Dhaka ১২:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ককরোচ পার্টির কর্মসূচি : দিল্লিতে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ আটক ১০০০ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ সিজেপিকে মোকাবিলায় নয়াদিল্লিতে ২৫ হাজার পুলিশ, ৩ শতাধিক ক্যামেরা বীথির মৃত্যু: সেবার পেশায় থেকেও অপচিকিৎসার বলি! বর্ণিল আয়োজনে শুরু ২ দিন ব্যাপী বাংলা উৎসব॥ সহস্রাধিক শিশ-কিশোরের ঊচ্ছ্বাস পানামায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, বড় বিপর্যয় ঘোষণা প্রেসিডেন্টের কুমিল্লায় তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন অটোরিকশাচালক সুমন: পুলিশ বিক্ষোভের আগের রাতে থমথমে দিল্লি, ট্রেনের পর ইন্টারনেটও বন্ধ ঘোষণা দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরলে দায় জামায়াতকে নিতে হবে: শামা ওবায়েদ সৌদি আরবে হুতিদের হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দা

সিজেপিকে মোকাবিলায় নয়াদিল্লিতে ২৫ হাজার পুলিশ, ৩ শতাধিক ক্যামেরা

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:২৭:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 2

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে রাজধানীজুড়ে ২৫ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩০০টির বেশি নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন এবং ১২টি অস্থায়ী আটক কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

রোববার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শনিবার থেকেই নয়াদিল্লিতে ছুটির আমেজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর পরিস্থিতি ভিন্ন। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি আজ নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ‘মহাসমাবেশ ও বিক্ষোভ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

বিক্ষোভের বিস্তার ঠেকাতে শুক্রবার রাত ১০টা থেকে যন্তর মন্তর ও এর আশপাশের চার কিলোমিটার এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।

রাজধানী ও আশপাশের এলাকা এবং অন্যান্য রাজ্য থেকে লোকজনের বিক্ষোভে যোগদান ঠেকাতে শনিবার দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ২৫০টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রশাসনিক বিধিনিষেধ, অতীতের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, বিশাল জনসমাগম এবং নিরাপত্তা ও যান চলাচলে সম্ভাব্য বিঘ্নের আশঙ্কায় দিল্লি পুলিশ আগেই যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজ্য পুলিশপ্রধানদের স্বরাষ্ট্র সচিবের নির্দেশ

সিজেপির সম্ভাব্য বিক্ষোভ কর্মসূচিকে সামনে রেখে ভারতের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পুলিশপ্রধানদের চিঠি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব গোবিন্দ মোহন। চিঠিতে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ৯ অক্টোবর পাঠানো চিঠিতে গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, অনুমতি না থাকলেও সিজেপির সদস্য ও সমর্থকেরা দিল্লিতে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারেন। এ কারণে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সীমান্ত তদারককারী কর্তৃপক্ষকে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে।

নয়াদিল্লির সীমান্ত এলাকাগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীতে প্রবেশকারী যানবাহনে নজরদারি ও তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শনিবার দিল্লির মদের দোকান ও পানশালা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভের জন্য লোকজনকে সংগঠিত করার প্রচেষ্টার ওপরও নজর রাখছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভসংক্রান্ত পোস্ট ও বার্তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০ জনের বেশি বিষয়বস্তু নির্মাতাও পুলিশের নজরদারির আওতায় রয়েছেন।

যন্তর মন্তরের দেড় কিলোমিটারের সংবেদনশীল এলাকায় সাড়ে ছয় হাজার নিরাপত্তাকর্মী

যন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় এবং দিল্লি পুলিশ সদর দপ্তরকে ঘিরে প্রায় দেড় কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ এলাকায় ছয় হাজার ৫০০-এর বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়া সড়কগুলোতে অন্তত সাত স্তরের ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া নয়াদিল্লি জেলাকে ২০টির বেশি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে।

নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) ১২০টির বেশি কোম্পানি মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি ও সক্ষমতা যাচাই করতে বিভিন্ন স্থানে মহড়াও চালানো হয়েছে।

সংবেদনশীল স্থানগুলোতে লাউডস্পিকার স্থাপন করে মানুষকে জানানো হচ্ছে যে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে অননুমোদিত জমায়েত, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি ও সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

১২টি আটক কেন্দ্র প্রস্তুত

বিক্ষোভ চলাকালে আটক ব্যক্তিদের রাখার জন্য যন্তর মন্তরসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ১২টি অস্থায়ী আটক কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে দিল্লি পুলিশ। সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম।

ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা সদস্যদের সংযত আচরণ করতে এবং পেশাদারত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি উসকানিতে সাড়া না দেওয়া এবং অতীতে সিজেপির বিক্ষোভ মোকাবিলার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর নয়াদিল্লি ও মধ্য দিল্লির হোটেল, আবাসিক নিবাস এবং অতিথিশালাগুলোতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আবাসনসেবাদাতাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে স্বল্পমেয়াদি আবাসনসেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এবং বাড়ির মালিকদেরও।

৩০০ ক্যামেরা, শরীরে সংযুক্ত ক্যামেরা ও ধারণকারী দল

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানগুলোতে শব্দ ও ছবি ধারণের সুবিধাসহ ৩০০টির বেশি নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং এর ঊর্ধ্বতন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের শরীরে সংযুক্ত ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি ও পুলিশের কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে নথিবদ্ধ করতে প্রায় ১০০ জন আলোকচিত্রী ও ভিডিওচিত্র ধারণকারীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া দিল্লি পুলিশ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন করতে কমিউনিটি সেন্টার, মসজিদ ও আবাসিক কল্যাণ সমিতির মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেছে। এতে জানানো হচ্ছে, বিক্ষোভ কর্মসূচির কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।

