Dhaka ০৭:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সংসদে গেলে ইসলামবিরোধী আইনে সমর্থন দেব না: মির্জা ফয়সল আমিন বিশ্বের সবচেয়ে ভারী কুমড়া ফলিয়ে বিশ্বরেকর্ড ভাঙলেন চাষি রাজবাড়ীতে রোহান হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৩ বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে তরুণদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: প্রতিমন্ত্রী খৈয়ম মক্কা-মদিনায় আক্রমণ হলে বাহিনী পাঠাতে প্রস্তুত ঢাকা: হুমায়ুন কবির সব বিভাগে বৃষ্টির আভাস, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের সম্ভাবনা সুপারিশপ্রাপ্ত বিচারকদের ডোপ টেস্ট ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ যুদ্ধ বন্ধে ইরানের শর্ত ট্রাম্পকে জানালেন পুতিন দিল্লিতে মমতা ব্যানার্জি আটক বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের শর্ত ট্রাম্পকে জানালেন পুতিন

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৩৩:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 6

ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে তেহরানের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

এদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আগামী কয়েক মাসে রাশিয়ার ১০ লাখ টনের বেশি ডিজেল রফতানির অনুমতি দিতে পুতিনের সঙ্গে সমঝোতার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের শর্ত ও অবস্থান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রুশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করে পুতিন সংঘাতের সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে ইরানের অবস্থান ট্রাম্পকে জানিয়েছেন।

পেসকভ বলেন, “ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করে পুতিন সংঘাতের সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে ইরানি পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন।”

তবে ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধে ঠিক কী কী শর্ত দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে ক্রেমলিনের বক্তব্যে বিস্তারিত জানানো হয়নি। একইভাবে পুতিনের মাধ্যমে তেহরানের অবস্থান জানানোর পর ট্রাম্প কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তা-ও স্পষ্ট নয়।

রুশ ডিজেল রফতানিতে ট্রাম্প-পুতিন সমঝোতা
যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতার খবরের পাশাপাশি রাশিয়ার জ্বালানি রফতানি নিয়েও নতুন সমঝোতার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে তার এমন একটি চুক্তি হয়েছে, যার আওতায় আগামী কয়েক মাসে রাশিয়া ১০ লাখ টনের বেশি ডিজেল রফতানি করতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা সত্ত্বেও এ রফতানির সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। তার দাবি, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যেই তিনি এ সমঝোতা করেছেন।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং পরিবহনব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার ডিজেল রফতানির সুযোগ বিশ্ববাজারে সরবরাহ বাড়াতে সহায়তা করতে পারে বলে মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

তবে রাশিয়ার ডিজেল রফতানির এ সমঝোতা জ্বালানির দাম কতটা কমাতে পারবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। এর প্রভাব নির্ভর করবে রফতানির প্রকৃত পরিমাণ, সরবরাহের সময়সূচি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর।

যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা
পুতিনের মাধ্যমে ইরানের অবস্থান ট্রাম্পের কাছে পৌঁছানোর ঘটনা চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক যোগাযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এ যোগাযোগ থেকে যুদ্ধবিরতি বা স্থায়ী সমঝোতার কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গেছে কি না, তা এখনও জানা যায়নি।

ইরানের শর্তগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং সম্ভাব্য আলোচনার পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে মস্কো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ফলে পুতিনের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতার পথ কতটা এগোবে, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।

একদিকে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের অবস্থান নিয়ে আলোচনা, অন্যদিকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা- দুটি ঘটনাই চলমান সংঘাতের আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও জ্বালানিবাজারে সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টি সামনে এনেছে। সূত্র: আল-জাজিরা

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের শর্ত ট্রাম্পকে জানালেন পুতিন

প্রকাশের সময় : ০৫:৩৩:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে তেহরানের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

এদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আগামী কয়েক মাসে রাশিয়ার ১০ লাখ টনের বেশি ডিজেল রফতানির অনুমতি দিতে পুতিনের সঙ্গে সমঝোতার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের শর্ত ও অবস্থান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রুশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করে পুতিন সংঘাতের সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে ইরানের অবস্থান ট্রাম্পকে জানিয়েছেন।

পেসকভ বলেন, “ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করে পুতিন সংঘাতের সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে ইরানি পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন।”

তবে ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধে ঠিক কী কী শর্ত দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে ক্রেমলিনের বক্তব্যে বিস্তারিত জানানো হয়নি। একইভাবে পুতিনের মাধ্যমে তেহরানের অবস্থান জানানোর পর ট্রাম্প কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তা-ও স্পষ্ট নয়।

রুশ ডিজেল রফতানিতে ট্রাম্প-পুতিন সমঝোতা
যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতার খবরের পাশাপাশি রাশিয়ার জ্বালানি রফতানি নিয়েও নতুন সমঝোতার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে তার এমন একটি চুক্তি হয়েছে, যার আওতায় আগামী কয়েক মাসে রাশিয়া ১০ লাখ টনের বেশি ডিজেল রফতানি করতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা সত্ত্বেও এ রফতানির সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। তার দাবি, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যেই তিনি এ সমঝোতা করেছেন।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং পরিবহনব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার ডিজেল রফতানির সুযোগ বিশ্ববাজারে সরবরাহ বাড়াতে সহায়তা করতে পারে বলে মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

তবে রাশিয়ার ডিজেল রফতানির এ সমঝোতা জ্বালানির দাম কতটা কমাতে পারবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। এর প্রভাব নির্ভর করবে রফতানির প্রকৃত পরিমাণ, সরবরাহের সময়সূচি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর।

যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা
পুতিনের মাধ্যমে ইরানের অবস্থান ট্রাম্পের কাছে পৌঁছানোর ঘটনা চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক যোগাযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এ যোগাযোগ থেকে যুদ্ধবিরতি বা স্থায়ী সমঝোতার কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গেছে কি না, তা এখনও জানা যায়নি।

ইরানের শর্তগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং সম্ভাব্য আলোচনার পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে মস্কো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ফলে পুতিনের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতার পথ কতটা এগোবে, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।

একদিকে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের অবস্থান নিয়ে আলোচনা, অন্যদিকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা- দুটি ঘটনাই চলমান সংঘাতের আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও জ্বালানিবাজারে সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টি সামনে এনেছে। সূত্র: আল-জাজিরা