Dhaka ০২:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
চট্টগ্রামে দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক চালু নওগাঁর রানীনগরে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৬ রাবিতে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় ৪ জনের ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ নওগাঁর জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজে চালু হচ্ছে অনার্সের ৯টি বিষয় সোনার দাম ভরিতে বাড়ল ২ হাজার ২১৬ টাকা বাজারে নাভিশ্বাস, তেল-চিনি-ডিম-পেঁয়াজ কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা রিয়াদের আকাশে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস, ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল ও চিকিৎসাকেন্দ্র ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ মানে বাংলাদেশকে প্রস্তুত করা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কালীগঞ্জে কোলা ইউনিয়ন বিএনপির মানবিক উদ্যোগ রূপপুর প্রকল্পে প্রথম পারমাণবিক বিক্রিয়ার অনুমতি

‘আমি কোথায়? আপনি কে?’ দুই দফা মৃত্যুদণ্ডের পর জ্ঞান ফিরে ক্রিস্টার প্রশ্ন

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:২৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 28

দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইকের। কয়েক দিন অচেতন থাকার পর হাসপাতালে জ্ঞান ফিরে প্রথমেই তিনি জানতে চান, ‘আমি কোথায়?’ এরপর তাঁর প্রশ্ন, ‘আপনি কে?’

আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, জ্ঞান ফেরার পর ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইক ছিলেন রাগান্বিত ও বিভ্রান্ত। গত ৩০ সেপ্টেম্বর টেনেসিতে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। দুবার পেন্টোবারবিটাল প্রয়োগের পরও তাঁর মৃত্যু না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েক দিন অচেতন ছিলেন পাইক। তাঁর আইনজীবী র‍্যান্ডি স্পাইভি জানান, কয়েক দিন ধরে চিকিৎসকদের ধারণা ছিল পাইক মস্তিষ্কের দিক থেকে মৃত এবং যেকোনো সময় তাঁকে কৃত্রিম জীবনধারণ ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। তবে মঙ্গলবার সবার বিস্ময়ের মধ্যে তিনি কথা বলতে শুরু করেন।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টা সম্পর্কে পাইকের স্মৃতি সীমিত বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। স্পাইভির ভাষ্য, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় পাইক নিজেই কর্মকর্তাদের তাঁর হাতে শিরা খুঁজে পেতে সহযোগিতা করেছিলেন এবং ইনজেকশন দেওয়ার সময় শান্ত ছিলেন।

পরে জ্ঞান ফেরার পর তিনি গলায় নল এবং আশপাশে অপরিচিত মানুষ দেখতে পান। বর্তমানে তাঁর দুই হাত ফুলে গেছে। এক হাতে রক্ত জমাট বেঁধেছে। তাঁর নিউমোনিয়াও হয়েছে এবং খাবার গিলতে সমস্যা হচ্ছে।

আইনজীবীরা বলছেন, প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন।

এদিকে ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে ইনজেকশন দেওয়ার নল, সিরিঞ্জ, ওষুধের প্যাকেট, নির্দেশনাপত্র ও লেবেলসহ ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী রয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে, চলাকালীন ও পরে পাইকের মানসিক অবস্থার নথিও সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাইকের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে তাঁর হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে এবং আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগেও নানা বাধা তৈরি হয়েছে। তাঁরা পাইককে ফোন ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতাল থেকে অন্য কোথাও স্থানান্তরের অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে আইনজীবীদের জানানোর আবেদন করেছেন।

১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপের সঙ্গে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যা করেন পাইক। ওই হত্যাকাণ্ডের দায়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। শিপের বয়স তখন ১৭ বছর হওয়ায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি। তিনি এখনো কারাগারে রয়েছেন।

ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর টেনেসির গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য অঙ্গরাজ্যে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে কেন এই ব্যর্থতা ঘটেছে, তার ব্যাখ্যাও চেয়েছেন তিনি।

সূত্র: বিবিসি

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

‘আমি কোথায়? আপনি কে?’ দুই দফা মৃত্যুদণ্ডের পর জ্ঞান ফিরে ক্রিস্টার প্রশ্ন

প্রকাশের সময় : ১১:২৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইকের। কয়েক দিন অচেতন থাকার পর হাসপাতালে জ্ঞান ফিরে প্রথমেই তিনি জানতে চান, ‘আমি কোথায়?’ এরপর তাঁর প্রশ্ন, ‘আপনি কে?’

আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, জ্ঞান ফেরার পর ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইক ছিলেন রাগান্বিত ও বিভ্রান্ত। গত ৩০ সেপ্টেম্বর টেনেসিতে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। দুবার পেন্টোবারবিটাল প্রয়োগের পরও তাঁর মৃত্যু না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েক দিন অচেতন ছিলেন পাইক। তাঁর আইনজীবী র‍্যান্ডি স্পাইভি জানান, কয়েক দিন ধরে চিকিৎসকদের ধারণা ছিল পাইক মস্তিষ্কের দিক থেকে মৃত এবং যেকোনো সময় তাঁকে কৃত্রিম জীবনধারণ ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। তবে মঙ্গলবার সবার বিস্ময়ের মধ্যে তিনি কথা বলতে শুরু করেন।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টা সম্পর্কে পাইকের স্মৃতি সীমিত বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। স্পাইভির ভাষ্য, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় পাইক নিজেই কর্মকর্তাদের তাঁর হাতে শিরা খুঁজে পেতে সহযোগিতা করেছিলেন এবং ইনজেকশন দেওয়ার সময় শান্ত ছিলেন।

পরে জ্ঞান ফেরার পর তিনি গলায় নল এবং আশপাশে অপরিচিত মানুষ দেখতে পান। বর্তমানে তাঁর দুই হাত ফুলে গেছে। এক হাতে রক্ত জমাট বেঁধেছে। তাঁর নিউমোনিয়াও হয়েছে এবং খাবার গিলতে সমস্যা হচ্ছে।

আইনজীবীরা বলছেন, প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন।

এদিকে ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে ইনজেকশন দেওয়ার নল, সিরিঞ্জ, ওষুধের প্যাকেট, নির্দেশনাপত্র ও লেবেলসহ ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী রয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে, চলাকালীন ও পরে পাইকের মানসিক অবস্থার নথিও সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাইকের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে তাঁর হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে এবং আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগেও নানা বাধা তৈরি হয়েছে। তাঁরা পাইককে ফোন ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতাল থেকে অন্য কোথাও স্থানান্তরের অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে আইনজীবীদের জানানোর আবেদন করেছেন।

১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপের সঙ্গে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যা করেন পাইক। ওই হত্যাকাণ্ডের দায়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। শিপের বয়স তখন ১৭ বছর হওয়ায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি। তিনি এখনো কারাগারে রয়েছেন।

ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর টেনেসির গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য অঙ্গরাজ্যে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে কেন এই ব্যর্থতা ঘটেছে, তার ব্যাখ্যাও চেয়েছেন তিনি।

সূত্র: বিবিসি