Dhaka ০১:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বদলগাছীতে মাদক কারবারি আটকের পর এএসআই মোমিনকে ফাঁসানোর অভিযোগ

খোরশেদ আলম নওগাঁ
  • প্রকাশের সময় : ১১:১৭:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 11

নওগাঁর বদলগাছীতে মাদকবিরোধী অভিযানে দুই ব্যক্তিকে আটকের পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এএসআই মো. আব্দুল মোমিনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও দাবির অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, সাজানো ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন এএসআই মোমিন। এদিকে নথিপত্র যাচাই করে আটক সঞ্জয় সরকারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ বিভিন্ন ধারায় একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নের জগপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে সঞ্জয় সরকার ও বিকাশ মণ্ডলকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

এর পর সঞ্জয়ের স্ত্রী শ্রীমতি স্মৃতি অভিযোগ করেন, অভিযানের সময় এএসআই মো. আব্দুল মোমিন তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেন এবং আরও ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও ফোনালাপও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ওই ফোনালাপের অপর প্রান্তের ব্যক্তি এএসআই মোমিন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগ অস্বীকার করে এএসআই আব্দুল মোমিন বলেন, ‘অভিযান বানচাল এবং মাদক ব্যবসায়ীকে রক্ষা করতে না পেরে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় ও ফাঁসানোর জন্য এই সাজানো নাটক তৈরি করা হয়েছে। কোনো আর্থিক লেনদেন বা ঘুষ দাবির ঘটনা ঘটেনি।’

থানা ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স/ক্রিমিনাল রেকর্ড (পিসিপিআর) সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করে দেখা যায়, সঞ্জয় সরকার (পিতা: মৃত বিমল সরকার, গ্রাম: জগপাড়া) এর বিরুদ্ধে বদলগাছী থানায় ২০০৬, ২০০৯, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫, ২০১৯ ও ২০২২ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ বিভিন্ন ধারায় একাধিক নিয়মিত মামলা ও অভিযোগপত্র রয়েছে।

নওগাঁ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ঘুষের কোনো অভিযোগের বিষয়ে আমাদের দাপ্তরিকভাবে জানানো হয়নি। অভিযানে মাদক সেবন ও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় অভিযুক্তদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। এএসআই আব্দুল মোমেন সম্পর্কে যতটুকু জানি, তিনি একজন সৎ অফিসার। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করায় মাদক কারবারিরা বদনাম ছড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি।’

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দল দুজনকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আটক করে নিয়ে এলে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের সাজা দেওয়া হয়। তবে অভিযানে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা ঘুষের বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।’

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বদলগাছীতে মাদক কারবারি আটকের পর এএসআই মোমিনকে ফাঁসানোর অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ১১:১৭:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

নওগাঁর বদলগাছীতে মাদকবিরোধী অভিযানে দুই ব্যক্তিকে আটকের পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এএসআই মো. আব্দুল মোমিনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও দাবির অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, সাজানো ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন এএসআই মোমিন। এদিকে নথিপত্র যাচাই করে আটক সঞ্জয় সরকারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ বিভিন্ন ধারায় একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নের জগপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে সঞ্জয় সরকার ও বিকাশ মণ্ডলকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

এর পর সঞ্জয়ের স্ত্রী শ্রীমতি স্মৃতি অভিযোগ করেন, অভিযানের সময় এএসআই মো. আব্দুল মোমিন তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেন এবং আরও ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও ফোনালাপও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ওই ফোনালাপের অপর প্রান্তের ব্যক্তি এএসআই মোমিন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগ অস্বীকার করে এএসআই আব্দুল মোমিন বলেন, ‘অভিযান বানচাল এবং মাদক ব্যবসায়ীকে রক্ষা করতে না পেরে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় ও ফাঁসানোর জন্য এই সাজানো নাটক তৈরি করা হয়েছে। কোনো আর্থিক লেনদেন বা ঘুষ দাবির ঘটনা ঘটেনি।’

থানা ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স/ক্রিমিনাল রেকর্ড (পিসিপিআর) সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করে দেখা যায়, সঞ্জয় সরকার (পিতা: মৃত বিমল সরকার, গ্রাম: জগপাড়া) এর বিরুদ্ধে বদলগাছী থানায় ২০০৬, ২০০৯, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫, ২০১৯ ও ২০২২ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ বিভিন্ন ধারায় একাধিক নিয়মিত মামলা ও অভিযোগপত্র রয়েছে।

নওগাঁ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ঘুষের কোনো অভিযোগের বিষয়ে আমাদের দাপ্তরিকভাবে জানানো হয়নি। অভিযানে মাদক সেবন ও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় অভিযুক্তদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। এএসআই আব্দুল মোমেন সম্পর্কে যতটুকু জানি, তিনি একজন সৎ অফিসার। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করায় মাদক কারবারিরা বদনাম ছড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি।’

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দল দুজনকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আটক করে নিয়ে এলে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের সাজা দেওয়া হয়। তবে অভিযানে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা ঘুষের বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।’