সৌদির কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ১২, দুজন বাংলাদেশি
- প্রকাশের সময় : ১০:৩৯:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
- / 5
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। হামলার পর নিরাপত্তার কারণে বিমানবন্দরটির সব ধরনের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যে রিয়াদের এই বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটল। এতে সৌদি আরবসহ পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক এবং দুজন বাংলাদেশি রয়েছেন। অন্য নিহতদের মধ্যে মিসর, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সুদান, সিরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক রয়েছেন। হামলার পরপরই আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসার জন্য ২০টির বেশি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে ছুটে যায় বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী।
নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে রিয়াদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশের কূটনৈতিক মিশন তাদের নাগরিকদের বিমানবন্দর এলাকা এড়িয়ে চলার সতর্কতা দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরও পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশটির নাগরিকদের নিরাপদ দূরত্বে থাকার এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কুয়েত এয়ারওয়েজসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি বিমান সংস্থা রিয়াদগামী এবং রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইট বাতিল করেছে। ফ্লাইট চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদের উদ্দেশে যাত্রা করা বিমানগুলো অন্য গন্তব্যে পাঠানো হয়েছে অথবা সেগুলোর যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের দ্রুত উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি ৪০১ নম্বর গেটে হামলার ঘটনা নিজের চোখে দেখেছেন। হামলার পর বহু মানুষকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। চারদিকে আতঙ্ক ও হাহাকার ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে যাত্রীরা ছোটাছুটি শুরু করেন।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, রিয়াদের পাশাপাশি পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনো নিক্ষিপ্ত বস্তুর অংশ এসে পড়েছে। এর আগে গত ৬ ও ৭ অক্টোবরসহ সাম্প্রতিক সময়ে আরও কয়েকটি হামলার ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের হস্তক্ষেপের পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত চলে আসছে।
২০১৫ সালে ইয়েমেনের স্বীকৃত সরকারকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি আরব সামরিক জোট গঠিত হয়। এরপর দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয় দেখা দেয়। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও চলতি বছরের জুলাই থেকে নতুন করে সংঘাত বাড়তে শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়ে দেশটির বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা এবং লোহিত সাগরে চলাচলকারী ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি ও হামলা জোরদার করেছে।
রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার পর সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ইয়েমেনের সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি ও আল জাজিরা।





