চার কিলোমিটার এলাকায় ২৪ ঘণ্টা মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ

৯ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে ১০ অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত যন্তর মন্তরের জনপথ-কর্তব্য পথ সংযোগস্থল থেকে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর দিল্লি পুলিশের বিশেষ শাখা এ নির্দেশ জারি করেছে। নির্দেশটি সব ধরনের মোবাইল ইন্টারনেট প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এয়ারটেল, জিও, ভিআই ও এমটিএনএল—এসব পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে পরিষেবা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

সিজেপিকে মোকাবিলায় নয়াদিল্লিতে ২৫ হাজার পুলিশ, ৩ শতাধিক ক্যামেরা

প্রকাশের সময় : ১১:২৭:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে রাজধানীজুড়ে ২৫ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩০০টির বেশি নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন এবং ১২টি অস্থায়ী আটক কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

রোববার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শনিবার থেকেই নয়াদিল্লিতে ছুটির আমেজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর পরিস্থিতি ভিন্ন। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি আজ নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ‘মহাসমাবেশ ও বিক্ষোভ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

বিক্ষোভের বিস্তার ঠেকাতে শুক্রবার রাত ১০টা থেকে যন্তর মন্তর ও এর আশপাশের চার কিলোমিটার এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।

রাজধানী ও আশপাশের এলাকা এবং অন্যান্য রাজ্য থেকে লোকজনের বিক্ষোভে যোগদান ঠেকাতে শনিবার দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ২৫০টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রশাসনিক বিধিনিষেধ, অতীতের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, বিশাল জনসমাগম এবং নিরাপত্তা ও যান চলাচলে সম্ভাব্য বিঘ্নের আশঙ্কায় দিল্লি পুলিশ আগেই যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজ্য পুলিশপ্রধানদের স্বরাষ্ট্র সচিবের নির্দেশ

সিজেপির সম্ভাব্য বিক্ষোভ কর্মসূচিকে সামনে রেখে ভারতের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পুলিশপ্রধানদের চিঠি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব গোবিন্দ মোহন। চিঠিতে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ৯ অক্টোবর পাঠানো চিঠিতে গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, অনুমতি না থাকলেও সিজেপির সদস্য ও সমর্থকেরা দিল্লিতে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারেন। এ কারণে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সীমান্ত তদারককারী কর্তৃপক্ষকে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে।

নয়াদিল্লির সীমান্ত এলাকাগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীতে প্রবেশকারী যানবাহনে নজরদারি ও তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শনিবার দিল্লির মদের দোকান ও পানশালা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভের জন্য লোকজনকে সংগঠিত করার প্রচেষ্টার ওপরও নজর রাখছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভসংক্রান্ত পোস্ট ও বার্তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০ জনের বেশি বিষয়বস্তু নির্মাতাও পুলিশের নজরদারির আওতায় রয়েছেন।

যন্তর মন্তরের দেড় কিলোমিটারের সংবেদনশীল এলাকায় সাড়ে ছয় হাজার নিরাপত্তাকর্মী

যন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় এবং দিল্লি পুলিশ সদর দপ্তরকে ঘিরে প্রায় দেড় কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ এলাকায় ছয় হাজার ৫০০-এর বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়া সড়কগুলোতে অন্তত সাত স্তরের ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া নয়াদিল্লি জেলাকে ২০টির বেশি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে।

নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) ১২০টির বেশি কোম্পানি মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি ও সক্ষমতা যাচাই করতে বিভিন্ন স্থানে মহড়াও চালানো হয়েছে।

সংবেদনশীল স্থানগুলোতে লাউডস্পিকার স্থাপন করে মানুষকে জানানো হচ্ছে যে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে অননুমোদিত জমায়েত, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি ও সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

১২টি আটক কেন্দ্র প্রস্তুত

বিক্ষোভ চলাকালে আটক ব্যক্তিদের রাখার জন্য যন্তর মন্তরসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ১২টি অস্থায়ী আটক কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে দিল্লি পুলিশ। সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম।

ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা সদস্যদের সংযত আচরণ করতে এবং পেশাদারত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি উসকানিতে সাড়া না দেওয়া এবং অতীতে সিজেপির বিক্ষোভ মোকাবিলার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর নয়াদিল্লি ও মধ্য দিল্লির হোটেল, আবাসিক নিবাস এবং অতিথিশালাগুলোতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আবাসনসেবাদাতাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে স্বল্পমেয়াদি আবাসনসেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এবং বাড়ির মালিকদেরও।

৩০০ ক্যামেরা, শরীরে সংযুক্ত ক্যামেরা ও ধারণকারী দল

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানগুলোতে শব্দ ও ছবি ধারণের সুবিধাসহ ৩০০টির বেশি নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং এর ঊর্ধ্বতন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের শরীরে সংযুক্ত ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি ও পুলিশের কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে নথিবদ্ধ করতে প্রায় ১০০ জন আলোকচিত্রী ও ভিডিওচিত্র ধারণকারীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া দিল্লি পুলিশ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন করতে কমিউনিটি সেন্টার, মসজিদ ও আবাসিক কল্যাণ সমিতির মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেছে। এতে জানানো হচ্ছে, বিক্ষোভ কর্মসূচির কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।

চার কিলোমিটার এলাকায় ২৪ ঘণ্টা মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ

৯ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে ১০ অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত যন্তর মন্তরের জনপথ-কর্তব্য পথ সংযোগস্থল থেকে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর দিল্লি পুলিশের বিশেষ শাখা এ নির্দেশ জারি করেছে। নির্দেশটি সব ধরনের মোবাইল ইন্টারনেট প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এয়ারটেল, জিও, ভিআই ও এমটিএনএল—এসব পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে পরিষেবা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে।