পর্তুগালে জনসমক্ষে মুখঢাকা নিষিদ্ধ
- প্রকাশের সময় : ১০:৪৮:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 7
জনসমক্ষে মুখ ঢেকে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে পর্তুগাল। নতুন আইনে স্বাস্থ্য, পেশা, শিল্পকর্ম বা আবহাওয়াজনিত কারণ ছাড়া জনসমক্ষে এমনভাবে মুখ ঢেকে রাখা যাবে না, যাতে ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়। আইন ভাঙলে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো জরিমানা হতে পারে।
বুধবার থেকে আইনটি কার্যকর হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে আইনটিকে ‘বোরকা আইন’ বলা হচ্ছে। কারণ, এর আওতায় বোরকা ও নিকাবের মতো পুরো মুখ ঢেকে রাখা পোশাকও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে।
নতুন আইন অনুযায়ী, জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থান, সড়ক, সরকারি সেবা প্রদানের স্থানসহ বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে মুখ ঢেকে রাখা নিষিদ্ধ। তবে উড়োজাহাজ, কূটনৈতিক ও কনস্যুলার স্থাপনা, উপাসনালয় ও অন্যান্য ধর্মীয় পবিত্র স্থান এর আওতামুক্ত থাকবে। স্বাস্থ্য, পেশাগত কাজ, শিল্পচর্চা, বিজ্ঞাপন, নিরাপত্তা ও আবহাওয়াজনিত কারণেও মুখ ঢাকার অনুমতি রয়েছে।
অন্য কাউকে মুখ ঢাকতে বাধ্য করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। লিঙ্গ, ধর্ম, বয়স বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে কাউকে মুখ ঢাকতে বাধ্য করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। ভুক্তভোগী অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে শাস্তি আরও এক-তৃতীয়াংশ বাড়তে পারে।
আইনটি প্রস্তাব করেছিল ডানপন্থী রাজনৈতিক দল চেগা। গত জুলাইয়ে পার্লামেন্টে এটি অনুমোদিত হওয়ার পর আগস্টে প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও হোসে সেগুরো আইনে স্বাক্ষর করেন।
আইনটির সমর্থকদের ভাষ্য, মানুষের পরিচয় ও সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে মুখ দৃশ্যমান থাকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে সমাজতান্ত্রিক দল, লিভরে ও কমিউনিস্ট পার্টিসহ বামপন্থী দলগুলো এর বিরোধিতা করেছে। তাদের অভিযোগ, আইনটি মুসলিম নারীদের লক্ষ্য করে তৈরি এবং এটি ইসলামবিদ্বেষ বাড়াতে পারে।
পর্তুগালের আগে ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও অস্ট্রিয়াসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ জনসমক্ষে পুরো মুখ ঢেকে রাখার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
সূত্র: সিনহুয়া, ইউরোনিউজ






















