বাজারে নাভিশ্বাস, তেল-চিনি-ডিম-পেঁয়াজ কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা
- প্রকাশের সময় : ১১:৪৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 11
নিত্যপণ্যের বাজারে যেন স্বস্তির দেখা নেই। সয়াবিন তেল ও চিনির সরবরাহসংকট, ডিমের চড়া দাম আর নতুন করে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে তেল ও চিনি। অন্যদিকে ডিম, সবজি, আটা ও ময়দার দামও রয়েছে বাড়তি। সব মিলিয়ে দৈনন্দিন বাজার করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সীমিত আয়ের মানুষ।
নতুন করে পেঁয়াজের দাম কেজিতে প্রায় ৫ টাকা বেড়ে ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। পাশাপাশি সয়াবিন তেল ও চিনির সরবরাহসংকটের কারণে ক্রেতাদের বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। গত দুই থেকে তিন সপ্তাহেও এসব পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য স্বস্তি আসেনি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর রামপুরা, হাজীপাড়া, মালিবাগ ও সেগুনবাগিচার কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তেল-চিনি
বাজারে এক কেজি প্যাকেটজাত চিনির গায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১১০ টাকা লেখা থাকলেও বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়। বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি পর্যায়ে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে খরচ পোষানো যাচ্ছে না। এ কারণে অনেক দোকানি প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি না করে প্যাকেট খুলে খোলা চিনি হিসেবে বিক্রি করছেন।
সয়াবিন তেলের বাজারেও একই চিত্র। এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের নির্ধারিত দাম ২০৪ টাকা হলেও অনেক দোকানে বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়। সরবরাহ কম থাকায় কোথাও কোথাও বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কিছু দোকানে তেল থাকলেও তা সহজে ক্রেতাদের সামনে রাখা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে বাজারে খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ২২০ টাকা এবং পাম তেল ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে সরকার নির্ধারিত বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামের তুলনায় খোলা তেল কিনতে ক্রেতাদের বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
লাভ কম, তেল বিক্রি বন্ধ রাখছেন দোকানিরা
খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, কয়েক সপ্তাহ ধরে দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কোম্পানিগুলো সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমিয়ে রেখেছে। তবে সরবরাহসংকটের পাশাপাশি বিক্রিতে লাভের পরিমাণ কমে যাওয়ায় অনেক খুচরা ব্যবসায়ীও তেল বিক্রিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এতে বাজারে তেলের সংকট আরও বাড়ছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, আগে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি করে ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত লাভ হতো। বর্তমানে তা কমে লিটারপ্রতি মাত্র ১ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
মাহিন জেনারেল স্টোরের রাজিব হোসেন বলেন, পাঁচ লিটার তেলের দাম ১ হাজার ২০ টাকা। এ তেল বিক্রি করে লাভ হয় মাত্র ৫ টাকা। এত টাকা বিনিয়োগ করে অন্য পণ্য বিক্রি করলে কয়েক গুণ বেশি লাভ করা সম্ভব। তার ওপর কোম্পানিগুলোও ঠিকমতো তেল সরবরাহ করছে না। এ কারণে তিনি তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছেন।
শহীদ স্টোরের এক বিক্রেতাও কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর ভাষ্য, এ কারণে তাঁরাও দোকানে তেল রাখা থেকে বিরত থাকছেন।
খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, ২০৪ টাকা দামের এক লিটার তেল বিক্রি করে মাত্র ১ টাকা লাভ হওয়ায় ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। কম লাভের কারণে অনেক বিক্রেতা তেল বিক্রিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
পেঁয়াজের দাম বেড়েছে, ডজন ডিম ১৬০ টাকা
নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন করে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে পেঁয়াজের দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে প্রায় ৫ টাকা বেড়ে ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। রান্নার অন্যতম প্রয়োজনীয় এ পণ্য কিনতেও এখন বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
এদিকে ফার্মের মুরগির ডিমের দামেও স্বস্তি নেই। বিভিন্ন বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। পাড়া-মহল্লার দোকানে চারটি ডিম কিনতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৫৫ টাকা। সে হিসাবে প্রতি ডজন ডিমের দাম দাঁড়াচ্ছে ১৬৫ টাকা।
স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর জন্য ডিম তুলনামূলক সাশ্রয়ী প্রাণিজ আমিষের উৎস। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়তি দামের কারণে তাঁদের খাদ্যব্যয় বেড়েছে। ফলে দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার রাখাও অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে।
সবজি, আটা-ময়দার দামেও স্বস্তি নেই
বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। তবে সবজির বাজারে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। কয়েকটি সবজির দাম আগের তুলনায় কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমলেও সামগ্রিকভাবে সবজির দাম রয়েছে চড়া।
আটা ও ময়দার দামও আগের মতো বেশি। বর্তমানে প্রতি কেজি আটা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। আর কোম্পানিভেদে প্রতি কেজি ময়দার দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকার বেশি। দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে এসব পণ্যের দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কম ছিল।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে একের পর এক বাড়তি দামে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ। আয় না বাড়লেও প্রতিদিনের খাবার ও সংসারের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে ব্যয় বাড়ছে তাঁদের। তেল, চিনি, ডিম, পেঁয়াজ থেকে শুরু করে আটা-ময়দা—কোনো পণ্যেই উল্লেখযোগ্য স্বস্তি না থাকায় বাজারের বাড়তি খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা।





















