহকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। একই সঙ্গে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া বিল দাখিল ও বিধিবহির্ভূতভাবে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-৩ শাখা থেকে জারি করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী প্রজ্ঞাপন দুটি জারি করেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মো. আব্দুল ফাত্তাহ ২০২৩ সালের ১৭ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পঞ্চগড় জেলা কারাগারের জেলার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই সময়ে খোরাকি রেশন খাতে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। কারা অধিদপ্তরের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির সরেজমিন তদন্তে তিনটি ভুয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৫৭টি ভুয়া বিল অনুমোদন করে মোট এক কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এ ঘটনায় জেলার, জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কারারক্ষী মো. জাফর মাহামুদ শাকিলের যোগসাজশের বিষয়টি উঠে এসেছে। আত্মসাৎ করা অর্থের মধ্যে ৯টি চালানের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের পঞ্চগড় শাখায় মোট এক কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে আব্দুল ফাত্তাহ ৪০ লাখ টাকা জমা দিয়েছেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া কারাগারে বন্দির সংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও চারটি পৃথক চাহিদাপত্রের মাধ্যমে খোরাকি রেশন খাতে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের চেষ্টা এবং আর্থিক নথিপত্র প্রক্রিয়াকরণে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়।

এসব অভিযোগে ২০২৫ সালে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শের ভিত্তিতে এ দণ্ড চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এ দিকে, আরেকটি প্রজ্ঞাপনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন জেলা আদালতের সমন ও সাক্ষ্য প্রদানের সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করে আদালতে সাক্ষ্য না দিয়েও ভুয়া বিলের বিপরীতে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ভ্রমণকারী কর্মকর্তা, নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা ও প্রত্যয়নপত্রের স্থানে তিন ধরনের স্বাক্ষর ব্যবহার করা হলেও প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষকের সিল ব্যবহারের বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দুলাল কৃষ্ণ সাহা ২০০০ সালের ২৮ জুন রাসায়নিক পরীক্ষক পদে ষষ্ঠ গ্রেডে যোগ দেন। ২০২৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একই গ্রেডে কর্মরত থাকাকালে তিনি দেশের অভ্যন্তরে বিমানযোগে ভ্রমণের প্রাধিকারভুক্ত না হয়েও ২৩ বছরে শতাধিকবার বিভিন্ন স্থানে বিমানে যাতায়াতের ভ্রমণ বিল দাখিল করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূতভাবে সরকারি কোষাগার থেকে ৩ লাখ ১৫ হাজার ৭৫৭ টাকা উত্তোলনের বিষয়টি উঠে আসে। এ ঘটনায় ২০২৫ সালে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শের ভিত্তিতে এ দণ্ড চূড়ান্ত করা হয়।