পানামায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, বড় বিপর্যয় ঘোষণা প্রেসিডেন্টের
- প্রকাশের সময় : ১১:১৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / 4
মধ্য আমেরিকার দেশ পানামায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতিকে বড় ধরনের বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো। তবে প্রাথমিকভাবে কোনো এলাকা থেকে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫৬ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত ১টার দিকে কম্পন অনুভূত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী পানামা সিটি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে হেরেরা প্রদেশের পিতালেজো আরিবা এলাকায়। ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১২ দশমিক ৫ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি হওয়ায় কম্পন ছিল বেশ তীব্র। প্রায় এক মিনিট ধরে কম্পন অনুভূত হয়।
প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৮ বলে ধারণা করা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৭ দশমিক ৭ নির্ধারণ করা হয়। দেশটির জাতীয় জরুরি সেবা সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পানামার প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ এই ভূমিকম্পের কম্পন অনুভব করেছেন।
৮০টির বেশি পরাঘাত
মূল ভূমিকম্পের পর পানামায় একাধিক পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। দেশটির ভূবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ৮০টির বেশি পরাঘাত রেকর্ড করেছে। এর মধ্যে একটির মাত্রা ছিল ৬-এর বেশি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমিকম্পের সময় রাজধানী পানামা সিটির বহুতল ভবনগুলো থেকে আতঙ্কিত মানুষ দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসছেন। ২০ তলারও বেশি উঁচু একটি ভবনের ছাদে থাকা সুইমিং পুল থেকে পানি নিচে পড়ে যাওয়ার দৃশ্যও ভিডিওতে দেখা গেছে। অন্য একটি ভিডিওতে পানামা খালের ওপর একটি সেতু তীব্রভাবে কাঁপতে দেখা যায়। তবে যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকলেও সেতুটি অক্ষত ছিল।
ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ৪৬ বছর বয়সী সালোমন অ্যান্ডিয়ন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, কম্পনটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী। এ সময় তাঁর ঘরের আলমারি, বিছানা এবং রান্নাঘরের ভারী জিনিসপত্র কাঁপছিল। পরাঘাতের আশঙ্কায় তাঁকে দ্বিতীয়বারের মতো ১৫ তলা ভবন থেকে বাইরে বেরিয়ে আসতে হয়।
বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিপর্যস্ত
পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো বলেন, ‘আমরা একটি বড় ধরনের দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছি।’ তিনি জানান, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি সড়ক ধসে পড়েছে। এতে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফার্নান্দো বয়েড জানিয়েছেন, হেরেরা, কোকলে ও লস সান্তোস—এই তিন প্রদেশে ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে। সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় লস সান্তোস প্রদেশের টোনোসি শহরটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ফার্নান্দো বয়েড এএফপিকে বলেন, ‘আমরা আকাশপথে সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করছি। কারণ স্থলপথে যাওয়া অসম্ভব।’
কোকলে প্রদেশের পেনোনোমে শহরের একটি দোকানের ক্যাশিয়ার ৩৮ বছর বয়সী জুয়ানা আলভিও বলেন, ভূমিকম্পটি ছিল ভয়াবহ। এমন অভিজ্ঞতা তাঁদের আগে কখনো হয়নি। এ সময় তাঁর মেয়ে বিদ্যালয়ে আটকা পড়েছিল।
সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার, সচল পানামা খাল
ভূমিকম্পের পর পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। ভূমিকম্পের কারণে পানামা খালের জাহাজ চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি বলে জানিয়েছে খাল কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃত্রিম বাণিজ্যিক জলপথ পানামা খাল প্রশান্ত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এই খালের গুরুত্ব অপরিসীম।
ভূমিকম্পের পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পানামা সিটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েকটি ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে প্রতিবেশী কলম্বিয়া, ইকুয়েডর ও গুয়াতেমালা পানামার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে এবং সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।
সূত্র: এএফপি




















